মেইন ম্যেনু

উজিরপুরে কোরবানীতে সরকারী চাউল পায়নি দুস্থরা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন সোহাগ মোল্লার বিরুদ্ধে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ডের চাউল আত্মস্বাৎ,দুর্নিতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে পবিত্র ঈদুল আযহা সহ সময় মত অসহায় দুস্থ পরিবার গুলো কোন চাউল পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

এব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দৌলাতুন নেছা ও সমবায় অফিসার মোঃ হেমায়েত উদ্দিন রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাতলা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি কার্ডধারী অসহায় দুস্থদের ও সাতলা অঞ্চলের গন্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে দুর্নিতির তদন্ত কালে এর সত্যতার একাধিক প্রমান মিলেছে বলে তারা জানিয়েছেন ।

তদন্ত কালে জানা জায় ১৫ নং কার্ডধারী মমতাজ বেগম,১৪৪ নং কার্ডধারী রাজিয়া বেগম,১৭৫ নং কার্ড ধারী পুস্প কীর্তনীয়া,১৭৮ নং কার্ডধারী সুমতি মন্ডল,১৮০ নং কার্ডধারী পুতুল রানী বাড়ৈ,পুতুল বৈদ্য সহ অসংখ্য ভিজিডি কার্ডধারী অসহায় দুস্থ পরিবার গত মে মাসের পরে আর সরকারী চাউল পায়নি। গত এপ্রিল মাসে চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা উজিরপুর খাদ্য গুদাম থেকে ২ মাসের চাউল উত্তোলন করে ১৯৬ জন কার্ড ধারীদের মধ্যে ৫২ জনের নিকট থেকে ২ মাসের স্বাক্ষর রেখে ১ মাসের চাউল দিয়ে বিদায় করে দেন এবং চাউল দেওয়ার দিন যারা উপস্থিত হতে পারেন না,তাদেরকে পরে আর চাউল দেওয়া হয়না।

ঈদুল আযহার পুর্বে জুন,জুলাই ও আগষ্ট মাসের বকেয়া চাউল উত্তোলনের জন্য সরকারী ভাবে প্রতি ইউনিয়নে ছারপত্র প্রদান করা হলেও কোরবানীর আগে তিনি খাদ্য গুদাম থেকে ১ মাসের চাউল উত্তোলন করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকলকে চাউল দিতে ডেকে এনে প্রায় অর্ধশত ভিজিডি কার্ডধারীদের কাছ থেকে ২ মাসের স্বাক্ষর নিতে থাকলে সাতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঃ খালেক আজাদ,ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আঃ মালেক মাষ্টার,সম্পাদক ইদ্রিস সরদার,যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন বালী,যুবলীগ নেতা সবুজ বালী,ইকবাল বালী, সহ একাধিক গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নজরে আসায় তারা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানালে তারা চাউল বিতরন কর্মসূচী স্থগিত করে দেন এবং ২ মাসের চাউল তুলে ২৭ সেপ্টেম্বর চাউল বিতরনের তারিখ নির্ধারন করলে ওইদিনও চেয়ারম্যান চাউল না তুলে কার্ডধারীদের ১ মাসের চাউল দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন ।

শত শত মানুষের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য তদন্ত কালে জানা জায় চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা ইতোপুর্বেও এভাবে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাষ্টাররোলে ২ মাসের স্বাক্ষর নিয়ে ১ মাষের চাউল বিতরন করেছেন এবং বাকী চাউল আত্মস্বাৎ করেছেন বলে প্রকাশ্যেই উপস্থিত শতশত কার্ডধারীদের স্বাক্ষ প্রমানে তা প্রমানিত হয়ে যায় ।

চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লার এ দুর্নিতি তদন্ত কালে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি জানান শিকারপুর খাদ্য গুদাম থেকে সাতলা পর্যন্ত ২ ট্রাক চাউল নিতে পরিবহন খরচ লাগে ২০ হাজার টাকা ও লেবার খরচ ২ হাজার টাকা,কিন্তু সরকারী ভাবে টন প্রতি ৭০ টাকা করে বরাদ্দ থাকায় এ চাউল উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি ।

একথা শোনার পরে সাতলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আঃ খালেক আজাদ নিজের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে অসহায় দুস্থ পরিবারের মধ্যে সঠিক ভাবে মোট ৩ মাসের ৩০ কেজি করে ৯০ কেজি চাউল যাতে পৌঁছে দেওয়া যায় সেজন্য পরিবহন খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকার মধ্যে আঃ খালেক আজাদ প্রকাশ্যে সকলের সামনে নগদ ১০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লার হাতে তুলে দিয়ে আগামি ৮ অক্টোবর ৩ মাসের চাউল একত্রে দেওয়ার সিদ্দান্ত নিলে উপস্থিত সকলেই খুশি হয় ,তবে তদন্ত কর্মকর্তা গন যাতে চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লার এহেন দুর্নিতিকে আরাল করতে না পারে সে ব্যাপারেও ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন ।






মন্তব্য চালু নেই