মেইন ম্যেনু

ইতিহাস গড়তে চলেছেন কোহলি

বিরাট কোহলিকে কি কেউ আটকাতে পারবেন? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে উত্তরটা ‘না’ হওয়াই স্বাভাবিক। যে ব্যাটসম্যান একের পর এক বড় ইনিংস খেলে চলেছিলেন, মাত্র দুই মাস সময়ের মধ্যে টি২০ ক্রিকেটের মতো ক্ষুদ্র ফরম্যাটের খেলায় ৪টি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন, এই সময়ের মধ্যে যার রানের গড় ৯১.৯ এবং যার স্ট্রাইক রেট ১৫২.৪; তাকে আটকাবে এমন সাধ্য কোন বোলারের রয়েছে। বিরাট কোহলি তাই দুর্দান্ত গতিতেই এগিয়ে চলেছেন। একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নেওয়া এই ব্যাটসম্যান এবার চলেছেন ইতিহাস গড়তে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি২০ ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোহলি রবিবার রাতে (২২ মে) আরও একটি হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছেন। তার অপরাজিত ৫৪ রানের ‘ক্যাপ্টেনস নক’ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে পৌঁছে দিয়েছে আইপিএলের চলতি আসরের প্লে-অফ পর্বে। লিগ টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে দলটি।

রবিবার রাতের এই হাফসেঞ্চুরির সুবাদে আইপিএলে এই আসরে কোহলির মোট রান দাঁড়িয়েছে ৯১৯। ফলে আর মাত্র ৮১ রান করতে পারলেই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি২০ ক্রিকেটের কোনো একক টুর্নামেন্টে এক হাজার রান করার ইতিহাস গড়ে ফেলবেন ভারতের এই আগ্রাসী ব্যাটিং তারকা। সেই ইতিহাস গড়া তার জন্য খুব কঠিন নাও হতে পারে। কেননা, প্লে-অফ পর্বে দু’টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকছে বিরাট কোহলির দলের সামনে। কোয়ালিফাইয়ার-১ ম্যাচে যদি তারা হেরেও যায় এরপর কোয়ালিফাইয়ার-২ ম্যাচ খেলতে পারবে তারা। সেই ম্যাচ জিতলে আবার ফাইনালে খেলার সুযোগও থাকছে। আকস্মিক কোনো দূর্ঘটনা বা ইনজুরির শিকার না হলে কোহলি ইতিহাসটা গড়েই ফেলছেন বলা চলে।

এদিকে, রবিবারের ওই ইনিংসের সুবাদে আরও একটি রেকর্ড গড়েছেন বিরাট কোহলি। এটি ছিল চলতি বছর (সব ধরনের টি২০ ক্রিকেট মিলিয়ে) তার ১৭তম হাফসেঞ্চুরি। ফলে ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের করা ১৬ হাফসেঞ্চুরির (বা এর বেশি রান) ভেঙে ফেলেছেন কোহলি।

মজার বিষয় হলো, কোহলির ব্যাটে ভর করে এবারের আইপিএলে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আইপিএলের অতীত ইতিহাস কিন্তু বলছে এবার বেঙ্গালুরুই চ্যাম্পিয়ন হবে! কেননা, প্লে-অফ পর্ব চালু হওয়ার (২০১২ সালে) পর এখন অব্দি লিগ টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকা দলগুলোই ওই আসরের শিরোপা জিতেছে। ২০১২ সালে লিগ টেবিলের দ্বিতীয়দল কলকাতা নাইট রাইডার্স শিরোপা জিতেছিল। ২০১৩ সালে একইভাবে শিরোপা জিতেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ২০১৪ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ছিল শীর্ষে। কলকাতা ছিল দ্বিতীয়স্থানে। ফাইনালে এই পাঞ্জাবকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল কলকাতা। ২০১৫ সালে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স শিরোপা জিতেছিল। কোহলির বেঙ্গালুরু পারবে তো সেই ধারা অব্যাহত রাখতে? আশায় বুক বেঁধেছেন বেঙ্গালুরুর ভক্তরা।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই