মেইন ম্যেনু

উচ্ছেদে গিয়ে পিছু হটলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

শতাধিক পুলিশ, দাঙ্গা প্রতিরোধক গাড়ি, বুলডোজার, পেলোডার ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সায়েদাবাদে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ঘোষিত সময় বেলা একটার মধ্যে সবাই হাজির হলেও সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ তৎপরতায় ভেস্তে যায় সে উদ্যোগ। দিন শেষে কয়েকটি ট্রাক সরিয়ে রণে ভঙ্গ দিয়ে ফেরত যান কর্মকর্তারা।

এর ফলে এক মাস আগে মেয়রের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো না। সায়েদাবাদকে যানজটমুক্ত করার যে পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের ছিল সেটা হয়ে পড়েছে সুদূর পরাহত। তবে শিগগিরই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে আশা কর্মকর্তাদের।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারি জোনের ডিসির নেতৃত্বে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন সায়েদাবাদের অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে। তাদের সঙ্গে ছিল দাঙ্গা প্রতিরোধক গাড়ি এপিসি। ট্রাক স্ট্যান্ডটি সায়েদাবাদ ব্রিজের পশ্চিম পাশে এবং মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের সায়েদাবাদ টার্মিনালমুখী লুপের নিচে। বেলা একটার সময় সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদের নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে ছিলেন উচ্ছেদ অভিযানের সমন্বয়কারী ও সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও নৌবাহিনীর কমোডর এম কে বখতিয়ার।

উচ্ছেদ প্রস্তুতি শুরুর আগেই ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান হাবুর (তিনি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নেরও নেতা) নেতৃত্বে ট্রাক স্ট্যান্ডের শ্রমিক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে পুলিশের সামনে মিছিল করতে থাকেন। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কাজী হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় দু’শ ট্রাক এই স্ট্যান্ড ব্যবহার করে। এত ট্রাক উচ্ছেদ করলে যাবে কোথায়? বিকল্প ব্যবস্থা না করে ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা যাবে না।’ বাংলাদেশ ট্রাক মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘ঈদের আগে উচ্ছেদ করলে শ্রমিকদের অনেক কষ্ট হবে। উচ্ছেদ যদি করতে হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা করে ঈদের পরই যেন করা হয়।’

স্থানীয় নেতাদের বিরোধিতার কারণে উচ্ছেদ অভিযানে ভাটা পড়ে। সিটি করপোরেশন ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে চলতে থাকে আলোচনা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় বিকাল ৩টায় বুলডোজার ও দাঙ্গা প্রতিরোধক গাড়ি ট্রাক স্ট্যান্ডটি উচ্ছেদ করতে অগ্রসর হতে থাকলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শ্রমিকরা সামনে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড বাধার সৃষ্টি করেন। ফলে উচ্ছেদ কার্যক্রম আবারও স্থগিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বিকাল পাঁচটায় সড়কের পাশ থেকে ৫/৬টি ট্রাক অপসারণ করে উচ্ছেদ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ম্যাজিস্ট্রেট।

সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদ বলেন, ‘মেয়রের নির্দেশে আমরা উচ্ছেদ করতে এসেছি। কারণ ট্রাক স্ট্যান্ডের এ জমি সিটি করপোরেশনের। ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে এখানে যানজট হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা কিছু ট্রাক সরিয়ে নিয়েছে। বলে দেওয়া হয়েছে সড়কের ওপর যেন কোনও ট্রাক না আসে।’

পুলিশের ডিসি ফরিদউদ্দিন বলেন, ‘মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক এটা আমরা চাইছি না। এ কারণে পুলিশ সহনীয় আচরণ করছে।’

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট নগরভবনে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার ২ নম্বর এজেন্ডা ছিল মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে সায়েদাবাদে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড ও বাস পার্কিংয়ের কারণে যানজট নিরসন প্রসঙ্গ। এ বিষয়ের ওপর আলোচনায় প্রত্যেক বক্তা সায়েদাবাদের ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদের ওপর জোর দেন। সভার সভাপতি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনও তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।






মন্তব্য চালু নেই