মেইন ম্যেনু

‘আমি ইনশাআল্লাহ ফিরবই’

যতদিন মাঠে ছিলেন, ততদিন তাকে বলা হত, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। যখন তার গায়ে ফিক্সিংয়ের কলঙ্ক লাগলো তখন বলা হল বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ‘ট্র্যাজিক হিরো’ তিনি। বলা হচ্ছে মোহাম্মদ আশরাফুল; বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়কের কথা।

আর মাত্র চার-পাঁচ মাস গেলেই মুছে যাবে তার ফিক্সিংয়ের কলঙ্কটা। কারণ, আসছে আগস্টেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফের মাঠে ফিরবেন তিনি। আপাতত পুরনো রূপে ফেরার স্বপ্নে বিভোর এই ক্রিকেটার। সেই সব কথাই বলেছেন মন খুলে-

আগস্টেই ফিরতে চলেছেন। রোমাঞ্চিত?

আশরাফুল : অবশ্যই অনেক ভালো লাগছে। এতোদিন পর আবারো শতভাগ দিয়ে মাঠে নামবো, এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার হতে যাচ্ছে আমার জন্য।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পুনর্বাসনের অধীনে থাকার কথা এখন আপনার। সে ব্যাপারে কিছু বলবেন…

আশরাফুল : না, ওটা এখনো শুরু হয়নি। এখনো বোর্ডের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি। আমি সবসময়েই ফ্রি আছি। তাদের দরকার হলেই আমাকে ডাকবে। আর আমি কাজ শুরু করেছি। অনেক জায়গায় ঘুরছি, এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াচ্ছি। এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সময়ে একটা ভিডিও ছেড়েছিলাম এই উদ্দেশ্যেই। সর্বোপরি, আমি আমার মতো কাজ করে যাচ্ছি।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরতে ফিরতে ৩২ বছর বয়স হয়ে যাচ্ছে আপনার। জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে বয়স বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে। দলে জায়গা করে নেয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?

আশরাফুল : না কঠিন হবে কেন! বাংলাদেশে যদি কোন ক্রিকেটার পারফরম্যান্স করে, তাহলে অবশ্যই তাকে সুযোগ দেয়া হবে। তা জাতীয় দল তো অনেক পরের কথা। আগে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করি, ভালো করি।

পারফরম্যান্স করতে পারলে আল্লাহ যদি সুযোগ দেয়, তাহলে হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচকদের চোখে পড়বে। হয়তো এটাও ভাববেন যে একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার পারফরম্যান্স করছে, তাকে আরেকটি সুযোগ দেয়া যেতে পারে।

সত্যি বলতে আমি আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুই-তিন মৌসুম ভালো খেলার পরিকল্পনা করছি। খুব ভালো করলে হয়তো তার আগেই কতৃপক্ষ আমাকে সুযোগ দিতে চাইবে।

জাতীয় দলের কথায় যদি আবারও বলি, তাহলে কোন ফরম্যাট দিয়ে ফিরতে চান?

আশরাফুল : যেকোন ফরম্যাট দিয়ে। আমি তো তিন ফরম্যাটেই খেলতে চাই। তাই নির্দিস্ট কোন ফরম্যাট নিয়ে ভাবছি না। ফিরতে পারলেই হলো।

আরো কতো বছর খেলতে চান?

আশরাফুল : যতদিন ফিট থাকতে পারবো, ততদিন খেলতে চাই। দেখুন, মিসবাহ-উল-হক ৪১ বছর বয়সেও দারুণ অধিনায়কত্ব করে যাচ্ছেন। আমি যেহেতু ব্যাটসম্যান, অন্তত ৪০ বছর পর্যন্ত খেলতে চাই।

অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আশরাফুল: পরেরবার ফিরলে এতোদিন যা খেলেছি, অবসর নেয়া পর্যন্ত তার চেয়েও বেশি কিছু দিতে চাই। ইনশা আল্লাহ, সেটা করতেও পারবো আমি।

অবসর নেয়ার পর সফল ক্রিকেটারদের কেউ কোচিংয়ে আগ্রহী হন, কেউ নির্বাচক, ধারাভাষ্যকার আবার কেউ পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। আপনি কোনদিকে যেতে চান?

আশরাফুল : এখনো তো ওভাবে ঠিক করিনি। যেহেতু আমি এখনো ১০ বছর খেলতে চাই। তারপরেও বলবো, অবসর নেয়ার পর আমি ক্রিকেটের সাথেই থাকতে চাই। আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, ভালো-খারাপ আল্লাহ আমাকে অনেক অভিজ্ঞতা দিয়েছেন। কোনটা করলে সফলতা আসবে, কি হলে কি হবে; আমি অনেক ভালো করেই বুঝেছি এতোদিন। সেগুলোই ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে শেয়ার করতে চাই।

এবার একটু বাংলাদেশ দল নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

আশরাফুল : আমাদের তো ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল অনেক ভালো করেছে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে। সাকিব ভালো কামব্যাক করেছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অস্ট্রেলিয়ার সাথে চমৎকার খেলেছে। আর সৌম্য সরকার ছিল…। সাব্বির অনেক ভালো স্টার্ট করেছে বিশ্বকাপে, কিন্তু ইনিংসটাকে বড় করতে পারেনি। এটা করতে পারলে দলের জন্য অনেক ভালো হতে পারতো।

নাসিরের ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কি?

আশরাফুল : নাসির তো কয়েক বছর ধরেই ভালো খেলছে। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে সে খেলার সুযোগ পায়নি। আমার কাছে মনে হয় আমাদের দলের জন্য এটা আনলাকি।

চলতি বিশ্বকাপের সময় কোন নির্দিষ্ট একটি ম্যাচেও কি মনে হয়েছে, আপনি থাকলে ভালো হতো?

আশরাফুল : না, সেরকম কিছু মনে হয়নি। তবে খুব মিস করেছি। কারণ, এই ফরম্যাট আমার অনেক প্রিয়। এখানে নিজের মতো খেলা যায়। আউট হলে কোন ডিপ্রেশন নেই, ছয় হলে দলের ভালো। প্রথম বল থেকেই মেরে খেলার যে ব্যাপারটা; সবকিছুই আমার অনেক পছন্দের।

মাশরাফির অবসর প্রসঙ্গে যেভাবে আলোচনা উঠছে, সেটা আপনি কিভাবে নিচ্ছেন? আসলেই কি সময় হয়েছে এমন সিদ্ধান্তের?

আশরাফুল : অবশ্যই না! অবশ্যই না! এটা আসলে আমি বুঝতে পারছি না যে কেন মিডিয়া আর সাধারণ মানুষের একটা অংশ ম্যাশের অবসর নেয়া নিয়ে এমন জোর দিচ্ছে। একটা দল গত দেড় বছর ধরে অনেক ভালো খেলছে। ম্যাশ ফিট আছে বলেই খেলছে তাই না? কেন এগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে আমার তা বোধগম্য নয়। যারা এই ধরণের প্রশ্ন করছে, তারা ভুল করছে। এটা ঠিক না। এমন প্রশ্ন করাটা বিব্রতকর।

দেখুন, নিজের থেকেই কিন্তু আমরা খেলি। খেলার কথা কেউ বলে দেয় না। ভালোবাসা থেকেই খেলাটা খেলি। তাহলে যাওয়ার সময় কেন বারবার জিজ্ঞেস করবে যে আপনি কবে অবসর নেবেন, কবে যাবেন! এগুলো একবারেই উচিৎ না। তার অধীনে অনেক ভালো খেলছে বাংলাদেশ। আমার মনে হয়, ও খেলুক ওর যতদিন ইচ্ছা। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেললেও কোন সমস্যা নেই।

শেষ প্রশ্ন, প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে ভক্ত-সমর্থকদের কোন বার্তা দিতে চান?

আশরাফুল : সবাই হয়তো জানে না, কিন্তু অনেকেই আছে যারা খোঁজখবর রাখে। আমি ফিরবোই ইনশাআল্লাহ, দেশের জন্য খেলব! আমার দুয়েকটি যে ভালো ভালো ইনিংস আছে, ওরকম আরো খেলে ভক্তদের আনন্দ দেবো। সূত্র: প্রিয়.কম






মন্তব্য চালু নেই