মেইন ম্যেনু

উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রমের উপর প্রেস ব্রিফিংয়ে আ জ ম নাছির

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন ২৬ জুলাই ১৫ দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে ২ নভেম্বর ১৫ পর্যন্ত ১ শত দিবসের উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগনকে অবহিত করার লক্ষে ৩০ নভেম্বর ২০১৫খ্রি. সোমবার, দুপুরে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া, প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিক ইউনিয়নে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং এ মিলিত হন। সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর সার্বিক উন্নয়ন সেবাধর্মী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সহযোগিতা, পরামর্শ, আলোচনা ও সমালোচনা প্রত্যাশা করে বলেন, নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও সেবার জন্যই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

মেয়র বলেন, সিভিল সোসাইটি সহ নানা শ্রেণী, পেশা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায় তার ভিশন ও অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে দায়-দেনা, অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিশৃংখলা কাঁধে নিয়ে শতভাগ সেবা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে সম্পাদনের লক্ষে দায়িত্ব নিয়েছি। বিগত প্রায় ৩ মাসে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি বিভাগ ও শাখায় শৃংখলা ফিরিয়ে আনা, দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে ফিরিয়ে আনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রশাসন ঢেলে সাজানোর প্রয়াস নেয়া হয়েছে। মেয়র বলেন, সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সহ সেবায় নিয়োজিতদের সাথে সমন্বয় করে সেবা দেয়ার লক্ষে সমন্বয় কমিটি গঠন সহ সমন্ব কমিটির সভা আহবান, পরিকল্পনা সেল গঠন, বিলবোর্ড ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, ১৯৯৫ সনের মাষ্টার ড্রেনেজ প্লান যুগোপযোগি করা, সোয়ারেজ মাষ্টার প্লান প্রণয়ন, ৪১টি ওয়ার্ডে সার্ভে করে, সমস্যা চিহ্নিত করণ, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সচিত্র ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে রাস্তা, নালা-নর্দমা ইত্যাদির উপর গবেষণা করা, যানজট নিরসন, আইন শৃংখলার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নে শাহ আমানত ব্রীজ থেকে মোহরার শেষ অংশ পর্যন্ত বেড়ী বাঁধ নির্মাণ করা, রিংরোড নির্মাণ করা, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করা, স্লুইস গেইট নির্মাণ করা, খাল খনন করা, খাল ও নালা অবৈধ দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে ইপিজেড এলাকাকে যানজট মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। মেয়র বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গতিশীলতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি সহজ করে ১০ টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে। সিটি মেয়র বলেন, হকার পুনর্বাসনেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। নগরীর উন্নয়ন টেকসই ও গতিশীল করার লক্ষে রিফাইনারী থেকে উৎপাদিত বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাইকার মাধ্যমে ১ শত ৮৮ কোটি টাকা এবং এডিপি ও থোক বরাদ্দ থেকে ৩৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ভিত্তিতে পরিচালনার উদ্যেগ কার্যকর করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, সচিব রশিদ আহমদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিসেস নাজিয়া শিরিন, মেয়র এর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিং এ সিটি মেয়র সচিবালয় প্রসঙ্গে বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বাপর প্রত্যেক বিভাগের সাথে আমি আলাদা আলাদাভাবে সভা করে কর্তব্যে নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা আনয়ন, কর্মচারীদের নৈতিকতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সমস্যা চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীগণকে মনোযোগ দিয়ে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনে নির্দেশ প্রদান করেছি। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি সপ্তাহে প্রত্যেক বিভাগের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিতকরণের ফলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ ফিরে আসছে। কর্পোরেশনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কর্তব্যে ফাঁকি দেয়া অলস কর্মচারীদের চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে দায়িত্বের প্রতি অবহেলা ও কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত কর্মচারীদের চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগ ও শাখায় কর্তব্য কাজে অবহেলা, অনিয়ম, উদাসীনতাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ফলে ৩১ জন কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত অনুপস্থিত ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে কারণ দর্শানোসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতঃ নিয়মিত তদারকির ফলে পূর্বের চেয়ে বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনেক গতিশীলতা আনয়ন সম্ভব হয়েছে। প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারী তাদের নিজের কর্মের প্রতি সচেতন হয়ে অফিসের নির্ধারিত সময়ে কাজকর্ম সম্পাদনে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হতে চলেছেন। কর্পোরেশনের অর্থের অপচয় অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি এবং জনসচেনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মহানগরীর জনসাধারণের সেবা প্রদানের মান দিন দিন বৃদ্ধি করার জন্য আমি সচেষ্ট আছি।

পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে আমি বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করি। যেমন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে ঢেলে সাজানো হয়েছে। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রি. হতে দিনের পরিবর্তে রাতে ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ চলছে। বাসাবাড়ি, অফিস, হোটেল, দোকান ও কল-কারখানা ইত্যাদির ময়লা আবর্জনা যখন তখন যত্রতত্র না ফেলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। এ বিষয়ে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা আনয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাসমূহে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রতিদিন মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ লক্ষ লিফলেট নগরীর সর্বত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। রাত্রিকালীন সময়ে পরিচালিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে তদারকির স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল তদারককারী কর্মচারীকে নতুন মোটর সাইকেল প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দ্রুততার সাথে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের নিমিত্তে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০০টি নতুন উন্নতমানের টেকসই/ মজবুত হুইল ব্যারো সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০৫টি নতুন হুইল ব্যারো পরিচ্ছন্ন বিভাগে সরবরাহ করা হয়েছে। আবর্জনা অপসারণের জন্য ব্যবহৃত পুরনো ০৪টি পে-লোডারের সাথে নতুন ০২টি পে-লোডার ভাড়া করা হয়েছে। আবর্জনা অপসারণ কাজে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা চাহিদা অনুযায়ী বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গতিশীল করতে মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন্য নতুন এসএস-এর ২৫টি (পঁচিশ) কন্টেইনার ক্রয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১টি (এগার) কন্টেইনার সরবরাহ করা হয়েছে। আরেফিন নগর আবর্জনাগারটি আর্বজনা অপসারণের/ডাম্পিং এর জন্য অনুপযোগী হওয়ায় কালুরঘাটস্থ এফ.আই.ডি.সি রোডে নতুন আবর্জনাগারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা কাজ নির্বিঘেœ সম্পাদনের জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সকল শ্রমিকদেরকে রেইন কোট প্রদান করা হয়েছে।পাড়ার অলি-গলি হতে ময়লা আবর্জনা বহনের জন্য ৩০টি ওপেন ও কাভার্ড টেম্পু গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। রাত্রিকালীন কর্মরত সেবকদের রেডিয়েন্ট জেকেট প্রদান করা হয়েছে। যুগোপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করায় বর্তমানে নগরী পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে।

