মেইন ম্যেনু

উচ্চ রক্তচাপ সমস্যায় এড়িয়ে চলুন এই খাবারগুলো

আমেরিকায় তিন জনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন। এইজন্য খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সুপারিশ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাধারণত পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি না খাওয়া, অনেক বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করা এবং নিম্ন মাত্রার পটাসিয়াম গ্রহণ ইত্যাদি কারণ গুলো উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টির জন্য দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ, চর্বিহীন প্রোটিন, আস্ত শস্য দানা, লো ফ্যাট এর দুগ্ধ জাতীয় খাবার এবং শাকসবজি ও ফল খেলে রক্তচাপ কমানো যায়। দুর্ভাগ্যবশত এমন কিছু খাদ্য আছে যারা রক্তচাপ কমাতে বাধা প্রদান করে। সেই খাবার গুলো সম্পর্কে জেনে নেই আসুন।

১। লবণ

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের শত্রু হচ্ছে লবণ ও সোডিয়াম।The Dietary Guidelines for Americans এর মতে, যাদের হাইপারটেনশন ও প্রিহাইপারটেনশন আছে তারা দৈনিক ১৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ করতে পারেন। ৭৫ শতাংশ সোডিয়াম প্যাকেটজাত খাবার থেকে আসে। ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও বোতলজাত খাবার ও জুস লবণের উৎস, তাই এই গুলো গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিন।

২। আচার

আচারে ক্যালরি ও ফ্যাট কম থাকে এবং উচ্চ মাত্রার ভিটামিন কে থাকে যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কিন্তু আচারে প্রচুর সোডিয়াম থাকে, মাঝারি একটা আচারে ৫৭০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে যা দৈনিক চাহিদার চেয়ে ১/৩ অংশ বেশি। তাই যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে আচার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন।

৩। ননীযুক্ত দুধ

শরীরের মাংসপেশী গঠনের জন্য ননীযুক্ত দুধ সবচেয়ে ভালো। এক কাপ সরযুক্ত দুধে ৮ গ্রাম ফ্যাট থাকে। কিন্তু যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে সর তোলা দুধ পান করুন। সরযুক্ত দুধে যে সম্পৃক্ত চর্বি থাকে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

৪। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই

বর্তমানে অনেক ফাস্ট ফুডের দোকান ফ্রেঞ্চ ফ্রাই করার জন্য ফ্যাট ফ্রি অয়েল ব্যবহার করে কিন্তু সবাই এটা মেনে চলে না। তাই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এ প্রচুর ফ্যাট ও সোডিয়াম থাকে। মাঝারী আকারের এক প্যাকেট ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এ ১৯ গ্রাম ফ্যাট এবং ২৭০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে।

৫। কৌটা বা বোতলজাত টমেটো পণ্য

যাদের হাইপারটেনশন আছে তাদের জন্য কৌটা বা বোতলজাত টমেটো পণ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। টমেটো সস, টমেটো জুস বা টমেটো পাস্তা সসে উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম থাকে। বোতলজাত টমেটো পণ্য না কিনে তাজা টমেটো খেতে পারেন।

৬। চিনি

চিনি ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আপনি কি জানেন বেশি পরিমাণ চিনি খেলে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়? বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় পানীয় স্থূলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যাদের ওজন বেশি তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা ও বেশি থাকে। আমেরিকান হার্ট এ্যাসোসিয়েশন মহিলাদের দৈনিক ৬ চা চামচ এবং পুরুষদের ৯ চা চামচ চিনি গ্রহণের পরামর্শ দেয়।

৭। মুরগীর চামড়া

যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের সম্পৃক্ত চর্বি ও ট্রান্স ফ্যাট বর্জন করা উচিৎ। মুরগীর চামড়ায় উচ্চ মাত্রার সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। ননীযুক্ত দুধ, লাল মাংস এবং মাখনে সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। ট্রান্স ফ্যাট চর্বি যুক্ত মাংস ও দুগ্ধ পণ্যে পাওয়া যায় তবে প্যাকেটজাত খাবারে বেশি থাকে। অধিকমাত্রায় সম্পৃক্ত চর্বি ও ট্রান্স ফ্যাট খেলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ায় যা হাইপারটেনশনের খারাপ অবস্থা তৈরি করে ও করোনারি হার্ট ডিজিজ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় যেমন- চা, কফি, সোডা হাইপারটেনশন বৃদ্ধি করে। অ্যালকোহল সেবনেও ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ডোনাট, মারজারিন, লাল মাংস ইত্যাদি খাবার রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ফল, শাকসবজি, আস্ত শস্যদানা, মাছ, মুরগী, বাদাম, শিম জাতীয় সবজি, ননফ্যাট দুধ গ্রহণ করুন। এই খাবার গুলো পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। এই খাবার গুলোতে লবণ ও চিনি কম থাকে বিধায় রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।






মন্তব্য চালু নেই