মেইন ম্যেনু

“আমি সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন মুসলিম”

আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকার মনোনয়ন প্রত্যার্শী মার্কিন ধনকুবের ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যে সারা বিশ্বে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। খোদ মার্কিন মুল্লুকেও এ নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। এবার ট্র্যাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন মার্কিন এক রাষ্ট্রদূত। হাফিংটন পোস্ট পত্রিকায় তিনি ‘আমি একজন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং একজন মার্কিন মুসলিম’ শীর্ষক একটি কলামও লেখেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ১৯৯৯ সালে সিদ্দিকীকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার ওই মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম গৌরবের ক্ষণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ওই সময়ে আমার হাতে ছিল কোরআন এবং আমার স্ত্রীর হাতে ছিল বাইবেল। আমি মার্কিন পতাকাকে গৌরব এবং সম্মানের সঙ্গে ধরে ছিলাম।

অথচ এখন সেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যার্শী ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে যেনো মুসলিমদের প্রবেশ করতে দেয়া না হয়! এমনকী দেশটির নিরাপত্তা বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিমদের অযোগ্য ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যার্শী আরেক প্রার্থী ডা. বেন কারসন মুসলিমদের ‘ক্ষিপ্র কুকুরের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।

পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। ২০১০ সালে দেশটিতে মুসলিমের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৬২ লাখে পৌছাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব জায়গায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মুসলিমরা। দেশটির অর্থনীতি, সামাজিক এবং রাজনৈতিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এমনকী ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মার্কিন মুসলিমরা।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দশলাখ মুসলিম ভোটারের বাস। ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, ওহিও, মিসিগান এবং পেনসেলভেনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ মুসলিম ভোটার।

সিদ্দিকী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে মনোনয়ন প্রত্যার্শীদের উদ্দেশে বলেন, মূলত নেতারা এই পরিসংখ্যানের কথা বিবেচনায় রেখে নির্বাচনী বক্তব্যে রাখলে ভালো করবেন।

জঙ্গি সংগঠন আইএসকে ধ্বংসাত্মক উল্লেখ করে সিদ্দিকী বলেন, ‘আইএসের জন্য সারা বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলিমকে সন্ত্রাসী বলতে পারি না। খসড়া হিসেবে সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ মুসলিম। মুহূর্তের রাগের বর্শবর্তী হয়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে ভুলের পরও জর্জ ডব্লিউ বুশ স্বীকার করেন যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম।

সম্প্রতি দেয়া বক্তব্যে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে নয়।’

সম্প্রতি সান বার্নানডিনোতে মুসলিম দম্পতির হামলায় নিহতের ঘটনাকে দুঃখজনক এবং বিচ্ছিন্ন উল্লেখ বলে করেন সিদ্দিকী।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক কলামে ফরিদ জাকারিয়া বলেন, ‘যদি আমরা চাই মুসলিমরা সমাজের সামনের সারিতে এগিয়ে আসবে, তাহলে অমুসলিমদেরও উচিত হবে তাদের সংখ্যালঘু হিসেবে যেনো বিবেচনা করা না হয়। প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদা ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কখনোই তাদের কোনো সংগঠনের কাজের ভিত্তিতে বিবেচনা করা যাবে না।’

বিশ্বের জন্য যা হুমকী তার বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে লড়তে হবে।

উল্লেখ্য, সিদ্দিকী ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।






মন্তব্য চালু নেই