মেইন ম্যেনু

আশরাফুলের সঙ্গে খেলায় শাস্তির মুখে সানী-নাদিফ !

আমেরিকায় ক্রিকেটের প্রসারে কাজ করছে অনেক বাংলাদেশের নাগরিক। স্পট ফিক্সিংয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই তালিকায় যোগ হয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য মিশিগানে ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছরই আয়োজন করা হয় ‘ডাইভারসিটি কাপ’। যেখানে অংশ নেয় এশিয়ার তিন দেশ- ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকাও। এছাড়া রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়দের একটি দল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কানাডা, বিশ্ব একাদশ এবং এশিয়ান একাদশ।

গত দুই বছর ধরে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রে এই টুর্নামেন্ট খেলে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ টাইগার্স একাদশ নামে দলটিতে এবার মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে খেলছেন ইলিয়াস সানী, নাদিফ চৌধুরী, তাপস বৈশ্য ও শাকের আহমেদ।

ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোন থেকে অনেক ভালো কাজ করছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু তার গায়ে লেগে আছে কালিমা। ফিক্সিংয়ে যুক্ত হয়ে আশরাফুল শুধু নিজের গায়ে কালিমা লাগাননি পুরো জাতিকে ঘৃণিত করেছেন। অবশ্য দেশবাসীর সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। শাস্তিও পেয়েছেন, যেই শাস্তি শেষ হচ্ছে ২০১৬ সালের আগস্টে। এর আগ পর্যন্ত আশরাফুল কিন্তু ‘দোষী’।

এদিকে ‘দোষী’ ক্রিকেটারের সতীর্থ কিংবা প্রতিপক্ষ হয়ে খেলা কতটুকু যৌক্তিক? ইলিয়াস সানী ও নাদিফ চৌধুরী বিসিবির চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার। বিসিবির কোষাগার থেকে প্রতিমাসে বেতনও পেয়ে থাকেন এই দুই ক্রিকেটার। জাতীয় ক্রিকেট লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগসহ প্রতিটি লিগেই এই দুই ক্রিকেটার নিয়মিত অংশ গ্রহণ করছেন। তারা কি করে দোষী আশরাফুলের সঙ্গে একই দলে খেলছেন? ক্রিকেটাঙ্গণে প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে গত দুদিন ধরে।

প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে জানা গেলে, বিসিবির চুক্তিভুক্ত এই দুই ক্রিকেটার বিসিবি`র অনাপত্তিপত্র (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ছাড়াই মিশিগান খেলতে গিয়েছেন! অনাপত্তিপত্র ছাড়া খেলতে যাওয়ার কারণে নিশ্চিতভাবে বিসিবির কোড অব কনডাক্ট` বা আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন সানী ও নাদিফ!

এর আগে ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগে অনাপত্তিপত্র ছাড়া খেলতে যাওয়ার কারণে সাকিব আল হাসানকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সানী ও নাদিফের কপালে কি আছে তা সময়ই বলে দিবে!

বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন চৌধুরীর ভাষ্য, ‘আমাদের চুক্তিভুক্ত যেসব ক্রিকেটার বোর্ডের অনুমতি কিংবা এনওসি ছাড়া অনুমোদনহীন ক্রিকেট খেলছে, বোর্ডের নীতি অনুযায়ী তাদের বিপক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আশরাফুলের অংশ গ্রহণ নিয়েও যথেস্ট প্রশ্ন আছে? ২০১৪ সালের ১৮ জুন আশরাফুলের রায় দেন ট্রাইব্যুনালের আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম। রায়ে বিচারপতি জানান, ‘আশরাফুল বিশ্বের কোথায় অনুমোদিত কোনো ক্রিকেট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।’ সেক্ষেত্রে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আশরাফুলের জন্যে কতটা যৌক্তিত তাও প্রশ্নবিদ্ধ।

তবে টুর্নামেন্টে আশরাফুলের অংশগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজী হননি ক্রিকেট বোর্ডের উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে নিজামউদ্দিন সুজন বলেন, ‘আশরাফুলের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে এখতিয়ার মধ্যে। কিন্তু টুর্নামেন্ট বা ম্যাচে অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাদের বিচারব্যবস্থা বাইরে। যেই টুর্নামেন্ট হচ্ছে ওটা অনুমোদিত হোক বা না হোক আমাদের মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমাদের আগে বুঝতে হবে এটা অনুমোদিত কোনো টুর্নামেন্ট কি না? অথবা এটি পাড়ার টুর্নামেন্ট কিনা তাও আমাদের আমরা খুঁজে বের করতে হবে?’






মন্তব্য চালু নেই