প্রেস ব্রিফিং এ শিক্ষা বিভাগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীকে শিক্ষাবান্ধব আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯টি কলেজ, ৪৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি কিন্ডার গার্টেন, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬টি সংস্কৃত টোল, ৬টি গণশিক্ষা কেন্দ্রসহ ৫১০টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরো আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করতে আমি ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের স্থগিতকৃত নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এছাড়াও গোসাইলডাঙ্গা কে.বি.এ.এইচ দোভাষ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কদম মোবারক সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের স্থগিতকৃত নতুন ভবনের নির্মাণ কাজও পুনরায় শুরু করা হয়েছে। জামালখান কুসুমকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাগমনিরাম সিরাজাখাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং উত্তর আগ্রাবাদ সিটি কর্পোরেশন কিন্ডারগার্টেন-এর নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করি দ্রুততম সময়ে উক্ত নির্মাণ কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে জামালখান কুসুমকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে ছাত্রীদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কমার্স কলেজের প্রাথমিক পাঠদান অনুমতি লাভের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রেক্ষিতে কলেজের প্রাথমিক পাঠদান শুরু হয়েছে। পোস্তারপাড় আছমা খাতুন সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের স্বীকৃতি প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল তা সমাধান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রদর্শক, সহকারী শিক্ষক, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সর্বমোট ৪৪০ জনকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যা ইতোপূর্বে প্রদান করা হয়নি।বিদ্যালয় ও কলেজের কক্ষ, বারান্দা, খেলার মাঠ ও আশপাশের আঙিনাসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতা বিষয়ক শিক্ষা প্রদানের জন্য শিক্ষকদেরকে বারবার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় বংলাদেশের স্বনামধন্য একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি এতদিন অননুমোদিত ট্রাস্টিবোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছিল। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টি এতদিন যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি। সম্প্রতি উক্ত বিষয়ে ইউজিসি কর্তৃক পত্র প্রেরণ করা হয়েছে এবং ইউজিসি কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির আভ্যন্তরীণ পরিচালনাগত এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইউজিসি কর্তৃক যে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে সেসব আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে পরিচালনার বিষয়ে আমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ইতোমধ্যে শিক্ষা নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত খসড়া নীতিমালা নিরীক্ষার কাজ চলছে। অচিরেই তা চূড়ান্ত করা হবে এবং নীতিমালার আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ পরিচালিত হবে।
প্রেস ব্রিফিং এ স্বাস্থ্য বিভাগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, যোগদানের পর আমি মেমন মাতৃসদন হাসপাতাল, সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, ইনষ্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, মিডওয়াইফারী ইনষ্টিটিউটসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করি এবং এসব প্রতিষ্ঠানের যথাযথ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছি। সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে আমি সমন্বয় সভা করেছি এবং স্বাস্থ্য সেবাকে অধিকতর গতিশীল, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার আওতায় পরিচালনা করার জন্যে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছি।

চিকিৎসাকে প্রান্তিকজনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য চিকিৎসা ফি ৩০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ টাকা করেছি ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যার আধুনিক পুর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে পরিণত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর হতে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের ফলে মাতৃসদন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৬ জুলাই ২০১৪ খ্রি. হতে ২ নভেম্বর ২০১৪ খ্রি. পর্যন্ত ১০০ দিনে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালিত মাতৃসদন হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল দাতব্য চিকিৎসালয়/স্বাস্থ্য কেন্দ্র, খতনা কেন্দ্র, ইপিআই ও হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয়ে সেবাপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা মোট ২,৫৪,৬১৩ (দুই লক্ষ চুয়ান্ন হাজার ছয়শত তের) জন। অপরদিকে ২৬ জুলাই ২০১৫খ্রি. হতে ২ নভেম্বর ২০১৫খ্রি. পর্যন্ত ১০০ দিনের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালিত মাতৃসদন হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎলয়/ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, খতনা কেন্দ্র, ইপিআই ও হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয়ে সেবাপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ২,৮৭,৫৩২ (দুই লক্ষ সাতাশি হাজার পাঁচশত বত্রিশ) জন। সুতরাং বিগত বছরের একই সময়ে সেবাগ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা হতে আমার দায়িত্ব গ্রহণের পরের ১০০ দিনে সেবাগ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা মোট ৩২,৯১৯ (বত্রিশ হাজার নয় শত ঊনিশ) জন বেশি।

প্রেস ব্রিফিং এ রাজস্ব বিভাগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চলতি আর্থিক সনের অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ১০০ দিনে পৌরকর আদায় হয়েছে ৫৫,০৮,০৬,০০৭.০০ (পঞ্চান্ন কোটি আট লক্ষ ছয় হাজার সাত) টাকা। যা পূর্বের অর্থবছরের একই সময় আদায়কৃত পৌরকর হতে ৩৯,৪৯,০৪,৮৯৫/- (ঊনচল্লিশ কোটি ঊনপঞ্চাশ লক্ষ চার হাজার আটশত পঁচানব্বই) টাকা বেশি। এই সময়ে ট্রেড লাইসেন্স খাতে আদায় হয়েছে ১১,৭৮,০১,৭৭৩.৫০ (এগার কোটি আটাত্তর লক্ষ এক হাজার সাতশত তিয়াত্তর টাকা পঞ্চাশ পয়সা)। যা পূর্বের অর্থবছরের একই সময় আদায়কৃত ট্রেড লাইসেন্স খাতের আয় হতে ৮,১০,২৮,৮৫৭/- (আট কোটি দশ লক্ষ আটাশ হাজার আটশত সাতান্ন) টাকা বেশি।চলতি আর্থিক সনে অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ১০০ দিনে এস্টেট খাতে আদায় ৫,৯৭,২৫,৭৮০.৭৪ (পাঁচ কোটি সাতানব্বই লক্ষ পঁচিশ হাজার সাতশত আশি টাকা চুয়াত্তর পয়সা)। যা পূর্বের অর্থবছরের একই সময় আদায়কৃত এস্টেট খাতের আয় হতে ১,১০,৮৪,৯৫৮.৫৪/- (এক কোটি দশ লক্ষ চুরাশি হাজার নয়শত আটান্ন টাকা চুয়ান্ন পয়সা) টাকা বেশি। সব মিলিয়ে বিগত ১০০ দিনে পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স, এস্টেট খাতে মোট রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৮,৭০,১৮,৭১০.৫৪ (আটচল্লিশ কোটি সত্তর লক্ষ আঠার হাজার সাতশত দশ টাকা চুয়ান্ন পয়সা) টাকা।

প্রেস ব্রিফিং এ হিসাব বিভাগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিগত ১০০ দিনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন/সেবামূলক প্রকল্প ও বিবিধ খাতে পরিশোধিত অর্থ সর্বমোট ১৭৭,৮৫,৩১,৫৬০.০০ (একশত সাতাত্তর কোটি পঁচাশি লক্ষ একত্রিশ হাজার পাঁচশত ষাট) টাকা। এর মধ্যে এডিপি (থোক ও সাধারণ তহবিল) খাতে ঠিকাদারদের বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৬,৫০,০০,০০০.০০ (ছিয়াশি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও ফুটপাত প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩৫,০০,০০,০০০.০০ (পঁয়ত্রিশ কোটি) টাকা। সিডিএমপি প্রকল্প বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪,৪৯,১৪,১২৯.০০ (চার কোটি ঊনপঞ্চাশ লক্ষ চৌদ্দ হাজার একশত ঊনত্রিশ) টাকা। প্রকল্প ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ১,৫০,০০,০০০.০০ (এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা। বেতন ভাতাদি ও বোনাস বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩৪,৩৮,২২,৫৮৮.০০ (চৌত্রিশ কোটি আটত্রিশ লক্ষ বাইশ হাজার পাঁচশত অষ্টআশি) টাকা। জ্বালানী খাতে ব্যয় হয়েছে ৫,১৭,৫৫,৩৪৮.০০ (পাঁচ কোটি সতের লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার তিনশত আটচল্লিশ) টাকা। বিটুমিন ক্রয় করা হয়েছে ২,৯৯,৭৬,৭৫০.০০ (দুই কোটি নিরানব্বই লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার সাতশত পঞ্চাশ) টাকার। টেলিফোন বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১,৭০,১১৮.০০ (এক লক্ষ সত্তর হাজার একশত আঠার) টাকা। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১,৩৮,৪২,০২৭.০০ (এক কোটি আটত্রিশ লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার সাতাশ) টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক প্রদান করা হয়েছে ৪,১১,১১,৭৭৫.০০ (চার কোটি এগার লক্ষ এগার হাজার সাতশত পঁচাত্তর)। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল হতে চূড়ান্ত পরিশোধ করা হয়েছে ২,২৯,৩৮,৮২৫.০০ (দুই কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ আটত্রিশ হাজার আটশত পঁচিশ) টাকা।

