মেইন ম্যেনু

ইনফ্লামেশন ও পেটের মেদ কমায় যে খাবারগুলো

ইনফ্লামেশন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা দ্বারা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন থেকে আমাদের শরীর রক্ষা পায় ও রোগ নিরাময় করে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, আপনি যখন ঠান্ডায় আক্রান্ত হন তখন আপনার জ্বর আসে, যা মূলত নিরাময়ের জন্য শরীরের প্রদাহজনক প্রক্রিয়ার ফল। কিন্তু যখন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সংকটাপন্ন হয় তখন প্রদাহজনক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অতিরিক্ত সক্রিয়তার ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যখন শরীর ক্রমাগত চাপের মধ্যে থাকে তখন দীর্ঘ মেয়াদী নিম্নমানের ইনফ্লামেশনে ভোগে। ফলে আরথ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস, হার্ট ডিজিজ, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনের মত অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যখন ইনফ্লামেশন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে তখন আপনার এনার্জি অনেক বেশী থাকবে এবং ভালো অনুভব করার পাশাপাশি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পেটের মেদ কমানো উভয়টাই সহজ হবে।

ইনফ্লামেশনে খাদ্য প্রধান ভূমিকা পালন করে। সম্পৃক্ত চর্বি ও চিনি ইনফ্লামেশনকে উদ্দীপিত করে আবার কিছু খাদ্য আছে যারা ইনফ্লামেশনকে সংযত করে। এমনই কিছু চমৎকার খাবারের কথা জেনে নিব আজ যাদের মধ্যে চমৎকার প্রদাহরোধী উপাদান আছে এবং প্রাকৃতিক ভাবে প্রদাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং ব্যথা ও প্রদাহ থেকে স্বস্তি দিতে পারে।

১। ফল

এমন কিছু ফল আছে যারা প্রদাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, শরীর পরিষ্কার করতে এবং পেটে অতিরিক্ত মেদ জমতে বাধা প্রদান করে। তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পুষ্টিগুণ ও ফাইবার সমৃদ্ধ পর্যাপ্ত ফলমূল রাখুন। ফল কাঁচা বা জুস করে বা সালাদের সাথেও ব্যবহার করা যায়। অত্যন্ত কার্যকরী প্রদাহ রোধী ফল হচ্ছে- পেঁপে, সবুজ আপেল, আনারস, স্ট্রবেরি, লেবু, আঙ্গুর ইত্যাদি। স্ট্রবেরি ও লেবুর রসের স্মুদি শরীরের ডিটক্সিফিকেশনে, রক্তের গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে এবং মেদ পোড়াতে চমৎকার কাজ করে।

২। শাকজসবজি

প্রদাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে এমন অনেক শাকসবজি আছে। পুষ্টিবিদরা সব সময় কাঁচা শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন কারন, এর থেকে যে এনজাইম পাওয়া যায় তা হজমে এবং বিপাকে সাহায্য করে। কিন্তু সব শাকসবজি কাঁচা খাওয়া সম্ভব নয়। তাই সিদ্ধ করে বা রান্না করে খেতে হবে। প্রদাহ রোধী কিছু শাকসবজি হল- গাজর, বেগুন, ব্রোকলি, শতমূলী, পালংশাক, কুমড়া, বিট ইত্যাদি।

৩। গ্রিন টি

এই পানীয়টি ত্বকের উন্নতিতে সাহায্য করে, ওজন কমায় সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। চায়ের ফ্ল্যাভনয়েডে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড

গবেষণায় দেখা গেছে যে, উচ্চ মাত্রার ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এবং নিম্ন মাত্রার ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার প্রদাহ কমাতে পরস্পর সম্পর্ক যুক্ত। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার গুলো হচ্ছে- আখরোট, ফ্লেক্সসিড এবং মাছ ইত্তাদি।

৫। মনোসেচুরেটেড ফ্যাট

হৃদপিণ্ডের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় মনোসেচুরেটেড ফ্যাট যা HDL কোলেস্টেরলের স্তরের উন্নতি করে এবং সার্বিক ভাবে ইনফ্লামেশন কমায়। জলপাই তেল, কাঠ বাদাম ও অ্যাভোকাডো হচ্ছে মনোসেচুরেটেড ফ্যাটের চমৎকার উৎস।

৬। মসলা

আদা, রসুন, হলুদ, দারুচিনি এবং মরিচে শক্তিশালী প্রদাহ হ্রাস করার ক্ষমতা আছে। তাই যতটা সম্ভব এগুলো আপনার খাদ্যে যুক্ত করার চেষ্টা করুন।

৭। পানি

আমাদের শরীর থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী টক্সিন বের করে দেয়ার জন্য শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরী। দৈনিক ৬৪ আউন্স পানি পান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। লক্ষ্য রাখবেন প্রতি ৩০ মিনিট ব্যায়ামের জন্য অতিরিক্ত ৮ আউন্স পানি যুক্ত করা প্রয়োজন।

৮। আস্ত শস্যদানা

ফাইবারে সমৃদ্ধ আস্ত শস্যদানা আমাদের শরীরের ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রদাহ সৃষ্টিকারী হরমোন হোমোসিস্টিনকে কমাতে সাহায্য করে আস্ত শস্যদানার ভিটামিন ডি।

মায়ো ক্লিনিক থেকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায় যে, বছরের পর বছর ধরে আপনার বিপাক ক্রিয়া ক্রমেই ধীর হয়ে আসছে। এর অর্থ হচ্ছে আপনার শরীর আগের মত ক্যালরি পোড়াতে পারছেনা। আপনার শরীরের হরমোনাল পরিবর্তনও ইনফ্লামেশন বৃদ্ধি করে। যখন আপনি আপনার শরীরের এই পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন এবং পেটের মেদ কমানোর ইচ্ছা করবেন তখন আপনাকে আপনার খাদ্যাভ্যাসের ও জীবনাচরণের কিছু পরিবর্তন করতে হবে এবং উপরোল্লিখিত খাদ্য সমূহ আপনার খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই