মেইন ম্যেনু

আফগান তালিবান অর্থ পায় কোথা থেকে?

ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, মাদক পাচার, বিদেশ থেকে অনুদান – আফগানিস্তানের তালিবান গোষ্ঠী গত প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে তাদের বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে নানা উৎসের উপর নির্ভর করে৷ যা বন্ধ করা খুবই শক্ত৷

গত মাসে পাকিস্তানের কোয়েটা শহরের কাছে একটি গোপন বৈঠকে অংশ নিয়ে তালিবান নেতৃত্ব আফগানিস্তানের টেলিকম কোম্পানিগুলির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের একটি নতুন ‘‘সুরক্ষা কর” দাবি করে বসে৷ বিনিময়ে কোম্পানিগুলির বিভিন্ন কার্যালয় ও কলকারখানা অথবা তাদের কর্মীদের আক্রমণ করা হবে না, এই ছিল তাদের গ্যারান্টি৷ দিনকাল ভালো যাচ্ছে না, তাই তালিবানের দৃশ্যত নজর পড়েছে আফগানিস্তানের একমাত্র লাভজনক শিল্পটির দিকে, যার নাম টেলিকম৷ টেলিকম কোম্পানিগুলির কাছ থেকে আগেও তোলা নিয়েছে তালিবানরা৷ এবার কিন্তু তারা টেলিকম সেক্টরের কাছ থেকে সরাসরি টেন পার্সেন্ট (১০ শতাংশ) চাইছে৷ যা তারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সব ব্যবসায়ের কাছ থেকে নিয়ে থাকে, এমনটাই সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন ক্ষমতাচ্যুত তালিবান সরকারের এক প্রাক্তন কর্মচারী৷এছাড়াও নানাভাবে অর্থ আদায় করে তালিবানরা৷

মাদক পাচার
আফগান দেশের দক্ষিণের হেলমন্দ, উরুজগান, কান্দাহার ও জাবুল প্রদেশের চাষিদের ভালোমতন টাকা দিয়ে আফিমের চাষ করায় তালিবান৷ সেই টাকার অঙ্ক অন্য যে কোনও বিকল্প জীবিকার তুলনায় অনেক বেশি৷ সেই সঙ্গে আছে চাষিদের প্রতি হুমকি ও সহিংসতা৷ এ তো শুধু উৎপাদন৷ মাদকের উৎপাদন থেকে শুরু করে পশ্চিমের দেশে পাচার অবধি বাণিজ্যপথের প্রতিটি চৌরাস্তায় ‘কর’ তুলছে তালিবান৷ মাদক চালানের লরিগুলোর সুরক্ষাও ক্ষেত্রবিশেষে তালিবানের গ্যারান্টিতে৷ গোটা মাদক ব্যবসা থেকে তালিবান বছরে ১০ কোটি থেকে ৩০ কোটি ডলার রোজগার করে থাকে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান৷ বিশ্বের আফিম উৎপাদনের ৮০ শতাংশ আসে এই একটি দেশ থেকে৷ এটা মোটেই আশ্চর্য হবার কিছু নেই৷
এমনকি আন্তর্জাতিক সৈন্যরা যখন আফগানিস্তানে ছিল, তখন নাকি তাদের সাপ্লাই কনভয়গুলোকে নিরাপদে যেতে দেওয়ার জন্য তালিবানকে টাকা দেওয়া হত! এমন কথাও শোনা গিয়েছে৷

বিদেশি অনুদান
আফগানিস্তানের বাইরে থেকে আসে দানের টাকা, প্রধানত পাকিস্তান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ইসলামি দাতব্য সংস্থা ও অপরাপর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে৷ এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে আফগান তালিবানের বিশেষ সম্পর্কের কথা অনেকেই উল্লেখ করে থাকেন৷ যদিও তার কোনও প্রকাশ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই এবং পাকিস্তান সরকার তা বরাবর অস্বীকার করে এসেছে৷

তোলা আর ‘কর’
তালিবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের কাছ থেকে অন্যান্য প্রথাগত করও আদায় করা হয়৷ যেমন ফসলের উপর ১০ শতাংশ কর, যার নাম উশর৷ সম্পত্তির উপর আড়াই শতাংশ কর, যার নাম জাকাত৷ এছাড়া জল বা বিদ্যুতের উপরও কর আদায় করা হয় বলে রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে৷ তালিবান জঙ্গিরা বিচার বা মামলার নিষ্পত্তির জন্যও ফি নিয়ে থাকে৷ সেই সঙ্গে থাকে জরিমানার টাকা৷

কারা তালিবানকে টাকা দেয়?
কনট্র্যাক্টর, এনজিও, বেসরকারি কোম্পানি, এমনকি সরকারের সদস্য – প্রায় সকলেই, নিরুপায় হয়ে কিংবা স্বস্তি পাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে থাকে৷ যদিও টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করতে সকলেরই দ্বিধা৷



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই