মেইন ম্যেনু

ইঞ্জিনিয়ারের খামখেয়ালিতে প্রাণ গেল ২৮ জনের!

প্রকৌশলীর খামখেয়ালি মাতব্বরির কারণেই কলকাতার উড়ালসড়কটি ধসে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে এখনো চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনা কবলিত কলকাতার পোস্তায় বিবেকানন্দ উড়ালসড়কের এক নির্মাণশ্রমকি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাত্‍‌কারে দাবি করেন, এক ইঞ্জিনিয়ারের তাড়াতেই রাতারাতি তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঢালাই করতে বাধ্য হন। তার জোরাজুরিতেই যেখানে ৮ ইঞ্চি ঢালাই হওয়ার কথা, সেখানে ১১ ইঞ্চি পুরু ঢালাই হয়েছিল। এই অতিরিক্ত ভার নিতে না পেরেই উড়ালসড়কটি ধসে পড়ে।

ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, তিনি উড়ালসড়কটি নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপি নিয়েছেন।

ওই নির্মাণশ্রমিকের জোরালো দাবি, উড়ালসড়কের খাঁচা বাঁধায় (রডের খাঁচা) কোনো ত্রুটি ছিল না। ইঞ্জিনিয়ার তাড়াহুড়ো না করলে, এমন অঘটনও ঘটত না।

তবে পরিকল্পনার বাইরে তিন ইঞ্চি বেশি পুরো ঢালাই দিতে কেন বললেন সেই ইঞ্জিনিয়ার এর কোনো উত্তর দিতে পারেননি ওই শ্রমিক। ইঞ্জিনিয়ারের নামটিও অবশ্য তার জানা নেই।

এদিকে শনিবার বর্ধমানের একটি এলাকা থেকে ফিরোজ নামে এক ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পোস্তার ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কেএমডিএ-র এক কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়ারকেও দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের নয় দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ৬ জন আটকও হয়েছে।

শনিবার সকালে উড়ালসড়কের ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে সরকারি ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮। দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে যাওয়ায়, ঝুলে থাকা ব্রিজের ভাঙা অংশ থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করেছে। আশাপাশের বাড়িঘর খালি না-হওয়া পর্যন্ত, উড়ালপুলের ভাঙা অংশও সরানো যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া






মন্তব্য চালু নেই