মেইন ম্যেনু

আর খুঁজে পেলেন না! প্রকাশ্যে চুমু খেতে না পারাটাই কি এখন দেশের বড় সমস্যা?

শাম্মী হক, অনন্য আজাদ ও আরিফ নূর। তিনজনই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী। একসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্লোগান দিয়েছেন উত্তাল শাহাবাগ চত্বরে। সময়ের ফোড়নে অনন্য আজাদ এবং শাম্মী হক এখন জার্মানির বাসিন্দা।

এবার ভ্যালেন্টাইন’স ডেতে শাম্মী হক এবং অনন্য আজাদ মিলে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলেছেন ‘ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাব’- এই শিরোনামে। এরপরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পক্ষে-বিপক্ষে আসে নানান যুক্তি।

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন গণজাগরণকর্মী আরিফ নূর। তিনি লিখেছেন, ‘শাম্মী ও অনন্য, বাংলাদেশে কি আর কোনো সমস্যা আপনারা খুঁজে পেলেন না! প্রকাশ্যে চুমু খেতে না পারাটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা? যে দেশের মানুষ তার মৌলিক অধিকারগুলোই এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি, যেখানে রাস্তা-ঘাটে হাজার হাজার শিশু না খেতে পেয়ে মারা যায়, যেখানে মেয়েদের শিক্ষার হার ৫০ শতাংশ’র কম, যে দেশের ধর্মান্ধ মানুষগুলো এখনও সাঈদীর মত রাজাকারকে চাঁদে দেখতে পায়, যেখানে বই লেখা ও প্রকাশের দায়ে লেখক প্রকাশককে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তেমন একটি দেশে আপনারা এমন একটি ইভেন্টের ডাক দিয়েছেন- এটা সত্যি হাস্যকর। তাও যদি নিজেরা এ ইভেন্টে উপস্থিত থাকতে পারতেন তবে ভাবতাম, আপনারা অনেক সাহসী, অনেক বড় দেশপ্রেমিক। দু’একদিন রাস্তায় কে আপনাদের পেছনে হেঁটেছে আর অমনি লেজ গুটিয়ে জার্মানি চলে গেলেন। ওখানে বসে হয়তো বাঘের মত গর্জন করছেন, তা আমাদের কানে আসতে আসতে শেয়ালের হাঁক হয়ে যাচ্ছে।’

আরিফ নূর তার স্ট্যাটাসে মুক্তচিন্তা নিয়েও কথা বলেছেন, ‘মুক্তচিন্তা মানে নিজের আচার, ঐতিহ্য অস্বীকার করা নয়। হাজার বছর ধরে বাঙ্গালির যে অসাপ্রদায়িক ঐতিহ্য রয়েছে তাতে আমি কখনই আমার বাবা মায়ের সামনে আমার প্রেমিকার ঠোঁটে চুমু খেতে পারবো না। আমি এও জানি তা আপনাদের পক্ষেও স্বম্ভব নয়। যে কাজে নিজের ভেতর থেকে সমর্থন নেই তা অন্যকে করতে বলা মানে প্রতারণা করা। কে কখন কাকে কিভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করবে তা একান্ত তাদের নিজের ভাবনা হয়েই থাক না। আপনি-আমি কে যে, কে কখন কাকে কিভাবে চুমু খাবে তা বলে দেয়ার!’

শাম্মী এবং অনন্য আজাদকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘প্রতিদিন এমন অসংখ্য ইভেন্ট খুলে বসে থাকা যায় কিন্তু একটা ধর্মান্ধের চাপাতির সামনে দাঁড়িয়ে ওর ছানি পড়া চোখে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে থাকতে বুকে সাহস লাগে। এ দেশ তোর নয় এদেশ আমাদের- চিৎকার করে এ কথা বলতে বুকে দম লাগে যা আপনাদের নেই। পালিয়ে গিয়ে ভাল থাকেন, এই কামনাই করি। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্যদের হুমকির মুখে ঠেলে দিবেন না দয়া করে।’

স্ট্যাটাসের শুরুতেই অবশ্য আরিফ নূর এই ইভেন্টের দুই আয়োজকের একজনকে গালাগালির জন্য মন্তব্যকারীদেরও সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘ইভেন্ট খুললো অনন্য আর শাম্মী। কিন্তু যত গালাগালি, হুমকি-ধমকি, ধর্ষণ, জুতাপেটা সবই যাচ্ছে শাম্মীর উপর দিয়ে। কেন ভাই, শুধু শাম্মীর দোষ দেখছো? এখানে অনন্য আজাদের কোনো দোষ নাই? পুরুষ বলে তার সব দোষ মাফ! দোষ যদি হয়ে থাকে তবে দুজনেই সমান দোষী। এদেশে নারীর প্রতি তথাকথিত পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি কি তা ওই ইভেন্টের কমেন্টগুলো পড়লেই বোঝা যায়।’ হুমকি-ধামকির তীব্র সমালোচনা করে তিনি সহনশীলতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান।

তিনি লেখেন, ‘এ দেশ যতটুকু পুরুষের ঠিক ততটুকুই নারীর। সবাই এক সাথে হাতে হাত রেখে পথ চলতে চাই। আর কোনো সহযোদ্ধাকে যেন এ দেশ ছেড়ে চলে যেতে না হয় আসুন তার জন্য লড়াই করি। সে লড়াইয়ে আমরাই জয়ী হব। জয় বাংলা।’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর পরীবাগে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন আরিফ নূর। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলাও করা হয়। জঙ্গিদের হিটলিস্টে আছেন অনন্য ও শাম্মীও। তারা হত্যার হুমকির পর জার্মানিতে পাড়ি জমালেও আরিফ রয়ে গেছেন দেশেই।






মন্তব্য চালু নেই