মেইন ম্যেনু

উখিয়ায় সুপারি বাম্পার ফলন

উখিয়ায় প্রতি মৌসুমে ১০ কোটি টাকার সুপারি বাজারজাত হচ্ছে। দেশের গন্ডি ফেরিয়ে এসব সুপারি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হওয়ার কারণে কাঁচা সুপারির কদর আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সুপারি চাষাবাদের মাধ্যমে অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আসার সুবাদে এখানে বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষাবাদ হচ্ছে। উৎপাদিত সুপারি স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণের পরে বিদেশে রপ্তানি হওয়ার কারণে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে সুপারি আসা বন্ধ হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিয়ানমারের সুপারি না আসার কারণে স্থানীয় কৃষকেরা সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। এতে সুপারি চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অকৃষি পরিত্যক্ত জমিগুলো উৎপাদনমুখী হচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

সূত্রমতে, ৮০ দশকে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ শুকনা সুপারি এদেশে পাচার হয়েছে। চোরাই পথে আসা এসব শুকনা সুপারি হাট বাজার সয়লাব হয়ে পড়ার কারণে দেশীয় উৎপাদিত সুপারি বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পায়নি। এতে করে স্থানীয়ভাবে সুপারি চাষাবাদে কৃষকেরা অনেকটাই নিরোৎসাহিত হয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালে মিয়ানমারে বসবাসরত বৃহত্তর রোহিঙ্গা নাগরিক এদেশে চলে আসার কারণে সুপারি পাচারের ধারাবাহিকতা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। এতে বাড়তে থাকে স্থানীয় সুপারির চাহিদা। বাজারে সুপারির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকেরা পরিত্যক্ত অকৃষি জমিগুলোতে সুপারির চাষাবাদ শুরু করে।

পান সুপারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুলতান আহমদ জানান, প্রতি মৌসুমে এ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রায় ১০ কোটি টাকার সুপারি বাজারজাত হচ্ছে। এসব সুপারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন আড়তে চলে যাচ্ছে। পরে ওইসব সুপারি প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

অর্থকরী ফসল পান, সুপারি উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল জালিয়াপালং ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বসত ভিটা ছাড়াও স্থানীয়ভাবে হাজারেরও অধিক পরিবার বাণিজ্যিকভাবে সুপারি উৎপাদনে সক্ষম হওয়ায় চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার উৎপাদন হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি সোনারপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায় উৎপাদিত সুপারিতে বাজার সয়লাব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক ও কাদির হোছন জানান, এ বাজার থেকে দৈনিক ৮-১০টি ট্রাক বোঝাই সুপারি দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হচ্ছে। তবে বাজার ইজারাদার কৃষকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করার কারণে কৃষকেরা সুপারি বাজারজাতকরণে আর্থিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন এর নিকট একটি অভিযোগ করলেও তা কোন কাজে আসেনি বলে সাংবাদিকদের জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন শীল জানান, চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় সুপারির বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। এসব সুপারি বাজারজাত করে কৃষকেরা লাভবান হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই