মেইন ম্যেনু

আমি নিজে এতিম, তাদের কষ্টটাও বুঝি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার সরকার ক্ষমতায় এসেছে এতিমদের কল্যাণ করার জন্য। তাদের টাকা চুরি করে খেতে নয়। আমি নিজে এতিম। আমার চেয়ে এতিমদের কষ্ট কে আর বেশি বোঝে। আমি নিজে এতিমদের দায়িত্ব নিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার এতিমদের দায়িত্ব নিয়েছে।’

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। সমাজ সেবা অধিদপ্তর এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে নেয়া তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘উন্নয়নের এই ধারা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর অওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সমাজের হত দরিদ্রগোষ্ঠীর জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবাভাতাসহ নানা কর্মসূচি চালু করে। সমাজসেবা অধিদপ্তর সেইসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’ সর্বস্তরের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি না ঘটলে দেশ এগুবে না বলে মত দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দরিদ্র বিমোচন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বর্তমান সরকার সেই কর্মসূচিই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগের সরকারগুলো প্রতিবন্ধীদের মূল জনসংখ্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেনি। তার সরকার প্রতিবন্ধীদের হিসাব করেছে। দেশে বর্তমানে ১৪ লাখের মতো প্রতিবন্ধী রয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ প্রতিবন্ধীকে সরকার মাসে ৫শ টাকা করে ভাতা দিয়ে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এবং আমার ছোট বোন শেখ রেহেনা পৈতৃকসূত্রে যে সম্পত্তি পেয়েছিলাম তা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে দিয়ে দিয়েছি। এই ট্রাস্ট থেকে আমরা প্রতি বছর ১৩শ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি। ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় আহত ১০৭ জনকে প্রতিমাসে ওষুধ কেনার টাকা দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নতি তখনই হবে যখন সর্বস্তরের মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

ভিক্ষাবৃত্তির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি হীন কাজ। কেউ ভিক্ষা করতে পারবে না।’ এসময় ভিক্ষুকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ফুটপাতে মানুষ বসবাস করবে কেন। তাদের বাঁচার অধিকার রয়েছে।’ যারা ফুটপাতে বসবাস করছে তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে বিনামূল্যে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেকার যুবকেরা যাতে কাজ করতে পারে সেজন্য তার সরকার কর্মসংস্থান ব্যাংক গঠন করে দিয়েছে। সেখান থেকে তারা বিনা জামানতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারে। নিজেরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে কেউ কারো বোঝা হবে না। সবাই নিজের পায়ে দাঁড়াবে। সবাই কাজ করে খাবে। সরকার মানুষের জন্য সেই কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে।’ তার সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ১৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও যোগ করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই