মেইন ম্যেনু

আয় কম হলেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

মাথাপিছু আয় কম হলেও বর্তমানে মানব সম্পদ উন্নয়নের মানদণ্ডে ভারত-পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ যথাক্রমে ৪ ও ৫ ধাপ উপরে রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু, স্বাস্থ্য, শিশু মৃত্যুহারসহ কয়েকটি সূচকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় ভালো। এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিউম্যান ডেভলেপমেন্ট রিপোর্ট অফিসের (এইচডিআরও) ডিরেক্টর প্রফেসর ড. সেলিম জাহান।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ওয়ার্ক ফর হিউম্যান ডেভলেপমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম জাহান তার এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছর; যেখানে ভারতের মানুষের গড় আয়ু ৬৩ বছর। ২০১৪ সালের প্রেক্ষাপটে, স্থূল মৃত্যু, সব বয়সী শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশে প্রতি হাজারে এক বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। আর জীবিত জন্ম হয়, কিন্তু এক মাস বয়স হওয়ার আগেই মারা যায়, এমন নবজাতকের সংখ্যা প্রতি হাজারে গ্রামে ২১ আর শহরে ১৯। একইভাবে এক থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতি হাজারে ৯ শিশু মারা যায়। আর এক থেকে চার বছর বয়সীদের মধ্যে এ সংখ্যা হাজারে দুই। পাঁচ বছরের নিচে প্রতি হাজারে গড়ে ৩৮ শিশু মারা যায়। অন্যদিকে সন্তান জন্মদানের সময় প্রতি এক লাখ মায়ের মধ্যে ১৯৩ জন প্রসবজনিত জটিলতার কারণে মারা যান। আর একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এক বছরে এক হাজারের মধ্যে গড়ে ৫ দশমিক ২ জন মারা যান।

এই প্রফেসর তার বক্তৃতায় বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি যাদের ভালো তারা অনেক এগিয়ে যাবে। এ বিচারে বাংলাদেশের অবস্থানও ভালো, দেশটি ভালো করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ে কাজ করলে হবে না। দুটি বিষয়ে টার্গেট করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে; যার একটি মূল্যস্ফীতি, অন্যটি হলো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। তাহলেই দেশে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে। এছাড়া দেশে জলবায়ু মোকাবিলা নিয়ে কাজ করাটাও অর্থনীতির একটি অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, আমরা মূদ্রানীতিতে অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই শব্দ দুটো যোগ করেছি। সেগুলোকে নিয়ে যথার্থভাবে কাজ করছি। মূল্যস্ফীতি থেকে সরে না গিয়ে আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করেছি ইনক্লুসিভ গ্রোথ। সরকারকে সহযোগিতা করছি। যদিও জানি না আমাদের দেশের কর্মসংস্থানের সঠিক পরিসংখ্যান, তবে এ বিষয় দুটি নিয়ে কাজ করার ফলে আমরা দেখেছি, এখন মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে। গ্রামের মানুষগুলো সবাই কাজ করছে। সব মিলিয়ে আমাদের যে গ্রোথ রেট তা ভালো। কারণ এটা গুনগতমানের।

কর্মসংস্থানের বিষয়ে গভর্নর বলেন, আমরা দেশে উদ্যোক্তা তৈরি করতে অনেকদিন ধরেই সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে এডিবির নতুন একটি ফান্ড আসছে, যা দিয়ে আমরা ১০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছি। এসব দিয়ে আমরা আশা করছি, আমাদের অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দেশের সার্বিক চেহারায় একটি ব্যপক পরিবর্তন আসবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরুপাক্ষ পাল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার আল্লাহ মালিক কাজেমী, ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর, নাজনীন সুলতানা ও আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।






মন্তব্য চালু নেই