মেইন ম্যেনু

আমাকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু বন্ধ করে দিবে। কোনো এক বিশেষ ব্যক্তিত্বের একটা ব্যাংকের এমডির পদে থাকা না থাকার ওপর। আমাকে সরাসরি থ্রেটও (হুমকি) করা হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে কাজী মাহবুব উল্লাহ স্মৃতি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকার অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে সরাসরি বলেছেন যে, এটা না হলে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ হবে। কিন্তু ওই এমডির পদ আমার দেওয়ার তো সামর্থ্য ছিল না। কারণ, যার এ পদ তিনি তো কোর্টে মামলা করেছেন সরকারের বিরুদ্ধে। সেই ব্যাংকের যে আইন সেই আইন ভঙ্গ করে ১০ বছর চালানোর পরও কোর্ট তার তো আর বয়স কমাতে পারে না। কোর্ট যদি বয়স কমিয়ে দিতে পারত তাহলে হতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নানাভাবে নানা চাপ। দুটো বছর আমাদের ওপর যেন আজাব সৃষ্টি হয়েছিল। আমি মুখের ওপর বলে দিয়েছিলাম পদ্মা সেতু আমরা নিজেরা করতে পারব। আমরা তা করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে একটা দেশ স্বাধীন করতে পারি তবে একটা সেতু নির্মাণ করতে পারব না এটা হতে পারে না। আজকে আমাদের রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার। কাজেই আমরা নিজেরাই যে কোনো বড় প্রজেক্ট করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের ওপর একটা দুর্নাম দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা। সেখানে মূল টার্গেটে ছিলাম আমি, আমার পরিবার, আমার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এমনকি সচিব- কেউই বাদ যায়নি। এমনভাবে একটা ধোঁয়াটে অবস্থা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি যেন দুনীতি করে সব টাকা লোপাট করে দিয়েছি। একটি পয়সাও দেয়নি তারা, তার আগেই ধোঁয়া তোলা হলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন, কার প্ররোচনায় সেটা আমি বলতে চাই না। সেটা আপনারা ভালো করেই জানেন। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। অনেকে অনেক কথা লিখে, অনেক কথা বলে আমাদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে চেয়েছেন। কিন্তু একটা কথা বলি, আমি সব সময় বিশ্বাস করি সততাই শক্তি। যদি আমরা ন্যায় ও সৎ পথে চলি, আমার সেই আত্মবিশ্বাস আছে। আত্মবিশ্বাস আছে বলেই আমরা আজ এটা করতে পেরেছি।’

বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের বিত্তবানদের নিজ নিজ গ্রামের দিকে তাকাতে বলব। এলাকার দিকে তাকাতে বলব। মানুষকে সহযোগিতা করতে বলব। বিত্তবানরা উচ্চশিক্ষা প্রসারে এগিয়ে আসবেন। মেধাবীদের শিক্ষায় এগিয়ে আসবেন। যাতে তারা (মেধাবী) দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুশিক্ষিত জাতি ছাড়া কখনও দেশ গড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ গড়ে উঠবে কুসংস্কারমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায়। আমরা সেভাবে দেশকে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে কাজও করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরতার হার ছিলো মাত্র ৪৫ ভাগ। আমরা ক্ষমতা নেওয়ার পর তা দ্রুত বেড়ে যায়। প্রতিটি জেলাকে নিরক্ষরমুক্ত করার জন্য কাজ করতে থাকি। ১৯৯৮ সালে অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাক্ষরতার হার বাড়াতে পেরেছি।’

‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেখি গবেষণার জন্য কোনো বরাদ্দ ছিলো না। কিন্তু গবেষণা ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা তাই গবেষণায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ছিলাম। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমরা বাজেট ৫ গুণ বৃদ্ধি করেছি। ২ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা বাজেট বাংলাদেশ করবে এটা কখনো কেউ বোধ হয় ভাবতে পারেনি। আমাদের বার্ষিক কর্মসূচির ৯০ ভাগ আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করছি,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ১৬ কোটি মানুষ। এই ১৬ কোটি মানুষের শক্তিই তো বড় শক্তি। আমরা এই দেশকে নিয়ে গর্ব করি। কিছু রাজাকার স্বাধীনতাবিরোধী একটা অংশ থাকতে পারে। সেটা বাদ দিয়ে বাকি যে মানুষগুলো আছে প্রত্যেকে আমরা এক হয়ে আমাদের এ দেশকে একটা সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি।’

এ বছর শিক্ষা ও গবেষণায় ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ চৌধুরীকে বিশেষ পুরস্কার হিসেবে আজীবন সম্মাননা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আনিসুল হক, পাটের মলিকিউলার বায়োলজী বিষয়ে বিশেষ গবেষণায় অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, খেলাধুলায় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজাকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

এটি বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুব উল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের ২৭তম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জোবায়দা মাহবুব লতিফের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য বেগম নিলুফার জাফরউল্লাহ।






মন্তব্য চালু নেই