মেইন ম্যেনু

ইতিহাস কুখ্যাত পাঁচ জলদস্যু নারী

জলদস্যুদের নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। সর্বশেষ পশ্চিমা চলচ্চিত্র জগত ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ নামে একটি সিরিজ চলচ্চিত্র তৈরি করে জলদস্যুদের উপর। যদিও ওই চলচ্চিত্রে জলদস্যুদের সত্যিকারের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেয়ে ভিন্নমাত্রার এক চরিত্র কাঠামো আরোপ করা হয়েছে। তারপরেও এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, গোটাবিশ্ব জুরেই এই সিরিজ চলচ্চিত্রটি বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। সেখানে আমরা দেখতে পাই, জলদস্যুদের জাহাজে কোনো নারী থাকাকে দেখানো হচ্ছে জাহাজের অমঙ্গল হিসেবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জলদস্যুদের সেই উত্থাল সময়েও এমন কয়েকজন জলদস্যু নারী ছিল যারা শুধু দস্যুবৃত্তির জন্যই পরিচিত লাভ করেনি, বরংচ তাদের নৃসংশতা অনেক জলদস্যু পুরুষকেও হারা মানায়। ইতিহাসের সেই অচর্চিত অংশ থেকে তেমনি পাঁচ জলদস্যু নারীর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

2015_09_23_18_12_43_X1wnFLj9WsxAPeR6eCt3lYrGSzZcBu_original

চেং ই সাও
চীনের এক যৌনপল্লী থেকে যাত্রা শুরু হয় এই কুখ্যাত জলদস্যুর। ১৮০১ সালের দিকে চেং নামের এক জলদস্যুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর এই দলটি রাতারাতি চীনের অভ্যন্তরে এক শক্তিশালী জলদস্যু বাহিনী গঠন করে। তাদের এই বাহিনীতে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার জলদস্যু এবং শতাধিক জাহাজ ছিল। বিশেষ করে মাছধরা নৌকা, রসদ সরবরাহকারী জাহাজ এবং দক্ষিণ চীনের উপকূলবর্তী গ্রামগুলোতে নারকীয় অভিযান চালাতো তারা। ১৮০৭ সালে স্বামী মারা গেলে চেং ই সাও তার জাহাজের এক লেফট্যানেন্ট প্রেমিকের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে তারা দস্যুবৃত্তি চালায়। এই জলদস্যু নারীর আমলে গোটা এশিয়ার মানচিত্রে বিপুল রক্তপাত হয়, যে কারণে চীন সরকার তাদের প্রথম এবং একমাত্র শত্রু হিসেবে এই দলটির নাম তালিকাভূক্ত করে। শুধু তাই নয় পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীও এই জলদস্যু বাহিনীর আক্রমনে তটস্থ থাকতো। তবে শেষমেষ তাকে গ্রেপ্তার বা হত্যা কোনোটাই করতে পারেনি চীন সরকার। ৬৯ বছর বয়সে মারা যান চেং ই সাও।

2015_09_23_18_12_48_iYe22S3A32bffCV6z9JjsfkE1Xwi8K_original

অ্যানি বনি
এক ধনী আইরিশ আইনজীবির মেয়ে ছিলেন অ্যানি বনি। বয়সের তুলনায় শারীরিক বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় বাবা মেয়েকে ছেলেদের পোশাক পরিয়ে নিয়ে গেলেন আদালতে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করানোর জন্য। সেখান থেকে বনি পরবর্তী সময়ে আমেরিকা যান এবং সেখানে ১৭১৮ সালে এক নাবিককে বিয়ে করে জলদস্যু অধ্যুষিত অঞ্চল বাহামায় চলে যান। বাহামায় যাওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই নিজের স্বামীকে ত্যাগ করে জ্যাক র‌্যাকামের দলে নাম লেখান তিনি। ইতিহাসে বনিকে খুবই হিংস্র এবং বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। বনি কোনো মানুষকে আহত করার জন্য প্রহার করতেন না, তিনি প্রহার করতেন নিশ্চিত হত্যার জন্য। এভাবেই একদিন তার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় অপর এক জলদস্যু নারী মারি রীডের সঙ্গে। এই দুই জলদস্যুর মিলিত অভিযানে ১৭২০ সাল পর্যন্ত আশেপাশের অঞ্চলের মানুষ বেশ তটস্থ ছিল। ক্যালিকো জ্যাকের জাহাজ জলদুস্য শিকারীদের হাতে আটক হলে জাহাজের সবাইকে হত্যা করা হলেও, সকলের চোখের সামনে থেকে ফসকে যান এই দুই নারী। কারণ ততদিনে এই দুই নারী অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন।

