মেইন ম্যেনু

আপু হোটেলে থাকার কথা বলতেই সে রাজী হয়ে যাই, অতঃপর…. ..

আপু/ভাইয়া আসসালামু আলাইকুম । কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহ মেহেরবানীতে ভাল আছেন।আমি আপনাদের লেখা নিয়মিত পাঠ করি বা যখনই কেউ তার ব্যাক্তি জীবনের সমস্যা তুলে দরে আমি তা পাঠ করে নিজের অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করি। আসল কথায় আসা যাক, আপু/ভাইয়া, আমি একজন মধ্যবিত্ত ও ধার্মিক পরিবারের ছেলে। আমি ছোট বেলা থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। আর অতি সহজে কারো সাথে মিশতে চাইতাম না বা চাইলে ও পাড়তাম না মনে বাধা দিত। যার কারনে স্কুল লাইফ থেকেই আমার বন্ধুরা আমাকে একঘুয়ে মনে করত। কিন্তু এখন আমি সে অভ্যাস অনেকটা বদলে ফেলেছি যখন আমি তিন চিল্লা চার মাস সময় তাবলিগ জামাতে সময় লাগাই। এখন অপরিচিত কাউকে দেখলে খুব সহজেই সালাম দিয়ে হাসিমুখে কথা বলতে পারি আর পরিচত হলে তো কোন সমস্যাই নাই। আপু/ভাইয়া, আমি আবুল (ছদ্দ নাম)আমি একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, আমার বাড়ি সিলেট জেলায়। আমার জীবনে অনেক দূর্ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে যেটা আসলে শতকে একজনের জীবনে ঘটে কী না আমার জানা নাই। আমার জীবনে ঘটনার সুত্রপাত আমার ছোট বোনের অকাল মৃত্যু থেকে। যখন আমি ক্লাস টেনে পড়ি তখন আমার আদরের ছোট বোন হঠাৎ আত্বহত্যা করে। আমি তখন মানসিক দিক থেকে খুবই বিপর্যস্ত ছিলাম তখন আমার স্কুলের আমার পাশের গ্রামের একটা মেয়ে(তাহমিনা আক্তার রুপিয়া) ক্লাস এইটে পড়ত।

সে আমার পুরাতন বই নোট নিত এবং প্রায়ই আমাদের বাড়ি আসত। আমার বোন মরার পর সে আরও বেশি আসা যাওয়া করত। আমার পরিবার তখন কিছু বলত না বরং খুবই আদর করত ওকে এবং মাঝেমধ্যে ও আমাদের বাড়ি থেকে যেত। আর আমি তখন থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতাম। সে আমার মোবাইল নাম্বার একদিন নিয়ে গেল এবং তখন থেকে প্রায়ই আমাকে ফোন করত এবং আমার খুজ-খবর নিত। এরই মধ্যে আমি এস.এস.সি পাশ করে সিলেট শহরে চলে আসি আর তখন ঐ মেয়ে একদিন ঢেকে নিয়ে যায় তার বাড়িতে এবং বলে আমি তোমাকে ভালবাসি (অবশ্য আমি ও মনে মনে ওকে লাইক করতাম কিন্তু কখনো বলিনি)। আর এখন তুমি আমাকে ছেড়ে সিলেট চলে যাছ্চ কেন?

সিলেট গেলে তুমি আমাকে ভলে যাবে আরো কত কিছু। আমি কিছূক্ষণ চুপ করে রইলাম কিছু বলতে পারলাম না। হঠাৎ বলে উঠলাম না এটা তোমার ভুল ধারণা আমি যদি তোমাকে ভালবেসে থাকি তবে তুমারই থাকব, এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। আর তখন থেকে আমার কলেজ লাইফ পর্যন্ত আমরা একে অপরকে খুবই ভালবাসতাম, বিশ্বাস করতাম। আমাদের ভালবাসা কলেজ জীবন পর্যন্ত খুবই ভাল ছিল। কিন্তু যখন আমি লেখাপড়া শেষ করে চাকুরি জীবনে এলাম তখন আমাদের মাঝে অবিশ্বাস বাধা বাধতে থাকে। আমার চাকরির খাতিরে আমি অনেক দিন ঢাকা উত্তরা, লাল মাটিয়া, কুমিল্লা, সিলেট বিয়ানীবাজার, কুলাউড়া সহ সিলেট শহরের বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন ফার্মে ও আমি জব করি। তখন আমি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেই এবং বলি যে, এখন তো আমি চাকুরি করতেছি বিয়ে করে ফেলি, আমাদের পরিবার যদি না মানে বা তোমার পরিবার যদি তোমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়, কিন্তু সে রাজি হয় না । পরে আমার এক বন্ধুর সাথে বিষয়টি শেয়ার করি ।

সে আমাকে শারীরিক সম্পর্কের কথা বলে যে, তখন তুই নিজেই বুঝতে পারবে আসলে সে কি চায়? নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্বেও আমি তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করি। আর তার বিষয়ে নিয়মিত খুঁজ খবর নিতে থাকি। পরে জানতে পারি তার আরো দুইটা ছেলের (তার নিকট আত্বীয়) সাথে তার শারীরিক সম্পর্ক আছে। আর এদের সাথে থাকতে না পারলে সে আমাকে ফোন করত বা তার কাছে যেতে চাপ দিত। বিষয়টা আমি আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করছি, যখন আমি তাকে আমার সাথে হোটেলে থাকার কথা বলি, তখন বলা মাত্রই সে রাজি হয়ে যায়। আপু/ভাইয়া, তখন থেকে আমি তাকে এড়িয়ে চলতে লাগলাম এবং এক সময় বিদেশ যেতে ফ্যামিলিকে চাপ দেই, চেষ্টা ও করা হয় কিন্তু কিছু হয় নাই। দিন যত যেতে থাকে আমার মন আগের মত আবার খারাপ হতে লাগল, আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এমন কি নিজেকে ও আর মনে হচ্ছিল আমি জীবনে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। তখনি আমি তাবলিগ জামাতে একেবারে তিন চিল্লার জন্য(চার মাস) বের হয়ে যাই কাউকে কিছু না বলেই এমনকি বাড়িতে ও জানাই নাই। চিল্লা থেকে এসে যা দেখলাম তাতে আমার মনে হয়েছিল আমার এখন যদি মরণ হত, মনে হয় অনেক ভাল হত। ঐ মেয়ে আমার নামে লোকাল পত্রিকায় প্রেম প্রতারণার এক লম্বা কাহিনী সাজায় সাথে আমার সাইন নকল করে স্ট্যাম্প তৈরী করে যে আমি নাকি তার কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা ও নিয়েছি সাথে দু জন সাক্ষী ও তৈরী করে নেয়, অথচ সে প্রায়ই আমার কাছ থেকে টাকা পয়সা ধার নিত(১০০০/৫০০/কখনো ২০০০/৩০০০ টাকা) এবং পরে এগুলো আমি আর খুজতাম না।

এর ফলে আমি এবং আমার গোটা পরিবার হতবাক হয়ে যায় এবং সবাই আমাকে অনেক গালিগালাজ করে। তখন তাকে আমার পরিবার জিজ্ঞাস করে যে, তুমি আসলে কি চাও? সে বলে যে আমার টাকা চাই। তখন আমার পরিবার মানবাধিকার কমিশন, সিলেট বিভাগিয় শাখায় বিষটি আপোস করে এবং তাকে নগদ ৪,০০০ টাকা প্রদান করে, আর বলে দেওয়া হয় যে আমার দু-জন যেন পৃথক থাকি, একে অপরের সাথে আর মিশার চেষ্টা না করি। আপু/ভাইয়া, ঐ ঘটনার ৭/৮ মাস পর আমার পরিবার আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তখন পরিবারের চাপে মেয়ে দেখতে বলি, কিন্তু তাদের পছন্দ অনুযায়ী আমার পছন্দ হয় নাই, মুলত আমার ইচ্ছা ছিল আমার সব কিছু বলে কাউকে বিয়ে করব।

তাই আমি আমার কলেজ লাইফের এক ছাত্রীকে বিষযটা শেয়ার করি এবং বলি যে, আমার সব কিছু মেনে নিয়ে কেউ যদি আমাকে বিয়ে করে তবেই আমি বিয়ে করবো নয়তো নয়।ঐ মেয়ে আগে থেকেই আমাকে খুব ভাল জানত, তাই এভাবে ৬/৭ মাস আলাপে সে নিজেই রাজি হয় আমাকে বিয়ে করতে। পরে পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হয়। আমি যে দিন বিয়ে করি ঠিক সে দিন তারিখে রুফিয়া মানে আগের মেয়ে আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভুয়া দর্শন মামলা দায়ের করে, বিষটি আমি কিন্তু তখন টের পাই নাই। বিয়ের পর আমি যথারীতি আমার কর্মস্থলে চলে আসি তার কদিন পর হঠাৎ আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসে এবং আমার নামে মামলা হয়েছে বলে বাড়িতে আমার খুঁজ করে। আমার পরিবার তাংক্ষনিকভাবে বিষয়টা আমাকে এং এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বাার কে জানায়। পরে ঐ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য মেডিকেল চেক আপ করান, এতে দর্শন দূরে থাকুক একটা আঘাতের চিহ্ন পযন্ত পায়নি।

পরে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হয় মামলাটি ভুয়া বলে প্রমানিত হয়।কিন্তু ঐ মেয়ে খুবই দুর্দান্ত মিথ্যুক নারাজী আবেদন করে র্পু তা গ্রহন করে। আর পরবর্তী নঃ তদন্তের আবেদন করে কোট তদন্ত কর্মকর্তা কোন তদন্ত ছাড়া ঐ মেয়ের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়া আমাকে দর্শন মামলার আসামী না করে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করে আমি তাকে হেরাস্ করেছি আর যার জন্য নাকি ১০ ধারায় অপরাধ পতিয়মান হয় । আপু/ভাইয়া, এখন ঐ মেয়ে এভাবে একের পর এক মিথ্যা অজুহাতে আমার জীবনটা নষ্ট করে দিচ্ছে।আমার বিবাহের প্রায় এক বছর ৭ মাস হল, আর আমার স্ত্রী এসব কিছু জানে কিন্তু আমার শশুর বাড়ীর কোন লোকজন বিষয়টা জানে না(স্ত্রী ব্যতিত)। আমি প্রতিটা মুহুর্ত এখন নিজেকে খুবই অপমানিত মনে করছি আর ভাবিছি আত্যহত্যা করব না এদেশ ছেড়ে চলে যাব কিছুই বুঝতে পারছি না। আপু/ভাইয়া ,প্লিজ আমার লেখাটা যদিও অনেক লম্বাা তর্বু ও বলছি পড়ে আমাকে একটা পথ বলে দেন। আমাকে একটা পরামশ দেন আমার কি করা উচিত? না হলে আমার আত্যহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না! আমি কোন দিন বুঝেশুনে কারো ক্ষতি করিনি, তাই নিজেকে এভাবে পরাজিত হওয়াটা মেনে নিতে পারব না। প্লিজ আমার লেখাট পড়ে আমাকে একটা পরামর্শ দিবেন। আর আমার পরিচয়টা কাউকে বলবেন না।

পরামর্শঃ
আপনার লেখা পড়ে যেটা বুঝলাম সেটা হলো আপনি একটা ফাঁদে পড়েছেন, এই মেয়েটি আপনাকে তার নিজের স্বার্থে শুধুই ব্যাবহার করেছেন। সিলেট মানবাধিকার শাখায় পুর্বের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবার পরে নতুন করে এই ঝামেলা গুলোর কথা কি জানিয়েছেন? আপনি অতিদ্রুত একজন ভালো আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন, ঘাবড়াবেন ন! আপনার কাছে যেহেতু যথেষ্ট প্রমাণ আছে এবং যেহেতু আপনি অপরাধী নন সেহেতু আপনি উল্টো মামলা করতে পারবেন, বিষয়টি একটু সময়সাপেক্ষ হলেও একেবারেই নিষ্পত্তি করে ফেলুন। বি:দ্র: আমরা শুধুমাত্র মানুষিক শক্তির জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। আইনগত সহযোগীতার জন্য অবশ্যই বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আদালত আছে। সমস্যা অতি গুরুতর হলে সেখানে গেলে আপনি অবশ্যই আইনি সহায়তা পাবেন. এই লেখাটি ভূক্তভোগী শুধু মাত্র ভিন্ন.কম এ পাঠিয়েছেন, এই লিখাটি কেউ অন্য কোথাও প্রকাশ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই