মেইন ম্যেনু

আর কত লাশের বোঝা বইবে বাংলাদেশ?

পুরান ঢাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে নিহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চ কর্মী নাজিমুদ্দিন সামাদের মৃত্যুতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে হতাশা ব্যক্ত করে লিখেছেন, ‘আর কত লাশের বোঝা বইবে বাংলাদেশ?’

ইমরান লেখেন, ‘নাজিমুদ্দিন সামাদ নামে একজন প্রতিবাদী তরুণ খুন হয়েছেন। অনেকের প্রশ্ন, তিনি আমাদের সাথে ছিলেন কি না! অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার যেকোনো প্রতিবাদী কণ্ঠই আমাদের সহযোদ্ধা।’

এরপর তিনি লেখেন, ‘খুনের বিচার? আসুন ৮০০ কোটি টাকা লোপাট, তনু হত্যার বিচার, পানামা কেলেঙ্কারির বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকি। একমাত্র তাহলেই হয়তো নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে পারে। কেননা এদেশে খুন-ধর্ষণের কোনো বিচার হয় না।’

ইমরান লেখেন, ‘গণমাধ্যম? আচ্ছা, নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার পর পত্রিকার শিরোনাম কি নিচেরগুলো হওয়া উচিত নয়?

— ‘তনু হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র খুন’

অথবা

— ‘অন্যায়ের প্রতিবাদে সদা জাগ্রত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র খুন’

আমার প্রশ্ন, এসব শিরোনাম হলে কি ধামাচাপায় সমস্যা হয়ে যায়? আর কত লাশের বোঝা বইবে বাংলাদেশ? আর কত?’

নাজিমুদ্দিন (২৭) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বুধবার (৬ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুরে তাকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। সামাদ ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন।

নাজিমের বাড়ি সিলেটে। ফেসবুক পাতায় তিনি নিজেকে সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বন্ধুরা জানিয়েছেন, গণজাগরণ আন্দোলনের সিলেটের সংগঠক হিসেবেও তিনি কাজ করেছিলেন।

ফেসবুক বন্ধুরা লিখেছেন, হেঁটে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন নাজিম। হামলাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে আক্রমণ করেছিল। এ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যাকাণ্ডের মতো উগ্রবাদীরাই নাজিমকে হত্যার পেছনে জড়িত। তবে পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।

নাজিমের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকে তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। কেউ কেউ এ হত্যার বিচার চাইলেও বেশিরভাগ মানুষই বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া ও প্রশাসন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সূত্রাপুর থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেছেন, নাজিমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু সোহেলকে খুঁজছে পুলিশ।

জানা যায়, সিলেটের কোনো দ্বন্দ্বে না কি অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পূর্ব) এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।






মন্তব্য চালু নেই