মেইন ম্যেনু

উৎসবমুখর পরিবেশে জীবন্ত হাতিদের পুজা!

বিশ্বকর্মা পুজায় হাতিদের মহাসুখ। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পাশাপাশি, তার বাহনের পুজাও চলছে সর্বত্র। পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির মালবাজারে তো জীবন্ত হাতিরাই পুজা পেল। ওই এলাকার গরুমারার ধূপঝোরায়, পিলখানায় চলছে হাতিপুজা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, বিশ্বকর্মা পুজায় হাতিদের পুজা করা, একশো বছরেরও পুরনো এই প্রথা। সকাল বেলায় কুনকি হাতিদের স্নান করিয়ে, চন্দন পরিয়ে, খড়িমাটি দিয়ে অঙ্গসজ্জা করে দেবজ্ঞানে পুজা করা হয়।

মাহুতদের সঙ্গে বনকর্মী থেকে কর্মকর্তারা সকলেই পুজায় মেতে ওঠেন। হাতিরা অবশ্য পুজার বিশেষ কিছু বুঝছেন না। নৈবেদ্যর নারকেল, ছোলা, গুড়, কলা, ফল, ডাল, পেয়েই তারা খুব খুশি।

জানা যায়, নিয়ম মেনেই হয় বিশ্বকর্মা পুজা, তবে একটু অন্যরকম। এখনে দেবতা বিশ্বকর্মার পাশাপাশি পূজিত হন তার বাহন গজরাজ। তবে তা মাটির তৈরি প্রতিমা নয়। জীবন্ত আসল হাতি।

জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যান। এখানে তিনটি পিলখানা রয়েছে। গরুমারা, ধুপঝোড়া এবং মেদলা। এই তিনটি পিলখানায় মোট ১৯টি কুনকি হাতি রয়েছে। রা বনদফতরের পোষা হাতি। বনদফতর তাদের দিয়ে পর্যটকদের ঘোরানো থেকে শুরু করে, জঙ্গল পাহারা দেওয়ার মত সব কাজই করায়। তবে তা বিনে পয়সায় নয়। এরা রীতিমত সরকারি কর্মচারী। এমনকি অবসর নেওয়ার পর পেনশনও পান।

বিশ্বকর্মা পুজার দিন এখানে উপরি পাওনা মহাসমারোহে হাতি পুজা। বিশ্বকর্মার বাহন হিসেবে মাহুতরা প্রতি বছর নিয়ম মেনে হাতিদের পুজা করে থাকেন। তাতে সামিল হন বনদফতরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও।

সকালে হাতিগুলিকে গরুমারা জঙ্গল সংলগ্ন মূর্তি নদী থেকে স্নান করিয়ে নিয়ে আসা হয়।। এরপর চলে পিলখানার “বিউটিপার্লার”-এ তাদের সাজগোজের পালা।

তারপর পুজা মন্ডপের সামনে নিয়ে আসা হয় তাদের। নিয়ম মেনে শুরু হয় পুজো। মাটির তৈরি বিশ্বকর্মার প্রতিমার পাশে দাঁড়িয়ে পুজা নেয় দেবতার জীবন্ত “বাহন”।

পুজা শেষে চলে ভুরি-ভোজের পালা। ভোজের ব্যবস্থা ছিল হাতি ও মানুষ – দুজনের জন্যই। তবে অবশ্যই মেনু আলাদা। হাতিদের জন্য থাকে চাল, কলাসহ অন্যান ফল। আর ভক্তদের জন্য খিচুরি, পাঁপড়, ফুলকপির ডালনা আর চাটনি।

সব শেষে সন্ধ্যা হলে হাতিরা সারাদিনের আনন্দের অনুভুতি নিয়ে পিলখানায় ফিরে যান। পর্যটকেরাও ফিরে যান এক অদ্ভুত উৎসবমুখর পরিবেশের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে।






মন্তব্য চালু নেই