মেইন ম্যেনু

ইতির সুরেলা কণ্ঠে যাদুর ছোঁয়া

উদীয়মান শিল্পী ইতি বড়ুয়া প্রত্যাশা। স্বপ্ন পড়ালেখার পাশাপাশি একদিন সে বড় গায়িকা হবে। সে লক্ষ্যে গানের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ইতি তার সুরেলা কন্ঠের জাদুতে বিমোহিত করেছে একাধিক অনষ্ঠানে। স্পষ্ট কন্ঠের কারনে তার কন্ঠে যে কোন গান আলাদা মাত্রা সৃষ্টি করে। ইতির প্রতিভার কথা সবার মুখে মুখে।

যে তার গান শুনেছে সেই মুগ্ধ হয়েছে। হয়তো তার সামনে অনেক কিছু অপেক্ষা করছে আগামীতে। উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের বড়ুয়া পাড়া গ্রামে ক্ষুদে শিল্পী ইতির জন্ম। পিতা উত্তম কুমার বড়–য়া জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা রত্মা বড়ুয়া মিরসরাই পল্লী বিদ্যুত অফিসে চাকুরীরত। এই দম্পত্তির তিন কন্যার মধ্যে ইতি সবার ছোট। বাবা মায়ের আগ্রহ এবং পারিবারিক আবহ এই দুয়ে মিলে ইতি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে প্রবেশ করে। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি অনুরাগ ছিল।

হারমোনিয়ামে সুর তুলতে শিল্পী সঞ্জিত নাথের এর সাহচর্যে আসেন ইতি। সুরের আবেশে ডুবে থাকা ইতি চলতি বছর আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় সংগীত প্রতিযোগিতায় সারাদেশে তৃতীয় স্থান লাভ করার গৌরব অর্জন করেছে। মিরসরাইয়ে বিজয় মঞ্চ, একুশ মঞ্চ, স্বাধীনতা মঞ্চে নিয়মিত গান করেছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে গত বছর শিশু একাডেমির সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ও শিল্পকলা একাডেমির সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সংগীতকে হৃদয়ে ধারণ করে ইতি এগিয়ে যেতে চায় লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের মত। আর কর্মজীবনে হতে চায় চিকিৎসক । শান্ত ও মেধাবী শিল্পী ইতি মিরসরাই এস এম মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন জীবনের প্রথম স্টেজে স্কুলে বার্ষিক সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ছড়াগানে দ্বিতীয় হওয়ার মধ্যে দিয়ে কৃতিত্বের সূচনা। এরপর থেকে আর পিছে ফেরা নয়। পেয়েছেন অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা। বিভিন্ন মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করে বহু প্রশংসা কুড়িয়েছে এই শিল্পী।

এ ব্যাপারে ইতি বড়ুয়া প্রত্যাশা বলে, সবেমাত্র ৫পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ছি। মা বাবার উৎসাহে গানটাও চালিয়ে যাচ্ছি। সবার প্রসংসা শুনে ভাল লাগছে। তবে আমি এখন গানকে পেশা হিসেবে নিতে চায়না। পড়ালেখার ফাঁকে গান শিখছি। মিরসরাই এস এম মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল হক বলেন, স্কুলের কোন অনুষ্ঠান হলে মুল আকর্ষন ইতি বড়ুয়া। সারাদেশের তৃতীয় স্থান অর্জন আমরা সত্যিই গর্বিত। আসলে মেয়েটির কন্ঠ অসম্ভব সুরোলো। আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যাালয় সংগীত প্রতিযোগিতায় লালন গীতিতে সারাদেশের তৃতীয় স্থান অর্জন করায় আমরা সত্যিই গর্বিত।

ইতির ওস্তাদ সংগীত প্রশিক্ষক সঞ্জিত নাথ বলেন, ইতি সম্ভাবনাময একটি কন্ঠ। তার সুরোলো কন্ঠ বিধাতা প্রদত্ব। ভরাট গলার অধিকারী ও স্পষ্ট উচ্চারনের কারনে ইতির কণ্ঠে যে কোন গান আলাদা মাত্রা সৃষ্টি করে। ইতির আত্মবিশ্বাস আছে। কণ্ঠও মধুর। আশাবাদী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

ইতি বড়ুয়া বাবা উত্তম কুমার বড়ুয়া ও মা রত্মা বড়ুয়া জানান, ছোট বেলা থেকে ইতি গানের প্রতি আকৃষ্ট। পরিবারের ইচ্ছে সংগীতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের জন্য অবদান রাখবে। ইতির পরিবারের এমন প্রত্যাশা পূরণ হবে এটি আমাদেরও কাম্য।






মন্তব্য চালু নেই