প্রেস ব্রিফিং এ জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আ জ ম নার্ছির উদ্দীন বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার এ সবুজ চট্টগ্রাম মহানগরীকে বিশ্ববাসীর সামনে একটি ‘খরাধনষব ঈরঃু’ বা বিশ্বমানের বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে আমি শপথ গ্রহণের পরপরই দায়িত্ব গ্রহণ না করেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাইরে থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। চট্টগ্রামবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছেন। দ্রুততার সাথে খাল-নালার মাটি অপসারণ কার্যক্রম সাধ্যমত করার চেষ্টা করেছি। নগরের মানুষ বিগত বর্ষায় এর কাংখিত ফল ভোগ করেছেন। বিশেষ করে বহদ্দারহাট এলাকায় বর্ষার সময় পূর্বে যে সব রাস্তা পানিতে ডুবে থাকতো এবারের চিত্র ছিল তার পুরোপুরি উল্টো। উক্ত রাস্তাগুলো এবার পানিতে ডুবেনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা খালের মাটি উত্তোলনের পাশাপাশি নালা খালের অবৈধ স্থাপনা দূরীভূত করা হচ্ছে। বর্তমান বর্ষা মওসুমে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতেও পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় জলমগ্নতা/জলজট বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে টেন্ডারের মাধ্যমে নগরীর সকল বড় নালা ও খালের মাটি উত্তোলন ও পরিষ্কার করার জন্য জরিপ কাজ চলছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে খাল-নালা’র মাটি অপসারণে, পরিচ্ছন্ন ও উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য ট্রাক, পে-লোডার, কন্টেইনার মুভার, ট্রলি, স্কেভেটর, ট্রাক্টর ওয়াগন, কম্পেক্টর, কার, রোড রোলার, ভাইব্রোমেক্স স্কাই লিফট ইত্যাদি যন্ত্রচালিত প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইকুইপমেন্ট নেই। উক্ত যন্ত্রচালিত ইকুইপমেন্টসমূহ চাহিদামতে সংগ্রহের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতিপূর্বে বর্ষা মৌসূম ছাড়াও শুষ্ক মৌসূমেও আগ্রাবাদ সিডিএ, একসেস রোড এর কিছু অংশসহ আশপাশের এলাকা প্রায়শঃই জোয়ারের পানিতে ডুবে যেত। এতে দীর্ঘদিন উক্ত এলাকার জনগণের বনর্ণাতীত দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। আমার উদ্যোগে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উক্ত সমস্যা সমাধানে বন্দর রিপাবলিক ক্লাব সংলগ্ন নীমতলা এলাকায় জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে স্থায়ী পাম্প হাউজসহ স্লুইচ গেইট নির্মাণের নিমিত্তে পরীক্ষামূলক অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। উক্ত বাঁধ নির্মাণের ফলে আগ্রাবাদ সিডিএ, একসেস রোডসহ আশপাশের এলাকায় এখন জোয়ারের পানি ঢুকছে না। এতে উক্ত এলাকায় জনগণের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ দুরীভূত হয়েছে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

প্রেস ব্রিফিং এ প্রকৌশল, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, মেয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রথম ১০০ দিনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা দ্বারা (সাধারণ তহবিল, এডিবি, জাইকাসহ) সর্বমোট ৭১২টি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। তন্মধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে ৬৮৭ টি প্রকল্পের। যার প্রকল্প ব্যয় ৩৬০ কোটি টাকা। জাইকা ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে জাইকার সিজিপি প্রকল্পে প্রস্তাবিত মোট প্রকল্প ১৯টি; দরপত্র আহবান করা হয়েছে ১৬টি। তন্মধ্যে ১৩টি দরপত্রের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। এই ১৯টি প্রকল্পের মোট প্রকল্প ব্যয় ১৮৭,৮৩,৭১,৮৭৭.০০ টাকা। (একশত সাতাশি কোটি তিরাশি লক্ষ একাত্তর হাজার আটশত সাতাত্তর টাকা)