2015_09_23_18_13_40_hMkvutQ7FnXlBEvSApcVAZktRINlcO_original

ম্যারি রীড
ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহনকারী এই নারী তার যৌবনের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন সৎ ভাই ও অভাবী মায়ের সঙ্গে। পরবর্তীতে পুরুষের সাজে একটি জাহাজে খালাসির কাজ নেন তিনি এবং একটা সময়ে মার্চেন্ট নাবিক পর্যন্ত হয়ে যান তিনি। ১৭১০ সালের দিকে তাদের জাহাজে জলদস্যুরা আক্রমন করলে বন্দী হিসেবে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই জাহাজটি ছিল ক্যালিকো জ্যাক রাকামের। আর সেখানেই তিনি মিলিত হন অ্যানি বনি নামের আরেক জলদস্যু নারীর সঙ্গে। রীড অবশ্য খুব বেশি একটা অভিযানে অংশগ্রহন করেননি। তবে ক্যালিকো জ্যাকের সঙ্গে যে কয়বার তিনি বের হয়েছিলেন, সেই সময়ের মধ্যেই তার সাহসিকতার নিদর্শন পাওয়া যায়। যদিও জলদস্যু শিকারীদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদী জ্বরের কবলে মারা যান রীড।

2015_09_23_18_14_14_smsHeuD9Wm93foWL6NeD1qZdbPYl6d_original

গ্রেস ও মেলি
সেই সময়কার কথা বলছি, যখন নারীদের ঘরের বাইরে কল্পনাই করা যেত না। নারীরা যে শিক্ষা গ্রহন করবে সেই আমলে এই ধারনা সমাজের চোখে ছিল রীতিমতো ভয়ংকর। কিন্তু সেই আমলেই গ্রেস ও মেলি ২০টি জলদস্যু জাহাজের নেতৃত্ব দিয়ে রীতিমতো ব্রিটিশ রাজবংশের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। চুল ছোট করে ছাটা মেলির জন্ম হয়েছিল পশ্চিম আয়ারল্যান্ডের এক শক্তিশালী গোত্রে। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক পেশা জলদস্যুবৃত্তিতে নাম লেখান তিনি এবং ক্ষমতা গ্রহনের পর স্প্যানিশ এবং ব্রিটিশ আধিপত্যবাদিতার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। তার সম্পর্কে এমনও শোনা যায় যে, সন্তান জন্ম দেয়ার পরদিনই অস্ত্র হাতে নেমেছিলেন যুদ্ধে। তবে ১৫৭৪ সালে তাকে রকফ্লিট ক্যাসেলে বন্দী করে রাখা হয় ১৮ মাসের জন্য। কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর সেই আগের পেশাতেই ফিরে যান তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের সন্তানদের নিয়ে দস্যুবৃত্তি করে গেছেন তিনি।

2015_09_23_18_14_05_nPz9ReaQ7MqfbpfpIM7TgilcAJc0Yt_original

র‌্যাচেল ওয়াল
র‌্যাচেল ওয়াল সম্পর্কে অনেক গল্পই চালু আছে আমেরিকায়। যদিও ধারণা করা হয় র‌্যাচেলের অপকর্ম ঢাকার জন্যই অনেক গল্প চালু করা হয়েছিল। তিনিই প্রথম আমেরিকান নারী যিনি দস্যুবৃত্তিতে নাম লেখান। শৈশবেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান র‌্যাচেল এবং একটু বয়স হলে এক মৎসজীবিকে বিয়ে করে নাম ধারন করেন জর্জ ওয়াল। কিন্তু অর্থাভাবে সংসার জীবন অতটা ভালোভাবে চলছিল না, তাই একদিন কয়েকজনকে নিয়ে এই দম্পতি একটি নৌকা নিয়ে সাগরে ডাকাতি করতে শুরু করেন। সদস্য সংখ্যা কম এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় বিভিন্ন কৌশলে তাদের এই কাজ চালাতে হতো। ১৭৮২ সালের দিকে এক শক্তিশালী ঝড়ে তাদের নৌকা ধ্বংস হয়ে যায় এবং স্বামী জর্জ মারা যায়। এরপর ১৭৮৯ সালে এক নারীকে লুটপাট করার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। পরবর্তী সময়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই