মেইন ম্যেনু

ঈদে ৬০০ টাকার টিকিট ৯০০

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে শুক্রবার সকাল থেকে। তাই শুরু থেকেই ছিল উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহে ঘড়মুখো মানুষের ভীড়। তবে প্রথম দিন অনেক কাউন্টারেই পাওয়া যায়নি অগ্রিম টিকিট। ফলে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট কিনতে এসে সেই চিরাচরিত ভোগান্তী। সেই সঙ্গে ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই। তবে যিনি এসব ভোগান্তী অতিক্রম করে টিকিট পেয়েছেন তার মুখে ছিল হাসির ঝিলিক।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর অন্যতম বাস টার্মিনাল গাবতলীতে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। প্রতি ঈদেই বাসের আগাম টিকেট কিনতে সবচেয়ে বেশি ভীড় দেখা যায় এ বাস টার্মিনালেই। টিকেট বিক্রির প্রথম দিন শুক্রবারও এর ব্যতিক্রম দেখা গেলো না। সকাল ৮টা থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়, চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে অনেক কাউন্টার থেকে দুপুরের আগেই জানানো হয় টিকিট শেষ।

দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শ্যামলী ও গাবতলীর উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী সব কোচের কাউন্টারেই অগ্রিম টিকিট কেনার জন্য যাত্রীদের দীর্ঘলাইন। তবে কেউ কেউ টিকিট পেলেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ঈদের দু’দিন আগের টিকিট মিলছে না কোনো কাউন্টারেই।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনেছেন অনেকেই। খুলনা যাওয়ার জন্য ১৬ জুলাইয়ের টিকিট কিনতে আসা জসিম সিকদার জানান, ভোর ৫টার সময় তিনি ঈগল পরিবহন কাউন্টারের সামনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৭০ থেকে ১০০ টাকার মতো বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

ঈগল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ বশির বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে না। আমরা সরকারের নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছি। যাত্রীরা যা বলছেন- তা আসলে না জেনেই বলছেন। কারণ স্বাভাবিক দিনে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নেন যাত্রীদের কাছ থেকে। সরকারের বেঁধে দেয়া ভাড়া শুধু ঈদের সময় আদায় করার কারণে যাত্রীরা মনে করছেন বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।’

হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে একই চিত্র। কাউন্টার মাস্টার রতন মিয়া বলেন, ‘টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভীড় খুব। তবে সমস্যা নেই আরো চারদিন টিকিট বিক্রি করা হবে। আমাদের পর্যাপ্ত গাড়ি আছে।’

এছাড়া এসআর ট্রাভেল, শ্যামলী পরিবহন, নাবিল পরিবহন, কেয়া, আল-হামরা, রোজিনা, বালু পরিবহনের কাউন্টারেও টিকিটের জন্য বেশ ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ভাড়া যথারীতি অনেক বেশি। ঢাকা-ঠাকুরগাঁওয়ের ভাড়া এমনিতে ৬০০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে রাখা হচ্ছে ৯০০ টাকা। তারপরও অনেক কাউন্টারে এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় টিকিট। মূলত যারা সকালে এসেছিলেন তারাই টিকিট পেয়েছেন।

অন্যদিকে টিকিট কিনতে এসে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারীরা। কোনো কাউন্টারেই নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় পুরুষদের সঙ্গে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে তাদের। কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেলেও বাড়তি ভাড়া নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারাও।

গাবতলী টার্মিনাল ও মাজার রোড থেকে বিক্রি হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অগ্রিম টিকিট। আর উত্তরবঙ্গের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে গাবতলী বালুর মাঠ থেকে। এছাড়া কলাবাগান, ফকিরাপুল, কমলাপুর, মালিবাগ কাউন্টারগুলোতে বিক্রি করতে দেখা গেছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাসের টিকিট।

উল্লেখ, গত ২৯ জুন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গাবতলী কার্যালয়ে এক বৈঠকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাস মালিকরা অবশ্য ১২ রমজান থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে আগ্রহী ছিলেন। তবে ১২ রমজান মঙ্গলবার হওয়ায় তা পেছানো হয়। এক্ষেত্রে ৩ জুলাই শুক্রবার থেকে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৬০টির বেশি রুটে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘৩ জুলাই অর্থাৎ ১৫ রমজান সকাল থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে কোনো কোম্পানি আগ্রহী থাকলে আগে পরেও টিকিট বিক্রি শুরু করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত যে ভাড়া আছে, তাই নেয়া হবে। এর চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হবে না। যদি কেউ বেশি ভাড়া নেয়, তাহলে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’






মন্তব্য চালু নেই