এডিপি জিওবি অর্থায়নে সদ্য একনেকে অনুমোদিত এ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট বিষয়ক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প ৮৯টি। তন্মধ্যে ৬৭টি দরপত্র আহবান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২২টি প্রকল্পের প্রাক্কলন প্রক্রিয়াধীন। এই ৬৭টি প্রকল্পের সর্বমোট প্রাক্কলিত ব্যয়- ৬২,২৫,০০,০০০.০০ (বাষট্টি কোটি পঁচিশ লক্ষ) টাকা। সাধারণ তহবিল/থোক বরাদ্দের অধীনে গৃহীত প্রকল্প মোট ৬০৪টি। প্রকল্প ব্যয় ১১০,৬৪,০০,০০০.০০ (একশত দশ কোটি চৌষট্টি লক্ষ) টাকা। এই ৬০৪টি প্রকল্পেরই দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ১০০ দিনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের ৫টি ডিভিশনের মাধ্যমে সর্বমোট ১১১.৮৩৮ কি.মি. রাস্তা মেরামত করা হয়েছে।

যান্ত্রিক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, প্রকৌশল বিভাগ, যান্ত্রিক শাখার মাধ্যমে বিগত ১০০ দিনে মোট ১১২টি প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। যার প্রকল্প ব্যয় (সাধারণ তহবিল ও এডিবিসহ) ১০২৩.৪২ লক্ষ (দশ কোটি তেইশ লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার) টাকা। এছাড়া পূর্বে আহবানকৃত ৪৭টি প্রকল্পের দরপত্রের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। যার প্রকল্প ব্যয় ৩৫২.০৫ লক্ষ (তিন কোটি বায়ান্ন লক্ষ পাঁচ হাজার) টাকা। ৬৬.৩০ লক্ষ (ছেষট্টি লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা ব্যয়ে ১৫টি হাইড্রোলিক ওপেন টাইপ টেম্পু ক্রয় করা হয়েছে। ৭৩.২০ লক্ষ (তিয়াত্তর লক্ষ বিশ হাজার) টাকা ব্যয়ে ১৫টি হাইড্রোলিক কাভার্ড টাইপ টেম্পু ক্রয় করা হয়েছে। আমার উদ্যোগে মন্ত্রণালয় হতে ০৮টি ডাম্প ট্রাক সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিং এ বিদ্যুৎ শাখা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ৪১টি ওয়ার্ড এলাকায় ও কেন্দ্রীয়ভাবে ১২০০টি টিউব লাইট শেইড নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ৪১টি ওয়ার্ড এর মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডে এবং ১নং জোনের কেন্দ্রীয় সড়কে ৩০০টি এনার্জি বাতির শেইড নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ১নং জোনের অধীনে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১২(বার)টি সড়ক মোড়ে বৈদ্যুতিক পোল স্থাপন করতঃ মোট ৫৮টি ৪০০ওয়াট ম্যাটাল হ্যালাইড বাতি স্থাপনের মাধ্যমে আলোকায়ন কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। অন্যান্য জোনেও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ম্যাটাল হ্যালাইড বাতি স্থাপনের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এলাকাকে পরিপূর্ণভাবে শতভাগ আলোকায়নের আওতায় আনার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের বড় রাস্তা, ছোট রাস্তা, গলিতে স্থাপিত বৈদ্যুতিক পোল/খুঁটি, ব্রাকেট, বাল্ব ইত্যাদির মাঠ পর্যায়ে জরিপ কাজ চলছে। যাতে বিজ্ঞান সম্মতভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি রাস্তা পর্যাপ্ত আলোয় আলোকায়ন করা যায়। নগরীর বৈদ্যুতিক পোল গুলোতে ওয়াইফাই ও আইপি ক্যামেরা সংযোগের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। যাতে চট্টগ্রাম নগরীকে একটি স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নেয়া যায়। সে লক্ষ্যেও জরিপ কাজ চলছে।

কর্পোরেশনের রং ফ্যাক্টরি প্রসঙ্গে বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করে পূর্বের প্রতিষ্ঠিত অথচ বন্ধ রং ফ্যাক্টরি পুনরায় চালু করেছি। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব রং ফ্যাক্টরির উৎপাদিত রং দিয়ে ফুটপাত, মিড আইল্যান্ড, বৈদ্যুতিক পোলের নি¤œাংশ রং করণের কাজ চলছে।
পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনা শাখা-এর মাধ্যমে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড অফিস সংক্রান্ত সমীক্ষা পরিচালনা এবং এর প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড অফিসসমূহ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ-এর সাথে আলোচনা করে কালুরঘাটে গার্মেন্ট ভিলেজ-এর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। নগর ভবনের উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজের নকশা প্রণয়নের জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ, সাগরিকা স্টোরকে যুগোপযোগী আধুনিক স্থাপনা ও আধুনিক স্টোর করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আইটি বিষয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগের সকল কার্যক্রমকে আটোমেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সকল কর্মকর্তার টেবিলে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা হিসেবে ৫০টি কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহবান পূর্বক কার্যাদেশ প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুরো নগর ভবনে ফাইবার অপটিকের মাধ্যমে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (খঅঘ) স্থাপনের জন্য দরপত্র আহবান করে কার্যাদেশ প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জ্বালানী অপচয় রোধ এবং পরিচ্ছন্ন কাজের সঠিক তদারকির জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগের কাজে ব্যবহৃত ৪০টি গাড়িতে ঠবযরপষব ঞৎধপশরহম ঝুংঃবস চালুকরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জায়গায়/ফ্লোরে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বসবাসরত সকল নাগরিকের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার সহজ ও নিশ্চিত করার নিমিত্তে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সকল স্পটকে ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ক্রমশ হট স্পটে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে হট স্পটে রূপান্তরের জন্য নির্ধারণ করেছি। ইতোমধ্যে আদালত ভবনকে ওয়াইফাই জোনে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং খুব সহসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে ওয়াইফাই এর আওতায় আনা হবে। এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে নির্ধারিত ১৬ টি মোড়কেও ওয়াইফাই-এর আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এন্ট্রিকৃত ১,৪২,০০০টি (এক লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার) হোল্ডিংয়ের ডাটাবেজ হালনাগাদ করণ এবং প্রায় ১১,০০০ (এগার হাজার) হোল্ডিংয়ের নতুন ডাটা এন্ট্রির কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০১৫ খ্রি. হতে পুরোপুরিভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ঐঞগঝ) এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।ট্যাক্স এসেসমেন্টকে অটোমেশনের আওতায় আনার প্রাথমিক কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ফাইল ট্রেকিংসহ সম্ভাব্য সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনয়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।সরকারী/বেসরকারী সকল ধরনের সেবা নগরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছানের নিমিত্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এর আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল ওর্য়াড অফিসে স্থাপিত নগর ডিজিটাল সেন্টারকে যথাযথভাবে কার্যকর এবং যুগোপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ফলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত সকল নাগরিক দ্রুত সময়ে, স্বল্প খরচে ও হয়রানি ছাড়া সরকারী/বেসরকারী প্রায় সকল পর্যায়ের তথ্য প্রদান সেবাসহ নানাবিধ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

