মেইন ম্যেনু

আর কত নিচে নামবে ইসি?

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ করে নির্বাচন কমিশনে না এনে উল্টো তাদের সদর দপ্তরে গিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের অবহিত হওয়ার সফরসূচিতে বিব্রত সংশ্লিষ্টরা। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে অনেকে বলছেন, এমনিতেই আমরা সমালোচনার মুখে রয়েছি। বিএনপি আমাদের সরকারের আজ্ঞাবহ বলছে। তফসিল ঘোষণার আইন শৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা ইসির অধীনে রয়েছে।

এ অবস্থায় আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে অবহিত হতে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলীর সফরকে নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর কত নিচে নামবে ইসি ডাকলেই তো তারা চলে আসত। সিইসি একবার বৈঠকের পর এখন নতুন করে বৈঠকের গুরুত্ব রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বোধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করলেন ৩ মার্চ।এর ১০ দিন পর পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড ও র্যা ব সদর দপ্তর তিনদিন পরিদর্শনসূচি রেখেছেন নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী।

গত রোববার এ নির্বাচন কমিশনারের সফরসূচির জারি করেছেন জ্যেষ্ঠ সহকারি সচিব মো. শাহ আলম। এতে বলা হয়, ১৪-১৬ মার্চ ইউপি সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নিয়োজিতব্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে অবহিত হওয়ার জন্যে এসব দপ্তর পরিদর্শন (ভিজিট) করবেন।

সোমবার বিকাল তিন টায় পুলিশ সদর দপ্তরে উপস্থিতি, মঙ্গলবার ১১ টায় বিজিবি সদর দপ্তরে, তিন টায় আনসার সদর দপ্তরে, বুধবার ১১ টায় কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে ও তিন টায় র্যা ব সদর দপ্তরে গিয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অংশ হিসেবে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান-এর বিষয়ে অবহিত হবেন নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী।

বিকাল ৫ টার মধ্যে গুলশানস্ত নিজ বাসভবনে উপস্থিত থাকার কথা বলা রয়েছে সফরসূচিতে। সরকারি এ সফরের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবগতির পাশাপাশানি সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে গত রোববার। ২২ মার্চ প্রথম ধাপের ইউপি ভোট হবে। পরবর্তীতে আরো ৫ ধাপের ভোটের দিন নির্ধারণ করা রয়েছে। ৪ জুন পর্য ন্ত এ ভোট চলবে।

সাংবিধানিক এ সংস্থার একজন নির্বাচন কমিশনারের অবহিত হতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদর দপ্তরে যাওয়ার চিঠি জারি হওয়ায় অনেকে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন।দুপুরে নিজ কার্যায়লয়ে বসে একজন নির্বাচন কমিশনার সফরসূচি দেখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৩ মার্চের সমন্বয় সভার কার্যচবিবরণী ইতোমধ্যে শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করে পরিপত্র জারির প্রক্রিয়া চলছে। ইসি সচিবালয় এ বিষয়ে যোগাযোগও রাখছেন।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বয় বৈঠকের পর আলাদাভাবে সদর দপ্তরে গিয়ে নির্বাচন কমিশনারের এমন করে ‘অবহিত’ হওয়ার রীতি আগে দেখেন নি ইসি কর্মকর্তারা।

“প্রয়োজন হলে ইসি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আরেক দফা বৈঠকও করতে পারেন। তা না করে উল্টো একজন কমিশনার গিয়ে সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে অবহিত হওয়ার নজির প্রথম। পরিস্থিতি উন্নতি করতেই হয়ত এমন হতে পারে” বলেন তারা।

সংসদ, সিটি, উপজেলা ও পৌর নির্বাচনের সমন্বয় বৈঠকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অধিকাংশ শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এনইসি মিলনায়তনের ইউপি নির্বাচনের সভায় অনেকে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন।

৩ মার্চ আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত না থেকে প্রতিনিধি পাঠানোয় নির্বাচন কমিশনারের এমন পরিদর্শন হতে পারে বলে ধারণা কর্মকর্তাদের।

ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, ভারপ্রাপ্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক, বিজিবি মহাপরিচালক, আনসার মহাপরিচালক, পুলিশ সদর দপ্তরের উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক, র্যা বের প্রতিনিধি, এনএসআই পরিচালক, ডিজিএফআই পরিচালক, এসবি’র অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শকসহ বিভাগ, জেলা পর্যালয়ে প্রশাসন-পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার শেরেবাংলানগরস্থ ইসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, “কিছু কিছু জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে সংঘর্ষ হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার জন্যে বলেছি। কেউ যেনো কারো ওপর চড়াও হতে না পারে- সে জন্যে পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনকে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি।






মন্তব্য চালু নেই