মেইন ম্যেনু

ইসলামি শরিয়াহ আইন চালু হচ্ছে মালয়েশিয়ায়!

ইসলামি শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে উন্নয়নের রোল মডেল মালয়েশিয়া সরকার। এর সপক্ষে দেশটির পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে। এই বিলের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সে দেশের রাজনীতিকরা।

প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সমর্থনে কাজ করছে দল ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)। তবে রাজাকের শরিক দলের অনেক নেতাকর্মী ও বিশ্লেষকরা আশংকা করছেন, এর ফলে বহু ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর দেশটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশটিতে নতুন করে নিজের জনপ্রিয়তা উদ্ধারের লক্ষ্যে রাজাক এমন পদক্ষেপে এগোচ্ছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। খবর দি ইনডিপেনডেন্টের।

ইসলামপন্থী পার্টি ইসলাম বলছে, মালয়েশিয়ার (পিএএস) প্রস্তাবিত ওই শরিয়াহ আইনের বিলটি বৃহস্পতিবার সরকার পার্লামেন্টে উত্থাপন করে। এতে কয়েকটি বড় অপরাধের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ ও অঙ্গচ্ছেদের বিধান রাখা হয়েছে। কঠোর ইসলামিক অপরাধ আইন বাস্তায়নের জন্য দেশটির ফেডারেল এমপিদের কাছে প্রস্তাবটি সংশোধনের লক্ষ্যে পাঠায় পিএএস।

রাজাকের রাজনৈতিক জোট বারিসান ন্যাশনাল কোয়ালিশন, যারা জোটবদ্ধ হয়ে মালয়েশিয়ান চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) গঠন করেছে। তারা এ বিলের সমালোচনা করে বলেছে, এটি সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক’। সমালোচকরা বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগের জেরবারে কোণঠাসা প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক শরিয়াহ আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।

ইসলামি আইন ‘হুদুদ’র ব্যবহার করে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভোট নিশ্চিত করতে চাইছেন। হুদুদ হল ইসলামি দণ্ডবিধির একটি ধারা। ইসলামি শরিয়াতে কিছু কিছু কাজের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তির উল্লেখ রয়েছে, তাকে হুহুদ বলে।

সমালোচকদের সমালোচনায় নাজিব রাজাক শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কেবল কিছু অপরাধের শাস্তি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা শরিয়াহ আদালতে শুধু মুসলমানদের ওপর প্রয়োগ করা হবে। এ নিয়ে সমালোচকরা না বুঝে সমালোচনা করছে। তবে রাজাক এটা ‘হুদুদ’ আইন নয় বলে উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়ায় হুদুদ একটি বিতর্কিত ইস্যু, সেখানে প্রত্যেক রাজ্যে ফেডারেল আইন দ্বারা শরিয়াহ আইন সীমাবদ্ধ। ক্ষমতাসীন জোটের নেতৃত্বে থাকা দলের ইউএমএনও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলে এ বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। -আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া






মন্তব্য চালু নেই