মেইন ম্যেনু

উন্মুক্ত করেও বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে কুয়েতের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কুয়েত সরকার। আগস্টে শর্তসাপেক্ষে শ্রমিক নেয়ার কথা বলেছিল কুয়েত। দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ উন্মুক্ত করার ১ মাস পর নতুন করে এই আদেশ জারি করে কয়েত সরকার।

সোমবার জারি করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, নিয়োগকর্তার অবশ্যই নিজের বাড়ি থাকবে। কুয়েতের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি শেখ মাজেন আল জারাহ জানান, কুয়েতের দৈনিক আল আনবারের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গত সপ্তাহে প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কুয়েতে এসেছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কুয়েত গমনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বিধি-নিষেধ যোগ করার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কুয়েতে এর আগে ছয় বছর ধরে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি প্রায় বন্ধ ছিল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল-মুবারক আল-হামাদ আল-সাবাহর ঢাকা সফরের পর পুরোদমে কুয়েতের শ্রমবাজার চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। কেবল সাধারণ শ্রমিক নয়, চিকিৎসক-প্রকৌশলীসহ অনেক দক্ষ পেশাজীবীরও কর্মসংস্থানের আশা করছে দেশটি।

তিন দিনের সফরে ৩ মে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় আসেন।

২০০৭ সালের শেষে দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আবারও কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর এই বাজারে কর্মী যাওয়া অনেক বেশি বাড়বে।’

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৫ লাখ ৫ হাজার ৪৭ জন বাংলাদেশি গেছেন দেশটিতে। এর মধ্যে ১৯৭৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতিবছর ১০ হাজার লোক কুয়েতে গেছেন। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে কুয়েতের পক্ষে অবস্থানের কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের সুনাম বেড়ে যায়। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত গড়ে ২৫ হাজার লোক দেশটিতে গেছেন। ২০০১ সালের পর তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার লোক কুয়েতে যেতে থাকেন। ২০০৭ সালের শেষে বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০৮ সালে মাত্র ৩১৯ জন, ২০১০ সালে ৪৮ জন, ২০১১ সালে ২৯ জন, ২০১২ সালে মাত্র ২ জন ও ২০১৩ সালে ৬ জন কর্মী যান দেশটিতে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুয়েত সফর করে দেশটির আমিরকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপরও বাজার চালু করেনি দেশটি। তবে ২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে আবারও কর্মী যাওয়া শুরু করেন। গত বছর ১৭ হাজার ৪৭২ জন কর্মী গেছেন দেশটিতে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ২০০৫ সালেও ৪৭ হাজার কর্মী গেছেন দেশটিতে। বাজার পুরোপুরি চালু হলে বছরে ৫০ হাজারেরও বেশি কর্মীর কর্মসংস্থান হতে পারে সেখানে।






মন্তব্য চালু নেই