মেইন ম্যেনু

আল্লাহর মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য

কাবা শরিফের জিয়ারাত একজন মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সে সুবাদে আল্লাহর মেহমান হিসেবে কাবা শরিফ দেখার মহাসৌভাগ্যের অধিকারী হতে যাচ্ছি আমরা। গতকাল পর্যন্ত ৬২ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রীসহ সারা বিশ্ব থেকে আল্লাহর ঘরের লাখ লাখ মেহমান পবিত্র নগরী মক্কা এবং মদিনায় অবস্থান করছেন।

তারা মহান প্রভুর মেহমান হয়ে পবিত্র নগরী মক্কা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফায় হাজির হয়ে সুউচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করবেন, ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক; লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক; ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক; লা শারিকা লাক’।

অর্থ : ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির; তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার; তোমার কোনো শরিক নেই।’

ঢাকার আশকোনায় অবস্থিত হজক্যাম্প থেকে বিমানবন্দরের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৭৭ বিজি ১০৭৩ ফ্লাইটে সকাল পৌনে ১০টায় আমাদের যাত্রা শুরু হয় জেদ্দার পথে। যেহেতু আমাদের গন্তব্য পবিত্র নগরী মক্কায়, তাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পন্নের পূর্বেই আশকোনার হজক্যাম্পে ইহরামের কাপড় পরিধান, নামাজ আদায় এবং সংক্ষিপ্ত দোয়া করে নিলাম।

কারণ জেদ্দায় পৌঁছার আগেই আমাদের নির্ধারিত মিকাত অতিক্রম হয়ে যাবে। মিকাত অতিক্রম করার পূর্বিই ইহরাম বাঁধতে হয়। তাছাড়া বিমানে ইহরাম বাঁধতে এবং পরিধেয় কাপড় পরিবর্তন করে ইহরামের কাপড় পরিধানে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া তা দেখতেও দৃষ্টিকটু।

ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে আমাদের বহনকারী বিমানের ফ্লাইট জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করে স্থানীয় সময় বেলা ৩টায়। যেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে তিন ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান। আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত হজ টার্মিনালে। বিশাল টার্মিনাল, চারদিক খোলা। এ টার্মিনাল শুধু হজযাত্রীদের জন্য ব্যবহার হয়।

আনন্দের বিষয় হলো- এই হজ টার্মিনালের স্থপতি একজন বাংলাদেশি। এফ আর খান নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের সিয়ার্স টাওয়ারের স্থপতি ফজলুর রহমান খান। হজ টার্মিনালে সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকরাও হজযাত্রীদের সেবায় আন্তরিকভাবে নিয়োজিত।

বাংলাদেশ থেকে আসার সময় আশকোনা হজক্যাম্পের প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সৌদি মুদ্রা এন্ডোর্স করে আসার সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সহজে সৌদি আরবের মোবাইল কোম্পানির সিম সংগ্রহে একটি কুপন দেয়, যা এ হজ টার্মিনালে থাকা মোবাইল কোম্পানির ছয়টি বুথের যে কোনোটিতে দেখালেই ৫ রিয়াল টক-টাইমসহ ফ্রি সিম সরবরাহ করে। ফলে সহজেই দেশের সঙ্গে যোগাযোগে বিশেষ সুবিধা হয়।

দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর সুস্থ ও সুন্দরভাবে জেদ্দা হজ টার্মিনালে পৌঁছে হজযাত্রীরা দেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কুশলবিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

হজযাত্রীদের জন্য এ টার্মিনালে রয়েছে ইমিগ্রেশন কাউন্টার। ইমিগ্রেশন পুলিশ হজের ভিসা দেখে ছবি ও আঙুলের ছাপ নিয়ে আমাদের পাসপোর্টের নির্দিষ্ট পাতায় সিল মারে। এ সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই হজযাত্রীদের মালামাল বেল্টে চলে আসে।

হজযাত্রীদের সহযোগিতায় সেখানে আরো রয়েছে মুয়াল্লিমদের কাউন্টার। যারা হজযাত্রীদের সুষ্ঠুভাবে পবিত্র নগরী মক্কার নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়া, খাওয়া-দাওয়াসহ হজের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। যাদের রয়েছে নির্দিষ্ট নম্বর। আমাদের মু্য়াল্লিম নম্বর ২২।

হজ টার্মিনালের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে লাল-সবুজ পতাকা অনুসরণ করে আমরা পৌঁছে গেলাম হজ টার্মিনালে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ প্লাজায়’।

এ হজ কার্যালয়ে কর্মরত সবাই বাংলাদেশি। তথ্যসেবা, চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি পাসপোর্ট বা হজযাত্রী নিয়ে কোনো সমস্যা হলে প্রশাসনিক দলের সদস্যরা তা সমাধান করে দেন।

বাংলাদেশ প্লাজায় হজযাত্রীদের সেবা
প্রতি বছরের ন্যায় এবারো এখানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হজযাত্রীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য, খাদ্য, পানিসহ নানা ধরনের সেবা দিচ্ছে। আশকোনার হজক্যাম্পেও সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক অস্থায়ী কার্যালয় খুলে হজযাত্রীদের নানা ধরনের সেবা দিচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) হজক্যাম্পে সহায়তা ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র খুলেছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। আল্লাহ তাআলা সকল সেবাদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে উত্তম কল্যাণ দান করুন।

বিশেষ করে পুরো বিশ্ব থেকে আগত সকল হজযাত্রীকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হজের কার্যক্রম আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।






মন্তব্য চালু নেই