মেইন ম্যেনু

‘আল্লাহু’ লেখা আংটি ছয় শত বছর পর প্রাচীন কবর থেকে উদ্ধার

সুইডেনের প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র বির্কায় ৯ম শতাব্দীর একটি কবর থেকে একটি আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই আংটিতে আরবি হরফে লেখা ছিল, “আল্লাহ’র উদ্দেশে”।

কবরটি খনন করেন সুইডেনের বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক জালমার স্টলপে। তিনি জানান, ৯ম শতাব্দীর প্রাচীন কবর খনন করে এক ভাইকিং মহিলার দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার স্থানীয় পোশাক পোষাক পরিহিতা ঐ মহিলার তার হাতে একটি আংটি ছিল। সেই আংটিতেই এই লেখাটি পাওয়া যায়।

জালমার স্টলপে ধারণা করছেন, ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেউ এই আংটি তাকে উপহার দিয়ে থাকতে পারেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, এই আংটি ঐ মহিলা ছাড়া আর কেউ ব্যবহার করেনি।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপার তৈরি ওই আংটিতে যে খুফিক আরবি লেখা রয়েছে ৮ম থেকে ১০ম শতাব্দীতে এই লেখার প্রচলন ছিল। আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে (স্ক্যান্ডিনেভিয়া) এটিই একমাত্র আরবি নিদর্শন।

স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সেবাস্টিয়ান ওয়ার্মল্যান্ডার এবং তার সহকর্মীরা বলেন, ভাইকিংদের সঙ্গে আব্বাসীয় ব্যবসায়ীদের সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। এই আংটি তারই প্রমাণ বহন করে। তারা আরও বলেন, এমন হতে পারে, ওই নারী কিংবা তার কোনো ঘনিষ্টজন আরব ভূখণ্ড সফর করেছিলেন, অথবা তাদের কেউ ঐ অঞ্চল থেকে এসেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভাইকিংদের রূপার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল। ২০০৮ সালে আবুধাবির ন্যাশনাল সংবাদপত্রে ইতিহাসবিদ ফারহাত হুসেইন এক নিবন্ধে লিখেছেন, ভাইকিংরা রূপার প্রতি যতটা আকর্ষণবোধ করতো, সোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ততটা ছিল না। ভাইকিং নারী কিংবা পুরুষের জন্য রূপা ছিল সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তির প্রতীক। তারা মৃতদেহের সঙ্গে রূপার অলঙ্কারও কবর দিতো।

তথ্যসূত্রঃ ওয়াশিংটন পোস্ট






মন্তব্য চালু নেই