মেইন ম্যেনু

ইসরায়েল নিয়ে বিব্রত বন্ধু ভারত!

ভারত-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতা সবাই জানে। ভারত তাদের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য, অস্ত্র বেচাকেনা, কূটনৈতিক লেনদেন ইত্যাদি চালিয়ে যাচ্ছে তথাকথিত মধ্যপন্থার নামে। তবে এবার দেশটির আচরণ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেন খোদ ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

ফিলিস্তিতি ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে একটি অনুষ্ঠান বাতিল করে দিতে হলো রাষ্ট্রপতিকে। আবু দিসের আল কুদস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্মানসূচক ডক্টরেট দেয়ার সময় প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান ছাত্ররা। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভারতের রাষ্ট্রপতিকে ‘নাইট অব পিস’ বলে অভিহিত করে।

প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় এখন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সফর করছেন। এদিকে বর্তমানে প্রতিদিনই ইসরায়েল সেনাদের হাতে ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছে। চলছে ছোটখাট সংঘর্ষ। গতকাল মঙ্গলবারও একাধিক জায়গায় গোলাগুলি ও ছুরি মারার ঘটনা ঘটেছে। যার জেরে অন্তত তিন ফিলিস্তিতির মৃত্যু হয়েছে, আহত বহু।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দু’দিনের ফিলিস্তিন সফর শেষ করে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব। এর আগে ভারতের কোনও রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েল কিংবা ফিলিস্তিন সফরে যাননি।

তবে অনেকের মতে, এই সফরে ভারতের আসল উদ্দেশ্য ইজরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্ধুত্ব জোরদার করা। ফিলিস্তিন সফরটি সৌজন্য মাত্র। ফিলিস্তিনে ঠিক সেই প্রশ্নটারই মুখোমুখি হয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বুধবার আল কুদস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখানো ছাত্রদের প্ল্যাকার্ডে প্রশ্ন উঠেছে, ‘ভারত জবরদখলকারীদের (ইসরায়েল) সমর্থন করছে কেন?’ ‘ইসরায়েলের যে কসাইরা ফিলিস্তিনিদের মারছে, তাদের সম্পর্কে আপনি নীরব থাকবেন না, ভারতের রাষ্ট্রপতি’।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রণব বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনের মতো ভারতেরও ধারণা, ফিলিস্তিন সমস্যাই আরব-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের মূলে। এই অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকা ভারতের জন্যও জরুরি।’

‘ঠিক যেভাবে ইংল্যান্ড ইংলিশদের, ফ্রান্স ফরাসিদের, তেমনই ফিলিস্তিন শুধু আরবদের।’ গতকাল মঙ্গলবার প্রণব মুখোপাধ্যায় রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা বলেন।

তার এই বক্তব্য অবশ্য ফিলিস্তিনিদের আশ্বস্ত করতে পারবে না। কারণ, গত শতকের শেষ দশক থেকে পশ্চিম এশিয়া নীতিতে সূক্ষ্ণ পরিবর্তন ঘটিয়েছে ভারত। এর আগে পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমর্থনই দিয়েছিল ভারত। যে কারণে ১৯৭৫ সালে দিল্লিতে পিএলও’র দপ্তর খোলা হলেও ইসরায়েলের দূতাবাস তৈরি হয়েছে ১৯৯২ সালে।

কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্ক পূর্ণতা পাওয়ার পর থেকে গত ২৩ বছরে ভারত একচেটিয়া ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে ইসরায়েলের সঙ্গে একটা সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরির দিকে নজর দিয়েছে। মৌখিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনে কার্পণ্য না থাকলেও প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের একটা গভীর ও কার্যকরী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিনকে সমর্থনের পেছনে ভারতের আশা ছিল, কাশ্মীর সমস্যায় আরব দুনিয়ার সমর্থন পাবে নয়াদিল্লি। কিন্তু তা ঘটেনি, উল্টো অরগানাইজেশন ফর ইসলামিক কনফারেন্সকে (ওআইসি) কাজে লাগিয়ে লাগাতার ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আরব দেশগুলো।

অপরদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির প্রথম থেকেই তেল আবিব কিন্তু প্রতিদানে তৎপর থেকেছে। ১৯৯৮ সালে ভারতের পরমাণু পরীক্ষার জেরে বেশিরভাগ পশ্চিমি দেশ ভারতে প্রযুক্তি রপ্তানি প্রায় বন্ধ করে দেয়ার সময় যেমন, তেমনই কার্গিল সংঘর্ষের সময়ও ইসরায়েলকে পাশে পেয়েছে নয়াদিল্লি।

তাই বিশেষ করে গত দেড় দশকে প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাস মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। ভারত হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের সামরিক পণ্যের বৃহত্তম বাজার। আর তার সঙ্গে সমানুপাতে মেছে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ভারতের ইসরায়েল বিরোধী আন্তর্জাতিক অবস্থান ঘোষণার প্রবণতা।

গত বছর গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে রাজ্যসভায় নিন্দাপ্রস্তাব পাস করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নাকচ করে দিয়েছিল সরকার। একই বিষয়ে জাতিসংঘে যখন ইসরায়েল বিরোধী নিন্দাপ্রস্তাব নেয়া হয়, তখন ভোটদানে বিরত থাকে ভারত।

আসলে সেটাই ছিল প্রথম নিদর্শন, যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরাসরি কার্যত ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি।

রাষ্ট্রপতির চলতি সফরের পর এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধ্বেই ইসরায়েল যাওয়ার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীরও। কাজেই ভারতের প্রতি ফিলিস্তিনের সংশয়ের মনোভাব অস্বাভাবিক নয়।






মন্তব্য চালু নেই