মেইন ম্যেনু

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু

উখিয়ায় রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হতে মরিয়া

সারা দেশের ন্যায় উখিয়ায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৫ জুলাই শনিবার সকাল ৯টা থেকে তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি আছে কিনা খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে। ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগষ্ট পর্যন্ত ১৬ দিন এ হালনাগাদ কার্যক্রমে ৬৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য রোহিঙ্গারা তৎপর হয়ে উঠেছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরে উন্নীত হয়েছে সে সব নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ভোটারযোগ্য ব্যক্তির পিতামাতার পরিচয় পত্রের সত্যায়িত কপি, পিতা ও মাতার মৃত্যু হলে মৃত্যু সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, স্বামী/স্ত্রীর পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি (বিবাহিত ক্ষেত্রে), জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, চৌকিদারি/বিদ্যু বিলের সত্যায়িত ফটোকপি, বিদেশ ফেরত ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি, বাসস্থানের ক্ষেত্রে ভোটার ইচ্ছুক ব্যক্তির জমিনের দলিল/খতিয়ানের সত্যায়িত ফটোকপি, ভূমিহীনদের ক্ষেত্রে ভূমিহীন সনদের মূল কপি, নিকটাত্মীয় ভাই, বোন, চাচা ও ফুফু সহ ৩ জনের পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি অবশ্যই তথ্য সংগ্রহকারীর নিকট জমাদান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে নিকট আত্মীয় না থাকলে স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্র্তৃক প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হবে। সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, বাদ পড়া লোকদের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র (১৯৯৫ এর জন্ম হলে) দাখিল করতে হবে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন বা স্থানীয় প্রশাসন আগাম কোন প্রচারণা বা মাইকিং না করায় অনেকেই এ সম্পর্কে অবগত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত লোকালয়ে স্থায়ীভাবে অবস্থান করা রোহিঙ্গা নাগরিকেরা তৎপর হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, ১৯৯১ সালের শেষের দিকে অনুপ্রবেশকারী আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে প্রত্যাবাসনের একপর্যায়ে ২০০৫ সালের জুলাই মাসে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়াতে কুতুপালং ক্যাম্পে রয়ে গেছে প্রায় ১১ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নাগরিক।

এছাড়াও ২০১০ সালের সীমান্তের নাফ নদী পার হয়ে রাতারাতি কুতুপালং বনভূমিতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে এখন ৭০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই স্থানীয় মেয়েদের বিয়ে করেছে। আবার একাধিক রোহিঙ্গা মেয়ে স্থানীয়ভাবে বিয়ে হওয়ার সুবাদে আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ শত শত রোহিঙ্গা নাগরিক বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা যাতে ভোটার হতে না পারে সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই