মেইন ম্যেনু

ইতালীয় হত্যায় আটক ৪, খুনিরা ভাড়াটে

ভাড়াটে ‘কিলার’ দিয়েই ঢাকার কূটনৈতিকপাড়ায় ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজারকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এজন্য কিলারদের একটি সম্ভাব্য তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হচ্ছে না।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা পেশাদার কিলার গ্রুপের সদস্যদের একটি তালিকা করেছে। তাভেল্লা সিজারকে ভাড়াটে কিলাররা খুন করতে পারে এই ধারণা থেকে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। খোঁজ নেয়া হচ্ছে অস্ত্রের উৎসের বিষয়েও।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সদৃশ পাঁচটি মোটরসাইকেল শনাক্ত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সিসি ক্যামেরার অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজের কারণে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে ওই পাঁচটি মোটরসাইকেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে তাদের। ওই পাঁচ মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে আটকও করেছে। তাদের ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ সংক্রান্ত তেমন কোনো তথ্য জানাচ্ছেন না।

ঢাকায় ইতালির এই নাগরিক হত্যার মাত্র ছয়দিনের মাথায় রংপুরের মাহিগঞ্জে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি নাগরিক ওসি কনিওকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতালির নাগরিক সিজার ও জাপানের নাগরিক হোসি কনিও হত্যার ধরন প্রায় একই রকম। দুটি ঘটনার মোটিভও একই রকম বলে মনে হচ্ছে। এক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরেকটির যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬৫ বছরের হোসি কনিও একজন বয়স্ক নাগরিক। তিনি রংপুরে বসবাস করে নানা কৃষি কর্মকাণ্ডে সময় পার করেন। তার এখানে খুন হওয়ার মতো শত্রু থাকার কথা নয়। একইভাবে তাভেল্লা সিজারও দরিদ্র বাংলাদেশীদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কাজ করছিলেন। ফলে এ দুই হত্যাকাণ্ড কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে হত্যা রহস্যের জট খোলার চেষ্টা করছেন। হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ৬ জন সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) দল হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য নানা কারণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি কাজে লাগানো হচ্ছে গুপ্তচরদের। কিছু ক্লু পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের মোবাইলের কললিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুনিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এজন্য কিছু সময় লাগবে। রহস্যের জট খুললেই সব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।






মন্তব্য চালু নেই