মেইন ম্যেনু

উদ্বিগ্নতায় আক্রান্ত প্রিয়জনকে যেভাবে সাহায্য করতে পারেন

উদ্বিগ্নতার সমস্যা নিয়ে অনেকেই সচেতন না অথবা এর উপসর্গের সাথে মানিয়ে নেয়াটা কতোটা চ্যালেঞ্জিং সে বিষয়েও অনেকেই বুঝেন না। অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার ৬ ধরণের হয়ে থাকে যেমন- জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার, সোশ্যাল অ্যাংজাইটি, ফোবিয়া, প্যানিক ডিজঅর্ডার, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার। হয়তো আপনার প্রিয়জনকে উদ্বিগ্নতা মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদেরকে আপনি যেভাবে সাহায্য করতে পারেন তা হল :

১। অনুভূতিহীন আচরণ ত্যাগ করুন

এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে- কেউ ইচ্ছে করে উদ্বিগ্নতায় ভোগেনা না। উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন এমন মানুষদের নিজের অনুভূতি ও উপসর্গের উপর খুব কমই নিয়ন্ত্রণ থাকে। কোন সতর্ক বার্তা ছাড়াই হঠাৎ করে প্যানিক অ্যাটাক আঘাত হানতে পারে। এমন অবস্থায় আপনি যদি তাকে বলেন যে “আরে এটা কিছুই না” অথবা “করে ফেল কাজটা” তাহলে সে অসমর্থিত বোধ করবে এবং আপনিও একজন অনুভূতিহীন মানুষ বলেই প্রতীয়মান হবেন।

২। ভালো শ্রোতা হোন

অ্যাংজাইটিতে ভুগেছেন এমন মানুষরা চান তার কথা কেউ মন দিয়ে শুনুক এবং বুঝতে চেষ্টা করুক যে আমি কিসের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। কিছু পরামর্শ দেয়াটা কাজে লাগতে পারে কিন্তু সহানুভূতিশীল হওয়া উদ্বিগ্নতায় ভোগা প্রিয়জনের জন্য আরো অনেক বেশি উপকারী হতে পারে।

৩। চিকিৎসায় সহযোগিতা করুন

অ্যাংজাইটি খুব সাধারণ মানসিক রোগ হলেও কিছু মানুষের চিকিৎসার ও প্রয়োজন হতে পারে। একজন ভালোমানের সাইকোলজিস্টের মাধ্যমে চিকিৎসা নিলে অ্যাংজাইটির সমস্যা থেকে নিরাময় লাভ করা যায় এবং জীবন মানের উন্নতি করা সম্ভব হয়। তাই আপনার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং ডাক্তারের সাথে সাক্ষাতের সময় তার সাথে গেলে সে নৈতিক সমর্থন পাবে।

৪। তাদের অনুভূতিকে গুরুত্বহীন ভাববেন না

মানুষ এই ভুলটাই বেশি করে থাকে। অ্যাংজাইটির সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকাটা কতোটা কঠিন তা যদি কেউ বলে তাহলে কখনোই তাকে বলা উচিৎ নয় “শান্ত থাকুন” বা “জাস্ট চিল”। এর পরিবর্তে তাকে নিয়ে কোথাও থেকে হেঁটে আসুন বা তাকে সাথে নিয়ে রান্না করুন।

৫। নিজে স্ট্রেস মুক্ত থাকুন

এতে কোন সন্দেহ নাই যে অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন এমন কারো যত্ন নেয়ার ফলে আপনার নিজের উপর চাপ পড়ে। তাই অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন এমন প্রিয় মানুষটিকে সারাক্ষন শিশুদের মত দেখে রাখার প্রয়োজন নেই। নিজের প্রতি ও খেয়াল রাখুন এবং কিছুটা সময় নিজেকে দিন।

৬। ধৈর্য ধরুন

অ্যাংজাইটির সমস্যায় ভুগছেন এমন প্রিয় মানুষটির দেখা শোনা করার সময় আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। তার উপসর্গগুলো কমতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস, এমনকি বছরও লাগতে পারে। বুঝতে চেষ্টা করুন কিসে তার উদ্বিগ্নতা বৃদ্ধি পায় এবং সে কিসের প্রতি সংবেদনশীল।

৭। অনুমতি ছাড়া তাদের উদ্বেগ সম্পর্কে কথা বলবেন না

ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও দুঃখজনক সত্যি কথা হচ্ছে মানসিক অসুস্থতা এখন ও কলঙ্কিত সমস্যা হিসেবেই চিহ্নিত। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার অ্যাংজাইটির কথা অন্যদের বলবেন না।






মন্তব্য চালু নেই