মেইন ম্যেনু

‘আমাকে পুলিশ ধরেছিল, তবে নির্যাতন করেনি’

যশোরে চাঁদা আদায়ের জন্য এক যুবককে ধরে নিয়ে থানায় উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, থানার মধ্যে ওই যুবকের দুই পায়ের মাঝে কাঠ রেখে পিঠমোড়া দিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, বুধবার রাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটেছে। আর ঘটনার শিকার আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের মাদক বিক্রেতা নুরুল হকের ছেলে।

তবে আবু সাঈদ ওই দিন আটক হলেও তার ওপর কোনো নির্যাতন চালানো হয়নি বলে দাবি করেছেন। আর ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত বুধবার সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আবু সাঈদকে আটক করে কোতোয়ালি পুলিশের সিভিল টিম। আটকের পর তার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হাতকড়া পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে কাঠ দিয়ে উল্টো করে ঝুঁলিয়ে পেটানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ওই রাতেই ছাড়া পায় সাঈদ।

কোতোয়ালি থানায় পিঠমোড়া দিয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের এই ছবি বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের সিভিল টিম তুলে দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে সিভিল টিম মাঠে থাকায় এবং তাদের হাতে এমন ঘটনা ঘটায় পুলিশের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, থানায় নির্যাতন ও টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মো. আবু সরওয়ারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে ভুক্তভোগী আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করছে। এই ছবি ও খবর নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে শুক্রবার দুপুরে আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রেসক্লাব যশোরে আসেন।

প্রেসক্লাবে সাঈদ দাবি করেন, বুধবার পুলিশের সিভিল টিম তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দায়েরকৃত মামলার খোঁজ-খবর নেয়। কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। সাঈদের দাবি, তাকে আটক করলেও পুলিশ তার ওপর কোনো নির্যাতন চালায়নি এবং ছেড়ে দেয়ার জন্য কোনো টাকাও নেয়নি।

ঘটনার শিকার আবু সাঈদের মা রোমেছা বেগম, বাবা নুরুল ইসলাম ও ভাই আশিকুর দাবি করেন, পুলিশ আবু সাঈদকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। টাকা পয়সা লেনদেন কিংবা মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনিতেই পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। ছাড়া পাওয়ার পর পলাতক ছিল আবু সাঈদ। এমনকি শুক্রবার সকালে গিয়ে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনে দেখা মেলে আবু সাঈদের। এরপর দুপুরে তিনি প্রেসক্লাবেও আসেন।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবু সাঈদ পরিবারের সদস্যরা ভয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে না। সাঈদ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাই পরিবারের লোকজন ঝামেলায় জড়াতে চায় না।






মন্তব্য চালু নেই