মেইন ম্যেনু

তসলিমাকে অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

আপনি কি দ্বিচারী হয়ে গেলেন, তসলিমা?

ক্রিকেটে পাকিস্তানকে সমর্থন ধর্ষককে সমর্থন দেয়ার সমতূল্য- নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের এই ফেসবুক স্ট্যাটাসের জবাবে তাকে দ্বিচারী বলে অভিহিত করেছেন কলকাতার ‘আনন্দবাজার পত্রিকা ডিজিটাল’- এর সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিন তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাস দেন।

এতে তিনি লেখেন, ভালো খেলার জন্য হাততালি দাও ঠিক আছে। আমি তো ভালো খেললে, সে যে দলই খেলুক, সাপোর্ট করি। বাংলাদেশের স্টেডিয়ামে এখন যে ভারত-পাকিস্তানের খেলায় পাকিস্তানের সমর্থনে বাংলাদেশি দর্শকরা আনন্দে চিৎকার করছে, কেন করছে? পাকিস্তান ভালো খেলছে বলে? নাকি ভালো খেলুক বা না খেলুক, দলটি পাকিস্তান বলে?

তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসতসলিমা বলেন, দলটি পাকিস্তান বলে যারা সমর্থন করছে, আমার খুব জানতে ইচ্ছে, তারা কি একাত্তরের মিত্র-দেশকে না করে জেনে বুঝে শত্রু-দেশকে সমর্থন করছে? খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানোর কোনও ইচ্ছে আমার নেই। কিন্তু দেশকে সমর্থন করতে গেলে প্রশ্ন ওঠে দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঠিক কী রকম। নতুন প্রজন্ম না হয় একাত্তরের যুদ্ধ দেখেনি, কিন্তু শুনেছে বা পড়েছে তো যুদ্ধ সম্পর্কে। এখনও তো অর্ধ শতাব্দিও পার হয়নি তিরিশ লক্ষ মানুষকে খুন করে গেছে ওরা, দু’ লক্ষ মেয়েকে ধর্ষণ করে গেছে।

তিনি বলেন, জানি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বা ক্রিকেটাররা খুন বা ধর্ষণ করেনি, করেছে পাকিস্তানি সেনার দল। কিন্তু সাধারণ মানুষ বা ক্রিকেটাররা কি একাত্তরে তাদের দেশের ভূমিকার জন্য লজ্জিত, দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী? মনে হয় না।

তসলিমা নাসরিন বলেন, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, পাকিস্তানকে সমর্থন করতে গেলে, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলতে গেলে, বা পাকিস্তানের পতাকা ওড়াতে গেলে বাংলাদেশের মানুষদের একটুও কি বুক কাঁপে না, কণ্ঠ কাঁপে না, হাত কাঁপে না?

এরপরই তিনি বলেন, ‘আনন্দ ধ্বনি শুনে আমার মনে হচ্ছিল এক ধর্ষিতা নারী আনন্দ ধ্বনি করছে তার ধর্ষকের সমর্থনে।’

আর তসলিমা নাসরিনের এই পাকিস্তান বিদ্বেষ নিয়ে কলম ধরেছেন স্বয়ং এক ভারতীয়। তার ওই স্ট্যাটাসের জবাবে অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আনন্দবাজার পত্রিকা ডিজিটাল’ এ ‘সম্পাদকের কলম’ বিভাগে ‘আপনিও দ্বিচারী’ শিরোনামে একটি লেখা লেখেন।

এতে তিনি তসলিমার আগের ও বর্তমান অবস্থানের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।

অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, আমরা কি সবাই আসলে দ্বিচারী? আমরা বলি এক, ভাবি আর এক, করি আরও এক অন্য কিছু? না হলে তসলিমা নাসরিনের মুখে এ কথা বেরিয়ে এল কী ভাবে?

আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মন্তব্য। ভারতীয় হিসাবে বেশ সমর্থনযোগ্যও। বাংলাদেশের মাটিতে বসে কিছু বাংলাদেশি কেন পাকিস্তানের দলকে সমর্থন করবেন, সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তসলিমা।

কোন তসলিমা? ইনি কি সেই তসলিমা নাসরিন, অসহিষ্ণুতার শিকার হয়ে যাঁকে সারাটা জীবন দেশান্তরী হয়ে থাকতে হল!

আমার কিছু জিনিস পছন্দ, আমার কিছু জিনিস পছন্দ নয়, এ আমার একান্ত নিজস্ব অভিমত। তুমি ধর্ম, তুমি যাজক, তুমি রাষ্ট্র, তুমি ব্যক্তি, তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারো না, তসলিমা নাসরিন, আপনার মুখে এই কথাটাই শুনেছিলাম না যেন!

আবেগে সওয়ার হয়ে, আবেগের ফানুসে উড়ে আপনি মন্তব্য করে দিলেন, কিছু বাংলাদেশি পাকিস্তানকে সমর্থন করছে, আর সেই আনন্দধ্বনি শুনে আপনার মনে হচ্ছিল, এক ধর্ষিতা নারী আনন্দধ্বনি করছে তার ধর্ষকদের সমর্থনে!

আপনার মনে হল না, সমর্থন অথবা বিরোধিতা এ একেবারেই ব্যক্তির নিজস্ব অভিমত, নিজস্ব অধিকারের আওতায় পড়ে! আপনি কে, তসলিমা নাসরিন, এ ব্যাপারে উপদেশ দেওয়ার!

বিরাট কোহলির সমর্থক ভারতকে সমর্থন করায় পাকিস্তানের জেলে যখন পচছিলেন, আমরা সবাই আর্তনাদ করেছিলাম ব্যক্তির অধিকার খর্ব হতে দেখে। আপনি কি তাতে সামিল হয়েছিলেন, তসলিমা? যদি হয়ে থাকেন তা হলে পাকিস্তানকে সমর্থনকারী ওই বাংলাদেশিকে ‘দণ্ডাজ্ঞা’ দেন কী ভাবে?

এরপরই অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আপনি কি দ্বিচারী হয়ে গেলেন, তসলিমা নাসরিন?’ দিয়ে তার লেখা শেষ করেন।






মন্তব্য চালু নেই