মেইন ম্যেনু

উজানের ঢলে নবযৌবনে তিস্তা

তিস্তা নদীতে উজান থেকে ঢল নেমে আসছে। বর্ষার আগেই হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নবযৌবনে ফিরে আসছে তিস্তা। নদীজুড়ে চলছে উথাল পাতাল ঢেউয়ের সঙ্গে প্রচণ্ড স্রোতধারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্র মতে, পাহাড়ি ঢল ও উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শুক্রবার তিস্তা নদীতে ঢল নেমেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। ফলে বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ৪০) দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার ডালিয়া পয়েন্টে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ মিলিমিটার।

এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম ও নদীর চর প্লাবিত হয়েছে।

প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বাইশপুকুর, কিসামত ছাতনাই, পূর্বছাতনাই ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুরচর, ভেন্ডাবাড়ি, ছাতুনামা, হলদিবাড়ি, একতারচর, ভাসানীরচর, কিসমতেরচর, ছাতুনামা।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিস্তার নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তিস্তাপাড়ের ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর চরের নৌকার মাঝি হারুর অর রশিদ প্রামানিক (৪২) জানালেন, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই তিস্তা নদীতে যেন জোয়ার শুরু হয়েছে। এ জোয়ারে তিস্তা ফুলে ফেঁপে উঠছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পায়। হারুনের মতে, এবার বর্ষার শুরুতেই তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে উজানের ভারী বর্ষণ ও ঢল নেমে আসায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে মরা তিস্তা নদী। শুকিয়ে থাকা তিস্তায় হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নবযৌবনে ফিরে এসেছে এ নদীটি। নদীজুড়ে চলছে শোঁ-শোঁ শব্দে স্রোতধারা।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সুরুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদীর পানি শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্ট বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা ৩টায় পানি আরো কমে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচে চলে এসেছে। তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় যে কোনো সময় তিস্তা নদী বাংলাদেশ অংশের ডালিয়ায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট ২৪ ঘণ্টাই খুলে রাখা হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই