মেইন ম্যেনু

ঈদের পর নতুন ধাঁচে শিক্ষক আন্দোলন

ঈদুল আযহার পর কঠোর আন্দোলনের ছক এঁকেছেন সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের দাবি পর্যালোচনার উদ্যোগ, অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে বেতন বৈষম্য পর্যালোচনা কমিটি পুনর্গঠন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের বৈঠক, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও সুনির্দিষ্ট দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই দাবি করে আন্দোলনে যাওয়ার ছক কষছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, তারা ঈদের আগে একটি কমিশন গঠন করতে শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তারা বলছেন, অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে কমিটি করা হলেও এক মাসের মধ্যে তারা বৈঠকে বসতে পারছে না। কারণ অর্থমন্ত্রী আজ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাবেন ২৩ সেপ্টেম্বর। ফিরবেন ৩ অক্টোবর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি সরকারকে জানিয়েছি। সরকার যদি দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেয় তাহলে ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের বিকল্প থাকবে না।’

কঠোর আন্দোলন বলতে কী বুঝিয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষক নেতা বলেন, ‘ঈদের পরে আমাদের শিক্ষক সমিতির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আন্দোলনের নতুন ছক তৈরি করা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করতে চাই না। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত আছি। আন্দোলন ও আলোচনা এক সঙ্গে চলবে বলে তিনি জানান।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা কীভাবে নির্ধারণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এটা কবে, কখন শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে মূল কাজ করবে মন্ত্রিসভা কমিটি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত সোমবার বৈঠক করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠকে মূলত শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। ওই দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্যই বেতন বৈষম্য নিরসন-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি না করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করেন।

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে অভিযোগ করে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষকরা। ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাও বর্জনের হুমকি দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্যে ২৫ শতাংশ এত দিন সিলেকশন গ্রেড পেয়ে গ্রেড-১-এ (সচিবদের সমান) যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অষ্টম স্কেলে সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় এখন শিক্ষকদের গ্রেড-২-এ (অতিরিক্ত সচিব) গিয়েই চাকরি শেষ করতে হবে। উপরন্তু, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের বাইরেও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য আরও একটি বিশেষ গ্রেড সৃষ্টি করায় শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন, এর মাধ্যমে তাঁদের পদ কার্যত আরও অবনমন হবে। এ জন্য তাঁরা এখন আন্দোলনে নেমেছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, তাঁদের একটাই চাওয়া, তাহলো শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ঈদের পর তাঁরা বসে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবির বিষয়ে এখনই একটি কমিশন গঠন করে দিয়ে কাজ শুরু করা হোক’।

অন্যদিকে সরকারি কলেজশিক্ষকেরাও সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল নিয়ে আন্দোলনে নামলেও তাঁদের বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেই। তাঁরা ইতিমধ্যে তিন দিন কর্মবিরতি করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই