মেইন ম্যেনু

ইসলাম সম্পর্কে এই কয়েকটি মিথ্যা তথ্য, যার কোনওটিই সত্য নয়! জানুন কী সেগুলো…

সন্ত্রাস-পীড়িত অথবা সন্ত্রাসের আতঙ্কে দীর্ণ অ-মুসলমানদের তরফ থেকে যেমন এই সব উদ্ভট ব্যাখ্যা উঠে আসছে, তেমনই ক্ষমতালিপ্সু অতিইসলামবাদীরাও বেশ কিছু তথ্য বিকৃতি ঘটাচ্ছেন নিজেদের স্বার্থে।

এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, এই মুহূর্তে বিশ্বে সবথেকে বিতর্কিত ধর্মবিশ্বাসটি হল ইসলাম। ধর্মের নামে বার বার জঙ্গি হানা, গণহত্যা, একতরফা ক্ষমতার খবরদারি ইত্যাদি থেকেই এই বিতর্ক। কিন্তু এই প্রশ্নটা কি মনে থাকছে যে, ইসলাম নিয়ে এই বিতর্কে উত্থাপিত অধিকাংশ বক্তব্যেরই কোনও ভিত্তি নেই? সন্ত্রাস-পীড়িত অথবা সন্ত্রাসের আতঙ্কে দীর্ণ অ-মুসলমানদের তরফ থেকে যেমন এই সব উদ্ভট ব্যাখ্যা উঠে আসছে, তেমনই ক্ষমতালিপ্সু অতিইসলামবাদীরাও বেশ কিছু তথ্য বিকৃতি ঘটাচ্ছেন নিজেদের স্বার্থে। এখানে তেমন কয়েকটি মিথকে তুলে ধরা হল, যা আসলে নেহাতই অপপ্রচার।

• মুসলমান মাত্রেই জঙ্গি মনোভাবাপন্ন— বিশ্ব জুড়ে পর পর ঘটে যাওয়া জঙ্গি তৎপরতা থেকেই এমন মিথ জন্ম নিয়েছে। মিডিয়ায় প্রদর্শিত বহু জঙ্গি নেতাদের ভাষণে বার বার ধর্মকে উদ্ধৃত রেখে উঠে আসে আগ্রাসক বক্তব্য। এ থেকেও মিথটিতে বিশ্বাস বাড়ে। কিন্তু, ঠান্ডা মাথায় হিসেব করতে বসলে দেখা যায়, বিশ্বের মোট ইসলাম-বিশ্বাসী জনসংখ্যার একটা ছোট অংশই জঙ্গি। বাকিরা নেহাতই শান্তিবাদী মানুষ।

• ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল যুদ্ধের মাধ্যমে— একেবারেই বাজে কথা। এখানেও জঙ্গি নেতারা এই ধরনের উক্তি জারি রেখে লোক ক্ষেপানোর চেষ্টা করেন। ইসলাম একদিনে বিশ্বের বিস্তীর্ণ ভূগোলে ছড়িয়ে পড়েনি। এর একটি দীর্ঘ পরিযানপর্ব রয়েছে। কোনও দেশ মুসলমান শাসকের অধীনস্থ হলেও সেখানে রাতারাতি মানুষকে ধর্মান্তরিত করা হয়নি। ভারতই এমন দেশের উদাহরণ। তুর্ক-আফগান অথবা মুঘল— কোনও শাসকই এ দেশে বলপূর্বক ধর্মান্তরণের নীতি গ্রহণ করেননি।

• ইসলামে নারীদের কোনও অধিকারই স্বীকৃত নয়— আর একটি ভুল ধারণা। পিতৃতন্ত্রের অভিমুখ আর ইসলামকে একীভূত করে দেখাটা একটা সংক্রামক ব্যাধির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তালিবান বা আইসিসের কর্মকাণ্ডের উপরে ভিত্তি করে ধারণা তৈরি করাটা নেহাতই আহম্মকি। ইসলামে নারীর সম্পত্তির অধিকার যেভাবে স্বীকৃত, অন্য ধর্মে ততটা নয়। তার উপরে ইসলাম নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ব্যাপারেও সচেতন। সম্মতি বিবাহ (যত অপব্যবহৃতই হোক না কেন) নারীকে বিরাট ক্ষমতার জায়গা ছেড়ে দেয়, এটা ভুললে চলবে না।

• জিহাদ— এই মুহূর্তে বিশ্বের সবথেকে ভীতি উদ্রেককারী শব্দ। তালিবান, মুজাহিদ বা ইসলামিক স্টেট-এর ‘জিহাদ’ আর ইসলামি শাস্ত্রে বর্ণিত জিহাদ কি এক? প্রকৃত অর্থে জিহাদ মানে মোটেই কোনও জনগোষ্ঠীর উপরে অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া নয়। ‘বিধর্মী’-হত্যাকারী মাত্রেই শহিদ, এটাও ভুল ধারণা। জিহাদের অর্থ একান্তভাবে মরমি। মানুষের অন্তরে বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের যে নিরন্তর দ্বন্দ্ব চলে, তাতে অবিশ্বাসকে বিশ্বাসের দ্বারা পরাস্ত করার লড়াইটাই জিহাদ। যিনি এই যুদ্ধে বিজয়ী, অর্থাৎ নিজের ভিতরে থাকা অবিশ্বাসীকে ‘ধ্বংস’ করতে সমর্থ, তিনিই শহিদ।

• ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণু— ‘বিধর্মী’-দের নির্বিচারে হত্যা করো— এই নীতি কখনওই ইসলাম ব্যাক্ত করে না। বরং এমন বিশ্বাসই ইসলামে রয়েছে যে, প্রতিটি ধর্মেরই নিজস্ব ‘প্রেরিত পুরুষ’ রয়েছেন। ইহুদি বা খ্রিস্টধর্মের প্রত্যাদেশপ্রাপ্তরা ইসলামেও মান্যতা পান। ইসলামিক রাষ্ট্র অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করেছে বা করে চলেছে, এমন উদাহরণ কম নয়। ভারতে মুঘল আমলকে এই অবসরে স্মরণ করা যেতেই পারে।এবেলা






মন্তব্য চালু নেই