মেইন ম্যেনু

আর্টিজানে ‘জঙ্গি’ হত্যাকে ক্রসফায়ার বলছে আসক

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মিদের মুক্ত করতে অভিযান, মিরপুরের কল্যাণপুর এবং নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মৃত্যুর ঘটনাকে হেফাজতে মৃত্যু বা ক্রসফায়ার হিসেবে দেখছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদন’-এ এই কথা বলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬টি বিষয়ে মানবাধিকার বিষয়ক সংখ্যাগত তথ্য তুলে ধরা হয়। শুরুতেই উল্লেখ করা হয় ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক হেফাজতে/ক্রসফায়ারে মৃত্যু’র বিষয়টি। এখানেই হলি আর্টিজান এবং সন্দেহভাজন জঙ্গিদের দুটি আস্তানায় অভিযানে মৃত্যুর ঘটনাকেও হেফাজতে মৃত্যু বা ক্রসফায়ারের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

গত ১ জুলাই গুলশানের অভিজাত রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা করে ১৭ বিদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর কামান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারীসহ ছয় জন নিহত হয়।

গত ২৬ আগস্ট মিরপুরের কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াত। স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্স নামে এই অভিযানে নিহত হয় সন্দেহভাজন নয় জঙ্গি।

আর সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় নাটের গুরু হিসেবে চিহ্নিত তামিম চৌধুরী পুলিশের অভিযানে নিহত হন গত ২৭ আগস্ট। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় হিটস্ট্রং টোয়েন্টি সেভেন নামে এই অভিযানে তামিম চৌধুরী ছাড়াও নিহত হন তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

গত কয়েক বছর ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের প্রায় একই ধরনের কাহিনি বলা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বলা হয়, সন্দেহভাজনকে নিয়ে অভিযানে গেলে তাদের সহযোগীরা হামলা করে। পরে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত হয় সেই সন্দেহভাজন। পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। অভিযোগ আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্রস ফায়ারের নামে আসামিকে গুলি করে হত্যা করে।

তবে এই তিনটি ঘটনায় প্রাণহানিকে হেফাজতে মৃত্যু বা ক্রসফায়ার?-জানতে চাইলে মানবাধিকার সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা তো আলাদাভাবে যাওয়ার কথা। এটা অন্য জিনিস, আমি দেখার সুযোগ পাইনি। আপনি ভালো করেছেন বলে।’

তাহলে কি আপনারা ভুল করেছেন?-জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এক অর্থে এটা আমাদের ভুল, আবার অন্য অর্থে ভুলও না। যদি ধরে নেই এটা জেনুইন ক্রসফায়ার, তাহলে আমরা ভুল করিনি। তবে এটা বিতর্ক তৈরি করতে পারে।’

আপনারা কি এর সংশোধনী দেবেন?-জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিবেদন যখন পাঠিয়ে দিয়েছি যখন তখন আর সংশোধন করি কিভাবে, আজ আবার শুক্রবার, অফিসও বন্ধ।’

বিষয়টি নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক (প্রশাসন) নূর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টা (জঙ্গি আস্তানায় অভিযান) আগামীতে আলাদাভাবে যাবে। ইন জেনারেল ক্রসফায়ারে আর এগুলো যাবে না।’

জঙ্গি আস্তানায় অভিযান বা জঙ্গি হামলার পর জিম্মিদের উদ্ধার অভিযানে প্রাণহানিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র হেফাজতে মৃত্যু বলার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও পরিকল্পনা) এ কে এম শহীদুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিবেদন আমি দেখিনি, তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় সস্তা জনপ্রিয়তা ও অতি উৎসাহী হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যেনতেন ঘটনা বানিয়ে ফেলেন কেউ কেউ। এটা কাম্য নয়। ক্রসফায়ার আর জঙ্গি আস্তানায় অভিযান কখনও এক হতে পারে না। এই অভিযানে হত্যাকে ক্রসফায়ার বলা হলে তো ক্রসফায়ারের ধারণাই পাল্টে যাবে।’

প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত নয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ১৫০ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা গেছেন ৩৪ জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ৬১, গোয়েন্দা পুলিশের গুলিতে ১১ জন, পুলিশ-বিজিবির ক্রসফায়ারে এক জন, সোয়াতের অপরারেশনে (হিটস্ট্রং টোয়েন্টিসেভেন) তিন জন, পুলিশের নির্যাতনে সাত জন, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে এক জন, রেল পুলিশের নির্যাতনে এক জন, ‍পুলিশের গুলিতে নয় জন, বিজিবির গুলিতে এক জন, যৌথ বাহিনীর (থান্ডারবোল্ট অভিযানে) গুলিতে ছয় জন, সোয়াত অপারেশনে (স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্স) নয় জন মারা গেছেন। থানা হাজতে অসুস্থ হয়ে চার জন এবং রহস্যজনকভাবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই