মেইন ম্যেনু

আপনি কি জানেন? বাংলাদেশের কোন গ্রামে টেলিভিশন দেখা নিষেধ ?

শরীয়তপুর: মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘টেলিভিশনের’ গল্পটাই বাস্তবে। হ্যাঁ, ঠিক একই রকমভাবে শরীয়তপুরের সদর উপজেলার বড়াইল গ্রামে টেলিভিশন দেখা নিষিদ্ধ। গত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশন দেখতে পারছেন না এ গ্রামের বাসিন্দারা। ইচ্ছে থাকলেও রোষানলে পড়ার ভয়ে অলিখিত এ ফরমান মানতে বাধ্য করা হচ্ছে গ্রামবাসী।

ধর্ম লংঘনের অযুহাত তুলে টেলিভিশন দেখা নিষিদ্ধ করা হয়। যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে, টেলিভিশন দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে না-যায়েজ। অলিখিত এ ফরমান জারি করেন স্থানীয় নূরানী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল হাই মুন্সী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার বড়াইল গ্রামে ১৬ বছর আগে থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত মোবাইল-ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রের ব্যবহারও আছে এ গ্রামে। নেই শুধু টেলিভিশনের ব্যবহার। কেননা এ গ্রামে টেলিভিশন দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এলাকাবাসী জানান, বড়াইল গ্রামের উন্নয়ণে আবদুল হাই মুন্সীর অনেক অবদান রয়েছে। তিনি জীবিত থাকতে এ গ্রামে কেউ টেলিভিশন চালাতে পারবে না। এছাড়া বড়াইল গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো পুরুষ শিক্ষকও চাকরি করতে পারেন না। যদি কোনো পুরুষ শিক্ষক বিদ্যালয়ে চাকরি করতে চান তাহলে তাকে মসজিদ ও মাদরাসা কমিটি থেকে বাধা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে আবদুল হাই মুন্সী বলেন, ‘আমার গ্রামে কোনো টেলিভিশন চলবে না। টিভি দেখা না জায়েজ। তাই এলাকাবাসী আমার কথা শুনে টিভি দেখা বন্ধ রেখেছেন।’

শরীয়তপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ‘টেলিভিশনে ৯০ শতাংশ অনুষ্ঠান দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে না জায়েজ। কিন্তু ১০ শতাংশ দেখা জায়েজ। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব ধরনের অশ্লীল সিনেমা দেখা যায়। আর সেই ফোন যদি পকেটে রেখে নামাজ পড়তে পারে, তাহলে টেলিভিশন ঘরে রাখতে সমস্যা কোথায় ?’ ছবি প্রতীকী






মন্তব্য চালু নেই