মেইন ম্যেনু

ইভটিজাররা বেপরোয়া, নিরাপত্তা নেই মেয়েদের

সুনামগঞ্জ জেলা শহরে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী থেকে শুরু করে কম বয়সী তরুণীরা প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন ইভটিজিংয়ের। সম্প্রতি এর মাত্রা যেনো আরো বেড়ে গেছে। বখাটেদের উৎপাতে মেয়েরা হয়ে উঠেছেন অতিষ্ট। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

মেয়েরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে নতুবা বাড়িতে ফেরার পথে বেশি ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তবে ইভটিজিংয়ের ধরন পাল্টে বখাটেরা এখন মোটরসাইকেল বেছে নিয়েছে। আর যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেনা তারা সুযোগে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে মেয়েদের গতিরোধ করে নানা কটুক্তি করছে।

সম্প্রতি অনেকেই ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করছেন। প্রতিবেদকের মুঠোফোনে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী শহরের ব্যস্ততম সড়ক হোসেন বখ্ত চত্বর এলাকায় প্রায়ই বখাটেদের উৎপাতের শিকার হচ্ছিলেন এক ছাত্রী।

ঘন ঘন ইভটিজিংয়ের ঘটনায় এ পয়েন্টে ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়েও বখাটেরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

গত সোমবার দুপুরে এমনই একটি চিত্র ধরা পরে ক্যামেরায়। সময় তখন বেলা ১২টা ১৪ মিনিট। শহরের কমরেড বরুণ রায় সড়কের সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে স্কুলটিতে ছিল আনুষ্ঠানিকতা। সকাল থেকেই তাদের নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিল ছাত্রীরা। দুপুরে স্কুলটির তিনজন ছাত্রী হোসেন বখ্ত চত্বর এলাকা হয়ে বাড়িতে ফিরছিল। তারা সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে পৌঁছালে এক বখাটে তাদের গতিরোধ করে দাঁড়ায়। তাদের উদ্দেশ্যে করে নানা ধরনের কটুক্তি করে ওই যুবক। এর কিছুক্ষণ পরেই সে উকিলপাড়া রোডের দিকে চলে যায়। ঘটনাস্থলের কয়েক গজ দূরেই ছিল পুলিশের অবস্থান। তাদের চোখে বিষয়টি ধরা না পরলেও প্রতিবেদকের ক্যামেরাবন্দি হয় ইভটিজিংয়ের বিষয়টি।

এমন ঘটনা ছাড়াও প্রতিদিন বিকেল বেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির সময় এ সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্ট হয়ে উঠে বখাটেদের আড্ডাস্থল। বিশেষ করে কালীবাড়ি মোড়, শিল্পকলা একাডেমি মোড়, মড়াটিলা রোড পয়েন্ট, বিহারি পয়েন্ট, উকিলপাড়া পয়েন্ট, বাধনপাড়া পয়েন্ট ও জামাইপাড়া এলাকায় থাকে বখাটেদের অবস্থান। মোটরসাইকেলে করে তারা কয়েকটি রোডকে ইভটিজিংয়ের জন্য বেছে নেয়।

স্কুল শুরুর আগে ও স্কুল ছুটির সময় তারা সবচেয়ে বেশি যে সড়কগুলো ব্যবহার করে সেগুলো হল জামাইপাড়া রোড, কালীবাড়ী , মমিনুল মউজদীন সড়ক, মহিলা কলেজ রোড, কমরেড বরুণ রায় সড়ক, মড়াটিলা রোড, বিহারি পয়েন্ট থেকে কাজীর পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক ও হোসেন বখ্ত চত্বর থেকে ময়নার পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক। এসব সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে থাকে বখাটেরা।

চিহ্নিত বখাটেরা মোটরসাইকেল নিয়ে মেয়েদের রিকশার পাশে গিয়ে বাজে মন্তব্য করে চলে যায়। উচ্চ শব্দ ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালানো যেন তাদের নিয়মিত কাজ। স্কুলের পাঠদানের প্রারম্ভিক সময় ও ছুটির সময়কে ঘিরে এ সড়কে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলেও পুলিশের সামনে দিয়েই বিকট আওয়াজ তুলে ছুটে চলে বখাটেদের মোটরসাইকেল। তারা পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মেতে ওঠে বখাটেপনায়।

এক ছাত্রীর অভিভাবক সালেহা বেগম বলেন, ‘মেয়েরা স্কুলে যাওয়া আসা করতে বখাটেদের উৎপাতের শিকার হয়। প্রায়ই বাসায় এসে এ কথা বলে, কিন্তু আমরা তেমন কিছু করতে পারি না। হঠাৎ করেই ইভটিজিংয়ের মাত্রাটা বেড়েছে। কিন্তু দিন দিন বখাটেরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদেরকে নির্মূল করতে হবে। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এ ব্যাপারে সঠিক পদক্ষেপ নেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী বলেন, ‘স্কুল থেকে ফেরার পথে শিল্পকলা একাডেমি মোড়ে কিছু চিহ্নিত বখাটেরা আড্ডা দেয়। এছাড়া হোসেন বখ্ত চত্বর, কালীবাড়ি, জামাইপাড়া এলাকায়ও বখাটেরা উৎপাৎ করে। বেশিরভাগ ছেলেরা বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে মেয়েদের বিরক্ত করে। তারা এমনভাবে মেয়েদের দিকে তাকায় যেনো জীবনে তারা মেয়ে দেখেনি। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ইভটিজারদের ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে, হোসেন বখ্ত চত্বরে ইভটিজিং এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং বখাটেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই