মেইন ম্যেনু

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন দেশের ভেতরের এই অসম্ভব সুন্দর রিসোর্টগুলো থেকে

ছুটিতে দেশের বাইরে নানারকম নয়নাভিরাম স্থানে ঘুরে আসার পরিকল্পনাতো থাকেই আমাদের। কিন্তু এই ঈদে একটু আলাদা কিছু নয় কেন? দেশের বাইরে নয়, বরং দেশের ভেতরেই প্রাকৃতির খুব কাছাকাছি চলে যেতে পারেন আপনি এই ঈদে। আর এবার বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে আপনাকে সাহায্য করবে দেশের অসম্ভব সুন্দর এই রিসোর্টগুলো। চলুন তাহলে এক নজরে দেখে আসি ঈদের এই ছোট্ট ছুটিতে কোন কোন রিসোর্ট হতে পারে আপনার পরিকল্পনার সাথে একেবারে মানানসই। রিসোর্ট নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক এই সিরিজে এবার থাকলো সিলেটের কিছু অসাধারণ সৌন্দর্যে ভরপুর রিসোর্টের খবর।

১. নাজিমগড় রিসোর্ট

সিলেটে এখন নাজিমগড় রিসোর্ট আছে তিনটি। প্রথম রিসোর্টটি নাজিমগড় গার্ডেন রিসোর্ট। খাদিমনগরে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আছে প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা। থাকার জন্য আছে পাঁচ ধরনের বন্দোবস্ত- ইবনে বতুতা প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট, লাক্সারি সুইট, এক্সিকিউটিভ প্লাস রুম, এক্সিকিউটিভ রুম এবং ডিলাক্স রুম। ডিলাক্স রুম ছাড়া আর সবগুলোতেই আছে অ্যাটাচড সানডেকও। সব রুমেই আছে এসি, টিভি, ফ্রিজ, টেলিফোন, ইন্টারনেট/ওয়াই-ফাইসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। আছে সুইমিং পাল এবং স্পা। মিটিং কিংবা পার্টির জন্যও আছে আলাদা ব্যবস্থা। রিসের্টিটিতে খাওয়ার বন্দোবস্ত আছে পাঁচ জায়গায়- গার্ডেন বিস্ত্রো, হিলটপ, মাচাং, মেঘালয় লাউঞ্জ এবং পুল ক্যাফেতে। রিসোর্ট থেকে বিভিন্ন পর্যটন স্থান ঘুরে দেখার ব্যবস্থাও আছে। ঘোরাঘুরির জন্য নাজিমগড়ের নিজস্ব পরিবহনও (স্পিড বোট, নৌকা) আছে। সারি নদীতে আছে নিজস্ব ঘাট। আশেপাশে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আছে লালাখাল, জাফলং, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া বন। আর চা বাগান তো আছেই।

নাজিমগড় পরে আরও দুইটি রিসোর্ট বানিয়েছে। দুইটিই লালাখালে। নাজিমগড় ওয়াইল্ডারনেস গার্ডেন এবং নাজিমগড় ন্যাচার পার্ক। ওয়াইল্ডারনেস গার্ডেনে থাকার জন্য আছে ট্রি টপ সুইট, ডিলাক্স রুম, ডিলাক্স ভিস্তা এবং ডিলাক্স প্যানোরমা। আর ন্যাচার পার্কে আছে তাঁবুতে থাকার অ্যাডভেঞ্চারাস বন্দোবস্ত। খাওয়ার জন্য আছে হিলটপ রেস্টুরেন্ট, রিভার কুইন, মাউন্টেইন ভিউ লাউঞ্জ এবং হিলটপ প্যাভিলিয়ান।

কেমন খরচ

রিল্যাক্সেসন হলিডে প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ ১৩ হাজার টাকা। আর অল ইনক্লুসিভ হলিডে প্যাকেজ ১৬ হাজার করে। আর ওয়াইল্ডারনেস পার্কের প্যাকেজ জনপ্রতি ১৫ হাজার।

যেতে চাইলে

নাজিমগড় গার্ডেন রিসোর্ট সিলেট শহরেই। বাস, ট্রেন বা প্লেন, যে কোনো ভাবেই সিলেট যাওয়া যেতে পারে। তারপর সিএনজি বা মাইক্রোতে করে গার্ডেন রিসোর্ট। তবে ওয়াইল্ডারনেস রিসোর্ট বা ন্যাচার পার্কে যেতে হলে অবশ্যই মাইক্রো ভাড়া করতে হবে, কিংবা বাসে করে সারি ঘাট যেতে হবে। কর্তৃপক্ষকে জানালে তারাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দিবে। ৪ জনের জন্য খরচ পড়বে ৩ হাজার, ৬ জনে ৪ হাজার।

যোগাযোগ

নাজিমগড়ের রিসোর্টগুলোতে বুকিং দেয়া যায় ঢাকা থেকেই। অফিসের ঠিকানা- ১১০, তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকা (দ্বিতীয় তলা), তেজগাঁও, ঢাকা- ১২০৮। ফোন- ০১৭১১৫৩৫০৩৪। গার্ডেন রিসোর্টের ফোন- (০৮২১) ২৮৭০৩৩৮, ২৮৭০৩৩৯, ০১৯২৬৬৬৭৪৪৪, ০১৭৪৭২০০১০০। আর ওয়াইল্ডারনেস রিসোর্ট এবং ন্যাচার পার্কের ফোন- ০১৮৪১০০১২০১, ০১৮৪১০০১২০২। ই-মেইল- [email protected]|

২. দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা

অভিজাত এই রিসোর্টটির অবস্থান মৌলভীবাজারের গিয়াসনগরে। বিলাসবহুল রিসোর্টটিতে আছে সকল সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন তিন স্তরের/লেভেলের সুইমিং পুল, জিমনেসিয়াম, সিনেপ্লেক্স, দেড় কিলোমিটার লম্বা ট্রেইল, অ্যাম্ফিথিয়েটার, নিজস্ব এসি মসজিদ। পুরো রিসোর্ট জুড়েই আছে ওয়াই-ফাই। কেনাকাটার জন্য আছে দোকান। ব্যবস্থা আছে এক্সকার্সন/ট্যুর, ক্যানুইং আর সাইক্লিংয়ের। মাউন্টেইন বাইকেরও ব্যবস্থা আছে। আছে একটা টেনিস কোর্ট আর দুটো ব্যাডমিন্টন কোর্টও। থাকার জন্য হোটেল কিংবা ভিলাÑ দুটোরই ব্যবস্থা আছে। হোটেলে আছে সুপিরিয়র কিং/টুইন এবং প্রিমিয়াম কিং/টুইন রুম। আর ভিলায় আছে ডিলাক্স ভিলা-এ, ডিলাক্স ভিলা-বি, সুইট ভিলা-এ, সুইট ভিলা-বি, সুইট ভিলা-সি, হানিমুন ভিলা এবং প্রেসিডেন্সিয়াল ভিলা। খাওয়া-দাওয়ার জন্য আছে ব্যানানা লিফ রেস্টুরেন্ট, টি ভ্যালি রেস্টুরেন্ট, ফরেস্ট পাব এবং পুল ক্যাফে।

কেমন খরচ

বিলাসবহুল বলে দুসাই রিসোর্টে থাকতে খরচ ভালোই হয়। হোটেল রুমে প্রতি রাতের জন্য খরচ পড়বে ১২০ থেকে ১৫০ ডলার করে। আর ভিলাতে খরচ পড়বে ১৮০ থেকে ৭৫০ ডলার পর্যন্ত। তবে অনলাইন বুকিংয়ে ২০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়।

যেতে চাইলে

ঢাকা থেকে সিলেটে বিমানে যাওয়া যায়। আর বাসে বা ট্রেনে (পারাবত, কালনি) যাওয়া যায় শ্রীমঙ্গল পর্যন্তই। যোগাযোগ করা থাকলে বাকি পথটুকুর জন্য রিসোর্ট থেকেই রিসোর্ট কার বা ভ্যান পাঠিয়ে দেয়।

যোগাযোগ

ঢাকায় দুসাই রিসোর্টের অফিস ইরেক্টোর্স হাউস (নবম তলা), ১৮, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানীতে। ফোন- (০২) ৯৮৮০১০৩-৫। আর রিসোর্টের ফোন- (০৮৬১) ৬৪১০০, ০১৬১৭০০৫৫১১। ই-মেইল- [email protected], [email protected]|

৩. শুকতারা ন্যাচার রিট্রিট

সিলেট শহর থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাছে, খাদিমনগরে এক গাছগাছালি ভরা পাহাড়ে এই শুকতারা ন্যাচার রিট্রিটের অবস্থান। গাছপালায় ঘেরা এই ইকো-ফ্রেন্ডলি রিসোর্টটিতে কমতি নেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধারও। আছে এসির বন্দোবস্ত। আছে সুইমিং পুল, লাউঞ্জ, লাইব্রেরি, পার্টি রুম, কনফারেন্স রুম, রুফটপ সিট-আউট আর মিনি-থিয়েটার। ২০১৬-র মধ্যে চালু হবে রুফটপ গার্ডেন আর বিলিয়ার্ড রুম। চলাচলের জন্য আছে পরিবেশবান্ধব ফানিকুলার ক্যারেজওয়ে। বনফায়ার, বারবিকিউয়ের ব্যবস্থাও আছে। থাকার বন্দোবস্ত যথাক্রমে লার্জ সুইট, সেমি সুইট, ফ্যামিলি সুইট, ডিলাক্স রুম এবং ইকোনোমি রুম। খাওয়ার বন্দোবস্ত আকাশিয়া রেস্টুরেন্টে আর পিপাসা জুস বার। আশেপাশেই আছে চা বাগান, চা শ্রমিকদের বাসা, হযরত শাহ বদরের মাজার এবং খাদিম ন্যাশনাল পার্ক। এছাড়াও এখান থেকে সহজেই যাওয়া যেতে পারে জৈন্তিয়া রাজবাড়ি, লালাখাল, জাফলং, তামাবিল সীমান্ত, লাউয়াছড়া, শ্রীমঙ্গল, মাধবকু- আর টাঙ্গুয়ার হাওড়।

কেমন খরচ

শুকতারা ন্যাচার রিট্রিটের বিভিন্ন রুমের জন্য দিন প্রতি খরচ আড়াই হাজার থেকে সাত হাজার পর্যন্ত।

যেতে চাইলে

বাস, ট্রেন বা বিমান যে কোনো ভাবেই সিলেট যায়া যায়। গাড়িতে বিমানবন্দর থেকে শুকতারা প্রকৃতি নিবাসে যেতে লাগবে ৪০ মিনিটের মতো। আর বাসস্টেশন বা রেলস্টেশন থেকে আধা ঘণ্টা।

যোগাযোগ

রিসোর্টটির ঠিকানা- শুকতারা ন্যাচার রিট্রিট, উদ্দিন হিলস, শাহপরান উপশহর, খাদিমনগর, সিলেট। ফোন- (০৮২১) ২৮৭০২৭৯, ২৮৭০২৮১, ০১৭৬৪৫৪৩৫৩৫, ০১৭২১২৫৮৬৩৮। ই-মেইল- [email protected], [email protected]|






মন্তব্য চালু নেই