মেইন ম্যেনু

ই-সিগারেট আপনার ক্ষতি করে চলেছে নীরবে

সিগারেট যে ক্ষতিকর তা আর এখন কাউকে বলে দিতে হয় না। ধূমপান করার ইচ্ছে আছে অথচ ফুসফুসের বারোটা বাজাতে চান না এমন অনেকেই ব্যবহার করেন ই-সিগারেট। অন্তত একে সিগারেটের চাইতে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর মনে করা হয়। কিন্তু এর ক্ষতির পরিমাণ কি আসলেই নগণ্য? নাকি এটাও আমাদের গুরুতর ক্ষতি করতে সক্ষম?

ই-সিগারেট আসলে কী? তাই বা জানেন কতজন! এদের আরেক নাম হলো ভ্যাপোরাইজার। ব্যাটারিচালিত এই যন্ত্রগুলো একটি তরল মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে এবং বাষ্প তৈরি করে যা ধূমপানের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এই তরলের মাঝে থাকে নিকোটিন, একটি ফ্লেভারিং এবং প্রপাইলিন গ্লাইকল বা গ্লিসেরলের মতো একটি পদার্থ। ২০০০ এর শুরুর দিকে বাজারে আসার পর ই-সিগারেট বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছে। আগুন ধরানো, তামাকের গন্ধ নিতে হয় না কিন্তু নিকোটিন ঠিকই পাওয়া যায় বলে অনেকেই একে বেছে নেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় একেক যতটা নিরীহ মনে করা হয় তা হয়তো আসলে এত নিরীহ নয়। সাধারণ সিগারেট ব্যবহার করেন যারা, তাদের মতই ই-সিগারেট ব্যাবহারকারিদেরও একই ধরণের কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি এতে থাকা তরলের উপাদানের ব্যাপারে যেহেতু নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়, সে কারণে হয়তো ক্ষতির মাত্রা বেশিও হতে পারে।

চলুন দেখি কী কী কারণে ই-সিগারেট থেকে দূরে থাকাটাই আমাদের জন্য ভালো-

১) হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে
যদিও ই-সিগারেটে তামাক নেই, কিন্তু এতে যথেষ্ট পরিমাণে নিকোটিন থাকে। এ কারণে নিকোটিনের থেকে হওয়া অনেক স্বাস্থ্য সমস্যাই হতে পারে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের। নিকোটিন হলো “স্টিমুলেন্ট” ধরণের ড্রাগ যা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া তা হার্ট সেলের ক্ষতি করা থেকে শুরু করে হৃদরোগের উৎপত্তি করতে পারে।

২) চোখ এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করে
২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় কিছু কিছু ই-সিগারেটে পাওয়া ফর্মালডিহাইড চোখ, গলা এবং নাকের ক্ষতি করতে সক্ষম। প্রপাইলিন গ্লাইকলও একই ক্ষতি করে। সময়ের সাথে এসব পদার্থ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং প্লীহার ক্ষতি করে।

৩) ই-সিগারেট আসক্তি তৈরি করতে পারে
বিভিন্ন মাদকের মাঝে সাদৃশ্য হলো, তারা মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ করার সংকেত পাঠায়, যার ফলে তৈরি হয় আসক্তি। ব্রেইন কেমিস্ট্রিতে যথেষ্ট পরিবর্তন আনতে পারে এই আসক্তি। ফলে সাধারণ সিগারেটের নেশার সাথে এর তেমন পার্থক্য নেই।

৪) ই-সিগারেটের তরলটি বিষাক্ত
দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। দুর্ঘটনাবশত আপনি বা আপনার বাড়ির শিশুটি যদি এই ই-সিগারেটের তরলটি পান করে ফেলে তাহলে নিশ্চিত বিষক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। নিকোটিনের ধোঁয়া শরীরের ভেতরে নেওয়া খারাপ বটে, কিন্তু নিকোটিনের ঘন তরল আরও অনেক বেশি বিপজ্জনক।

৫) তরুণদের মস্তিষ্ক গঠনে ক্ষতি করতে পারে
কম বয়সেই যেমন অনেকে ধূমপান শুরু করে তেমনি ক্ষতির পরিমাণ কম ভেবে অনেক টিনেজার ই-সিগারেট ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এটা তাদের মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এর পেছনেও দায়ী নিকোটিন। বয়ঃসন্ধিকালে নিকোটিন গ্রহণের ফলে স্মৃতিশক্তি খারাপ হহতে পারে, মনোযোগ নষ্ট হয়ে পারে এবং মানসিক ও আচরণগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। গর্ভস্থ শিশুরও ক্ষতি করতে পারে ই-সিগারেট।

৬) ক্যান্সার তৈরি করে
অসম্ভব মনে হচ্ছে, তাই না? যে ক্যান্সারের থেকে মুক্তি পেতে আপনি সিগারেট ছেড়ে ই-সিগারেট ধরলেন, তারই ঝুঁকি রয়ে গেল? তামাকে থাকা অনেক ক্ষতিকর উপাদান যেমন টার, অ্যামোনিয়া এবং ডিডিটি ই-সিগারেটে থাকে না বটে। কিন্তু ই-সিগারেটে থাকে উচ্চ মাত্রায় ফর্মালডিহাইড, যা কিনা এক ধরণের কার্সিনোজেন অর্থাৎ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানো পদার্থ।

৭) এর ব্যাটারি আপনার হাত বা মুখে বিস্ফোরিত হতে পারে
সেল ফোন এবং ল্যাপটপের মতো ই-সিগারেটের শক্তি দেয় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। খুব বেশি উত্তাপে, বেশি চার্জ দেওয়া হলে, বা ত্রুটি থাকলে এসব ব্যাটারি বিস্ফোরিত হতে পারে এবং ব্যবহারকারির হাত, মুখ এবং চোখের গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ক্ষতির সম্ভাবনা এড়াতে সঠিকভাবে চার্জ করা এবং ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

অনেকেই ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে ই-সিগারেট ব্যবহার করেন। সিগারেটের আসক্তি কমানোটাই থাকে তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু এতো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকলে এই পদ্ধতি কি আদৌ ব্যবহার করা নিরাপদ? সিগারেটে আসক্তি কমানোর অন্যান্য কিছু উপায় আছে যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন। সেসব পদ্ধতি ই-সিগারেটের চাইতে বেশি নিরাপদ।






মন্তব্য চালু নেই