মেয়র ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও বিলবোর্ড প্রসঙ্গে বলেন, আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সিটি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের মার্কেট, সড়ক, ফুটপাত, নালা ও খালের পাড় থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৮০টি অবৈধ স্থাপনা, ০৭টি অবৈধ গরুর বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় মোট মামলা করা হয়েছে ১৪৯টি। পাইলিং-এর কাদামাটি খাল ও নালায় ফেলায় ৬টি প্রতিষ্ঠানকে করা জরিমানা সহ মোট জরিমানাকৃত টাকার পরিমাণ ৭,৪৫,০০০.০০ (সাত লক্ষ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা)।আপনারা জানেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যহানি করে ইতোপূর্বে যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। নগরী বিলবোর্ড-জঞ্জালে পরিণত হয়েছিল। আমি মেয়র হিসেবে যোগদানের পূর্বাপর অবৈধ বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি যা নগরবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন। চট্টগ্রাম নগরী আবারো তার হারানো সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে। বর্তমানেও বিলবোর্ড উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উক্ত বিষয়ে আমার অবস্থান জিরো টরারেন্সে আছে।

সিটি মেয়র সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড প্রসঙ্গে বলেন, সরকারী অনুদানের জন্য তালিকাভুক্তির প্রয়োজনে প্রতিবন্ধী, দলিত, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী ও পঞ্চাশোর্ধ বয়সী ব্যক্তির নাম যাছাইপূর্বক কর্পোরেশনভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে তালিকা সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাভুক্ত দুর্গোৎসবের জন্য পূজা মন্ডপসমূহে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে ৩৫,২৪,০০০/-(পঁয়ত্রিশ লক্ষ চব্বিশ হাজার) টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

তিনি কম্পিউটার ইনষ্টিটিউট পরিচালনা প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কম্পিউটার বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতাসম্পন্ন জনবল বাড়ানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কম্পিউটার ইনস্টিটিউটসহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে যুগোপেযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামী ৫ বছরে ১০,০০০ (দশ হাজার) শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ এবং সেভাবেই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মেয়র থিয়েটার ইনষ্টিটিউট প্রসঙ্গে বলেন, ‘থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম’ (টিআইসি)-কে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী উন্নত ও আধুনিক রূপে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর আরো উন্নয়ন ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় নিরীক্ষামূলক নাট্যচর্চার জন্যে ‘ব্ল্যাক বক্স থিয়েটার’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরীর সাংস্কৃতিক কর্মকা- আরো সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে বলে আমি মনে করি।

জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মূল দায়িত্ব নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নÑ যেমন, রাস্তা-ব্রিজ-কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা এবং নগর সড়ক আলোকায়ন হলেও ক্রমবর্ধমান নগরায়নে সময়ের দাবিতে উক্ত তিনটি প্রধান কার্যক্রমের বাইরেও আরো অনেক নাগরিক সেবা-কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। ফলে বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানের কর্ম-পরিধি অনেক ব্যাপক ও বৃহদাকার হয়ে পড়েছে।
কিন্তু এই ব্যাপক ও বৃহদাকার কর্মকা- বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনবল সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। সময়ের দাবিতে জনসেবা নিশ্চিত করণার্থে সবুজ পরিচ্ছন্ন এবং সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম নগরী গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছি। চট্টগ্রাম নগরবাসী আমাকে মেয়র হিসাবে নির্বাচিত করে নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের যে গুরুদায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করেছেন, আমি সে পবিত্র দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার সাথে পালন করে সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত সচেষ্ট আছি। চট্টগ্রামকে মেগাসিটিতে রূপান্তরের যে স্বপ্ন আমি দেখেছি তা বাস্তবায়নে নগরীর প্রয়োজনীয় টেকসই উন্নয়ন সাধন পূর্বক চট্টগ্রামকে মেগাসিটিতে রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় আমি কাজ করছি। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার এ সবুজ চট্টগ্রাম মহানগরীকে বিশ্ববাসীর সামনে একটি ‘খরাধনষব ঈরঃু’ বা বিশ্বমানের বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে আমি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। আমি জানি, আমি যে স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি তা আসলে চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নই। তাই, আমার-আপনার সকলের মিলিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি দলমত নির্বিশেষে নাগরিক সমাজ, নগর বিশেষজ্ঞ, সকল পেশাজীবি, সাংবাদিক বন্ধুগণসহ চটগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত সকল কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।






মন্তব্য চালু নেই