মেইন ম্যেনু

ইউপি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে তেলেসমাতি!

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলো। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এক সাথে সারা দেশে ৪ হাজার ২৭৫টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই তফসিল ঘোষণায় নেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)! নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ নিজের মতো করে তারিখ ঘোষণা করলেন। এমনকি অন্যান্য কর্মকর্তারাও বিষয়টি জানতেন না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

শুধু তা-ই নয়, নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর জাতীয় সমাবেশে যোগ দিতে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই সকালে সিইসির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনারদের বৈঠকে ভোটের জন্য ছয়টি দিন চূড়ান্ত করা হয়।

এরপর আজই তফসিল ঘোষণা করা হবে কি না এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব শুরু হয়। ইসি সচিব চাইছিলেন তিনি আসার পর তফসিল ঘোষণা করা হোক। কিন্তু কমিশনাররা মনে করছেন, দিন যেহেতু চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করতে আর সমস্যা কোথায়। এর মধ্যে ব্রিফ করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হতে থাকে। মিডিয়া সেন্টারটি সে অনুযায়ী প্রস্তুতও করা হয়।

কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা নিশ্চিত করতে পারেননি তফসিল দেয়া হচ্ছে কি না।

সাংবাদিকরাও কমিশনার ও কর্মকর্তাদের খুঁজছিলেন এই তথ্য নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু কেউ কথা বলতে চাচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে কমিশনার শাহনেওয়াজের কাছে গেলে তিনি নিজের মতো করে ব্রিফ করে ফেলেন। অথচ ওই সময় সিইসি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

একটি সাধারণ নির্বাচনের তফসিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘোষণা করবেন এমনটাই রীতি ইসিতে। তফসিল ঘোষণার আগে গণমাধ্যমকে জানানোরও রেওয়াজ রয়েছে।

কিন্তু বেলা ১টার পরও কোনো ধরনের নিশ্চয়তা না পেয়ে অপেক্ষমাণ গণমাধ্যমকর্মীরা নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজের কার্যালয়ে যান।

বেলা দুইটার পরে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ইউপি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ছয়টি ধাপে ভোট করার জন্যে দিন চূড়ান্ত করেছি। স্থানীয় পর্যায়ে ভোটের বিস্তারিত (মনোনয়ন দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহার) সময়সূচি দেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।’

নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ ইউপি ভোটের তারিখ দেয়ার পর সিইসি একান্ত সচিবকে তার কক্ষে যেতে দেখা যায়।

ইসির অনেকেই তখনো জানতেন না ভোটের তারিখ গণমাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, আমরা জানি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশজুড়ে সব ইউপির ভোটের তারিখগুলো জানাবেন ব্রিফিংয়ে। ইসির মিডিয়া সেন্টারেও সেরকম প্রস্তুতি ছিল। এক নির্বাচন কমিশনার গণমাধ্যমে কথা বলায় ‘বেকায়দায়’ পড়েন সিইসি।

সিইসি তফসিল দেয়ার জন্য প্রস্তুতও ছিল। কিন্তু তা করতে পারলেন না তিনি। ইউপি ছোট হলেও সারাদেশের স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল সিইসি দিতে পারেননি; এটাও একটা নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানান কর্মকতারা।

এদিকে ইউপি ভোটের তফসিলসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও ছিল সমন্বয়হীনতা।

প্রথমধাপে ৭৫২টি ইউপির ভোট হবে জানানো হলেও এ তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে ৫টা ৪৫ মিনিটে। এসব ইউপির ভোটার সংখ্যা কত, পদ কতটি ও ক’টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে তাও জানানো হয়নি।

পরে ইসি’র জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামানই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রথম ধাপের ভোটের বিস্তারিত সময়সূচি গণমাধ্যমকে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আসলেই কি তফসিল দেয়া হয়েছে? সব সময় দেখে এসেছি বড় নির্বাচনের তফসিল সিইসি দেন। বৃহস্পতিবারের মতো ইউপি’র তফসিল না দেয়ার নজির আগে কখনো দেখিনি।’






মন্তব্য চালু নেই