মেইন ম্যেনু

উপহার যখন দুই জোড়া পা

সামনেই আসছে বড়দিন, তাই বাবা হন্তদন্ত হয়ে সন্তানদের জন্য খুঁজে নিয়ে এসেছেন তাদের জীবনের সেরা উপহার। মানবসভ্যতার প্রতিটি বাবাই হয়তো চান তার সন্তানের জন্য সর্বোচ্চটুকু করতে। কিন্তু সমাজ-সভ্যতা আর পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে হয়তো সবসময় তা হয় না। তাইতো উৎসব কিংবা কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাবারা তাদের সন্তানের প্রতি স্নেহ দেখাতে নিয়ে আসেন স্বাভাবিকের বাইরে কোনো উপহার। কিন্তু এমন যদি হয়, বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে বাবাকে তার সন্তানের জন্য আনতে হচ্ছে বেদনাদায়ক এক বিশেষ উপহার। যে উপহার ওই সন্তানের জীবনে আপাত স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনলেও বাবার চোখে সেই উপহার তীব্র কষ্টবোধ হয়ে বারবার দেখা দেয়।

ছোটবেলা থেকেই দুই ভাই ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন। একজন হলো ১১ বছর বয়সী কিয়াম আর একজন সাত বছর বয়সী কাল্লুম। কিন্তু ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও দুই ভাইয়ের কখনোই ফুটবল খেলা হয়ে উঠতো না। কারণ ছোটবেলা থেকেই দুজনই অ্যাডামস অলিভার সিনড্রোম নামে একটি জটিল রোগে আক্রান্ত। আর এই রোগটি তারা বংশগতভাবে তাদের বাবার কাছ থেকে পেয়েছিল। এমনকি তার বাবাও ছোটবেলা থেকে একই রোগে আক্রান্ত। আর পৃথিবীতে এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির সংখ্যা হাতে গোনা মাত্র ১২৫ জন। এই রোগটি সাধারণত সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই তার হাত এবং পায়ে এই লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির হাত এবং পা থাকলেও থাকে না হাত এবং পায়ের কিছু আঙ্গুল। ৩৫ বছরের জন এবং তার দুই পুত্র ইংল্যান্ডের প্রথম যারা এই রোগে আক্রান্ত।

নিজের সন্তানরা যাতে স্বভাবিকভাবে চলাফেরা এবং খেলতে পারে সেজন্য সন্তানদের জন্য তিনি ব্যাবস্থা করেন দুই জোড়া সিলিকন প্রসথেটিক পা। বাবার এনে দেয়া এই উপহার পেয়ে যেমন সন্তানেরা খুশি, তেমনি সন্তানদের খুশি দেখে জনও বেজায় আনন্দিত। তবে দুইভাইয়ের জন্য দুই জোড়া পা কিনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বাবাকে। কারণ দুই জোড়া প্রসথেটিক পায়ের বাজার দাম বেশ চড়া। আর এর জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার অফিসিয়াল পেজে একটি ফান্ড খোলা হলে বেশ আর্থিক অনুদান পাওয়া যায়। আর সেখানে অনেক বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনেরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এই প্রসঙ্গে জন বলেন, ‘আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ এর চেয়ে ভাল বড়দিনের উপহার আমার সন্তানদের জন্য আর কিছুই হতে পারে না। এই নতুন পায়ের পাতা জোড়া দিয়ে তারা তাদের জীবন পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।’

আসছে বছরে কিয়ান সেকেন্ডারি স্কুলে উঠবে আর কেউ তাকে তার শারিরীক অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করবে না। স্কুলে সবাই তাকে তার পা সম্পর্কে জানতে চাইতো। কারণ অনেকেরই এই রোগ সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই। প্রসথেটিক পায়ের পাতা তাদের সেই প্রশ্ন থেকে মুক্তি দিবে। কারণ তা দেখতে একদম আসল পায়ের পাতার মতোই। একসপ্তাহের মধ্যেই সব দুঃখ ও বেদনার অবসান হলো দুইভাইয়ের নতুন পায়ের পাতা লাগানোর মধ্যে দিয়ে। ব্ল্যাচফোর্ড ক্লিনিকে ‘তাদের এই নতুন পায়ের পাতা জোড়া লাগানো হয়। এই প্রসঙ্গে ব্ল্যাচফোর্ড ক্লিনিকের প্রিন্সিপাল প্রসথেটিক মার্ক লেজার বলেন, আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে অ্যাডামস অলিভার রোগের ওপর পড়াশোনা করছি কিন্তু এখন পর্যন্ত তোমরা ছাড়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি’।

তার ভাষ্য মতে, এই রোগে আক্রান্তদের প্রায়শই মৃত্যু অনিবার্য থাকে। যেহেতু তাদের পায়ে আঙ্গুলের সংখ্যা কম তাই দৌড় দেয়ার ক্ষেত্রে বা হাঁটার সময় দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে। আর এই প্রসথেটিক পায়ের পাতা জোড়া তাদের সেই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে সক্ষম হবে। তবে আশার কথা এই যে, দুইভাই এখন নিয়মিত ফুটবল চর্চা করতে পারে। গত দুইবছর এই অবস্থার জন্য তাদের অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে। জন বলেন, ‘আমার দুই সন্তান এবং আমি নিজে সত্যিই কৃতজ্ঞ এই নতুন পায়ের পাতা পেয়ে। এটি সত্যিই আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই