মেইন ম্যেনু

আমাকে চেনো? আমি মদন মিত্র! উত্তর শুনে মুখে উত্তীর্ণের হাসি প্রাক্তন মন্ত্রীর

গাড়ি থেকে নেমেই কালো রঙের সানগ্লাসটা খুলে ফেললেন। এরপর দু’হাত যতখানি উপরে তোলা যায় ততখানি তুলে নমস্কার। দলীয় কর্মী, স্কুলচত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা অভিভাবকদের মধ্যে ভেদাভেদ না করে জোড় হাতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বললেন, ‘‘ভাল আছেন?’’ পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘আপনি ভাল আছেন!’’ মঙ্গলবার বেলঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মক টেস্ট’ ছিল অনূর্ধ্ব সতেরোর। উত্তীর্ণ হওয়ার যাত্রা শুরু হল মদন মিত্রের! থুড়ি, কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়কের।
বেলঘরিয়া হাইস্কুল-সহ ৩০টি বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পড়ুয়াদের নিয়ে ‘মক টেস্টে’র আয়োজন করেছিল কামারহাটি পুরসভা। সোমবার ইংরেজির পরে এদিন ছিল অঙ্ক পরীক্ষা। প্রায় ১২৫০ জন পড়ুয়া তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার এই উদ্যোগে সামিল হয়েছিল। কিন্তু এদিন বেলঘরিয়া উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে মদনের ৬০ মিনিটের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে, পরীক্ষা ছিল মিত্রমশাইয়েরও।
পরীক্ষাই তো। নইলে পড়ুয়াদের তিনি কেন জিজ্ঞাসা করবেন, ‘‘আমি মদন মিত্র। চেনো?’’ সমস্বরে ইতিবাচক জবাব আসতেই বিদ্যুৎ গতিতে মুখে হাসি খেলে গিয়েছে কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়কের। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা-সহ দলীয় নেতাদের কাছে পইপই করে জেনে নিয়েছেন, উদ্যোগ পুরোপুরি পুরসভার তো! বক্তৃতায় বলেছেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়। কামারহাটির মানুষের ঘরের সদস্য হিসাবে তিনি এসেছেন। বস্তুত, আদালত জামিন শিথিল করলেও কামারহাটিতে নিজের উপস্থিতির ব্যাখ্যা সম্পর্কে তিনি এখনও ‘স্পর্শকাতর’। বিতর্ক নিয়ে ‘সংবেদনশীল’। সম্ভবত সেজন্যই স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে মদনের বিধিসম্মত সতর্কীকরণ, ‘‘পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি? এ রাম! সরি, এক মিনিট সময় নষ্ট করলাম।’’ পায়েল সরোজ নামে এক ছাত্রী যখন নিজে থেকে আশীর্বাদের হাত মাথায় রাখার আবদার জানিয়েছেন আশ্বস্ত হয়েছেন সারদা এবং নারদা-কাণ্ডে বিধ্বস্ত নেতা।
আত্মবিশ্বাসের ফুরফুরে বাতাস প্রাণে লাগিয়েছেন একেবারে শেষ লগ্নে। তখন প্রাক্তন মন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য অলিন্দে, রাস্তায় কোলাহলের সাতসতেরো। তা দেখে পরবর্তী বক্তা হিসাবে মদন মিত্রের নাম উচ্চারণে ঘোষক সমীরণ দাসের গলাতেও ডলবি সাউন্ডের আমেজ।
শো-শেষ। জমায়েত ঘরমুখী। তখনও অন্য জগতে বিচরণ করছেন মদন। সেলফি, গ্রুপফি, অটোগ্রাফের আবদারে ফিরছেন ঠিকই। কিন্তু সুযোগ পেলেই ডুব দিচ্ছেন কিছুক্ষণ
আগের কোলাহলে।
‘মক টেস্ট’ কি মিত্রমশাইয়েরও?
মদনের জবাব, ‘‘আমার সামনে কোনও পরীক্ষা নেই। আমি অনেক দিন আগেই পরীক্ষা দিয়েছি। গণতন্ত্রের নিয়মে ফল বেরোলেও আমি পরীক্ষায় বসতে পারিনি। বসলে কী হতো, তা তো আরেকবার মক টেস্ট করলেই হয়!’’






মন্তব্য চালু নেই