মেইন ম্যেনু

উখিয়ার তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী ফয়েজ আত্মগোপনে : শীর্ষরা অধরা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী উখিয়ার উপকূলীয় এলাকার ফয়েজ এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সামান্য জেলে থেকে মানবপাচারের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা কোটিপতি ফয়েজ উখিয়া সদরে এসে গাড়ী বাড়ি সহ অসংখ্য জমিজমার মালিক বনে গেলেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফয়েজের মতো আরো অনেক রাগব গোয়াল মানবপাচারকারী আত্মগোপনে থেকে মানবপাচারের কলকাটি নাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিমত এসব মানবপাচারকারী দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনা না হওয়া পর্যন্ত সাগর উপকূল দিয়ে মানবপাচার ঠেকানো কোন ভাবেই সম্ভব হবে না। কক্সবাজার ভিত্তিক এনজিও সংস্থা হেলপ কক্সবাজারের নেতৃবৃন্দরা বলছেন, মানবপাচারের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে আয়কৃত কোটি টাকার সহায় সম্পত্তি জব্দ করে মালয়েশিয়া যাত্রার নামে সর্বশান্ত পরিবারদের বিলিয়ে দেওয়া হোক।

স্থানীয়রা জানান, স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ৫ মানবপাচারকারী নিহত হওয়ার পরপরই ফয়েজ আত্মগোপনে চলে যায়। তারা আরো জানান মানবপাচারকারী ফয়েজ আত্মগোপন হলেও তার নেতৃত্বে শীর্ষ কয়েকজন মানবপাচারকারী এখনো নীরবে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে মানবপাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া থেকে মনখালী পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার উপকূলীয় সাগর পথ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার কাজে জড়িত রয়েছে রোহিঙ্গাসহ ৩ শতাধিক স্থানীয় ও বহিরাগত দালাল। উপকূলীয় এলাকায় আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত কতিপয় পুলিশ সদস্যের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় দালালরা দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল লোকজনদের মালয়েশিয়ায় সোনার হরিণ ধরার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাসা বাড়িতে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে সুযোগ বুঝে সাগর পথে অনিশ্চিত পাচার করে দিয়েছে। উপকূলে দায়িত্ব্রত ইনানী পুলিশ আই ওয়াশের জন্য মাঝে-মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু কিছু মালয়েশিয়াগামীকে আটক করলেও রহস্য জনক কারণে মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এছাড়া পুলিশের হাতে আটক হওয়া মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে ভিকটিমের নামে শর্ত সাপেক্ষ ছাড়া স্ব স্ব যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার কারণে মালয়েশিয়া যাত্রীর সংখ্যা কমেনি। উপরোন্তু দিন দিন বৃদ্ধিপেয়ে অনিশ্চিত যাত্রা অব্যাহত থাকায় এলাকার অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। সাগর পথে নিখোঁজ হয়ে গেছে শত শত যাত্রী। আন্দামান ও থাইল্যান্ড কারাগারে বন্দি অবস্থায় এখনো মানবেতর দিন যাপন করছে প্রায় অর্ধ শতাধিক যুবক।

এদিকে স্বরাষ্ট মন্ত্রালয়ের তালিকাভুক্ত জালিয়া পালং ইউনিয়ননের মানব পাচারকারী চক্রের গডফাদার ফয়েজ আহামদ বীরর্দপে উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান নিয়ে হাজারেরও অধিক স্থানীয় লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচারের মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক বনে গেলেও পুলিশ তাকে একবারের জন্যও আইনের আওতায় আনতে পারেনি। উখিয়া সদর গালর্স স্কুল সংলগ্ন বটতলী এলাকায় কোটি টাকার জমি ক্রয়ের মাধ্যমে আরো কয়েক কোটি টাকার ব্যয় করে আলিশান বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করে সেখানে আরাম আয়েশে দিন কাটালেও তার মাধ্যমে পাচার হয়ে যাওয়া অনেকের বাড়ীতে কান্নার রোল থামেনি। মাদারবনিয়া গ্রামের কবির আহমদ ও কালা মিয়া সহ একাধিক লোকজন জানান, দালাল ফয়েজকে আড়াই লক্ষ টাকা প্রদান করে তাদের ছেলেদের মালয়েশিয়া পাঠানো হয়েছে। অথচ আড়াই মাস ধরে তারা নিখোঁজ হয়ে গেছে। এব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ফয়েজের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা আরো জানান, উখিয়াস্থ তার আলিশান বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, দালাল ফয়েজ চট্টগ্রামে অবস্থান করছে।

আমেরিকা ভিত্তিক রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও সংস্থা হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক ও উপকূলীয় মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম এমএ জানায়, মানবপাচারের খপ্পরে পড়ে আন্দামান, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কারাগারে আটক, নিখোঁজ সহ প্রায় ৫শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের তালিকায় দালাল ফয়েজ সহ ৩ শতাধিক পাচারকারীর নাম উঠে এসেছে। তিনি বলেন, এসব পাচারকারীদের অবৈধ পথে আয়ের সহায়সম্পত্তি জব্দ করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হলে এদিকে যেমন পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতো একই ভাবে হতদরিদ্র ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো আর্থিক ভাবে উপকৃত হতো।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জহিরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, মানব পাচারের সাথে যে সমস্ত জলযানের মালিক জড়িত রয়েছে তারাসহ উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকা পাচারকারীদের নতুন করে তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি বলেন, সাগর পথে আর যাতে মানবপাচার হতে না পারে পুলিশ এখন থেকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।






মন্তব্য চালু নেই