মেইন ম্যেনু

ইসি গঠনে আইন প্রণয়নসহ ৭ দফা প্রস্তাব জাসদ ইনুর

নতুন ইসি গঠনের লক্ষ্যে সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়নসহ সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু)। সোমবার বিকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলটি এই প্রস্তাব দেয়। বৈঠক শেষে বঙ্গভবনের গেটে দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার সাংবাদিকদের কাছে এই সাত দফা প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেন।

জাসদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো হলো:

১। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সংবিধানের চার মূলনীতিতে আস্থাশীল ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা।

২। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা।

৩। সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের আগে ইসি গঠন বিষয়ে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি ও হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি এবং বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন করতে হবে।

৪। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ছয় মাস আগে আইন অনুযায়ী নতুন নির্বাচন গঠনের কার্যক্রম শুরু করা।

৫। বাছাই কমিটি কর্তৃক রাজনৈতিক দল, সামাজিক নাগরিক সংস্থা, দেশের যেকোনও নিবন্ধিত ভোটারের কাছ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নামের প্রস্তাব আহ্বান করা। বাছাই কমিটি কর্তৃক রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো বাছাই করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের বিপরীতে তিনজন করে নামের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে।

৬। বাছাই কমিটি কর্তৃক ১/৩ ভিত্তিতে বাছাইকৃত ১৫ জনের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে ওই তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।

৭। রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রেরিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ন্যূনতম একজন নারী নির্বাচন কমিশনারসহ চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।

একঘণ্টার বৈঠক শেষে বঙ্গভবনের গেটে এসব প্রস্তাবের কথা জানান জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করার বিষয়ে আইন করতে আগামী সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাব করবে জাসদ। আইনি কাঠামোতে নিয়ে আসা গেলে, এটি খুবই ভালো একটি পদক্ষেপ হবে।’

শিরীন আখতার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির যেকোনও সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব। রাষ্ট্রপতি আমাদের বলেছেন, এটি নীতিগতভাবে উত্তম প্রস্তাব। বিবেচনা করে দেখব।’

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আগের নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি সংলাপের আয়োজন করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর বিএনপিসহ কোনও দলই সেই কমিশন বাতিলের দাবি তোলেনি।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির এবারের উদ্যোগও ফলপ্রসূ হবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনও গঠিত হবে।’

এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। হাসানুল হক ইনু ছাড়াও ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আক্তার, ইকবাল হোসাইন, অ্যাডভোটেক হাবিবুর রহমান শওকত, অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক এম এ করিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন ও নাদের চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপিসহ ৫টি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আলোচনার জন্য বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সংলাপ শুরু হয় ১৮ ডিসেম্বর রবিবার। ২০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জাতীয় পার্টি, ২১ ডিসেম্বর (বুধবার) এলডিপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি। ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) (ইনু) সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২৭ ডিসেম্বর বিকালে ওয়ার্কার্স পার্টি, ২৯ ডিসেম্বর বিএনএফ ও ইসলামী ঐক্যজোট, ২ জানুয়ারি জেপি (মঞ্জু) এবং ৩ জানুয়ারি তরিকত ফেডারেশন ও বিজেপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বঙ্গভবন থেকে।






মন্তব্য চালু নেই