মেইন ম্যেনু

এইচএসসি ফল: কারো মুখে আনন্দের ঝিলিক- কারো চোখে বেদনার জল

এইচএসসির ফলাফল ঘোষণার পর পরই রোবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা গেলো হাসি-কান্নার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ মেতে উঠেছিলেন ভালো ফলের আনন্দে, আবার প্রত্যাশিত সাফল্য না পেয়ে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন অনেকে।
রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষাবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম নগরীর কলেজগুলোতে ফলাফল পাঠানো হয়। কলেজের নোটিশ বোর্ডে দুপুর দুইটার দিকে সাঁটানো হয় ফলাফল।
তবে নোটিশ বোর্ডের আগেই ইন্টারনেট আর ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে ফলাফল পেয়ে যান অনেক শিক্ষার্থী। সাথে সাথে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন তারা। জড়িয়ে ধরেন বাবা-মা কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের। কেউ কেউ কলেজেই মিষ্টি এনে খাওয়াতে থাকেন সবাইকে। আনন্দ যেন শেষই হতে চায় না এইচএসসি ডিঙ্গানো এইসব শিক্ষার্থীর। রঙিন মুখগুলোকে ফ্রেম বন্দি করে তুলতে শুরু হয় সেলফি তোলা। দলবেঁধে নিজেদের মধ্যে আবার কখনো বা শিক্ষক, অধ্যক্ষের সাথে ছবি তোলার তোড়-জোড় চলতে থাকে কলেজগুলোতে।

রেজাল্টের খুশিতে চকবাজার মোড়ে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড আর ছাত্রদের আনন্দ ধ্বনি- সব মিলিয়ে নগরীর রাজপথই হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজে নোটিশ বোর্ডে যখন ছাত্রদের ভিড় জমে গিয়েছিলো, তখন অনেকেই মোবাইলে ইন্টারনেট বা ক্ষদেবার্তায় ফলাফল দেখছিলেন। এদের মাঝে হঠাৎ সানজিদা আলম নামে এক শিক্ষার্থী তার মুঠোফোনে আসা ফলাফল দেখেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। জিপিএ-৫ পেয়েছেন নিশ্চিত হতে আশেপাশের আরো কয়েকজনকে দেখালেন বার্তাটি।

চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী জয়িতা চক্রবর্তী, অনামিকা দত্ত, ঐশ্বরিয়া চৌধুরী, মেহেরুন্নেসা সুলতানাকে দেখা গেলো খুশিতে গলা জড়জড়ি কওে ক্যা¤পাস ঘুরতে। কেমন লাগছে, জিজ্ঞেস করতেই একসাথে উত্তর, অন্নেক ভালো, অন্নেক খুশি।

তবে এমন আনন্দঘণ পরিবেশের কিছু বিপরীত চিত্রও চোখে পড়েছে কলেজগুলোতে। জিপিএ-৫ এর হিসাবে বরাবরের মতো এবারও এগিয়ে আছে চট্টগ্রাম কলেজ। তবে গতবারের চেয়ে পাসের হার কমেছে এ কলেজে। গতবার পাসের হার ছিলো ৮৭.২১ শাতাংশ আর এবার ৮৬.৩১ শতাংশ। আর মানবিক বিভাগের পীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। ২৮৫জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৫ জন শিক্ষার্থীই অনুত্তীর্ণ। নগরীর সবচেয়ে নামকরা কলেজ এই চট্টগ্রাম কলেজ।
সবচেয়ে মেধাবীরা এই কলেজে ভর্তি হলেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার এমন ফলাফল বিপর্যয়ে মুষড়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে। ফলাফল ঘোষণার পর অনেককেই গোমড়া মুখে কলেজ ত্যাগ করতে দেখা যায়। এসময় অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। তাদের সাথে কথা বলতে চাইলেও কেউ সাড়া দেননি।

কলেজ অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তারের কাছে এই কলেজের মানবিক বিভাগে এমন ফলাফল বিপর্যয় স¤পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার বলেন, পাসের হার কম এসছে তো কি হয়েছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা গতবারের চেয়ে বেশি এসেছে। গতবার জিপিএ পেয়েছে ৪৬৬ জন এবার ৪৯৮জন। পাসের হার তো বিষয় না। শিক্ষার্থী ভালো পড়েনি তাই পাস করেনি। পাশ করলেও প্রত্যাশিত গ্রেড পয়েন্ট না পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান এই কলেজের এক ছাত্রী। পরিবারের সদস্যরা কলেজ ক্যা¤পাসেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে যান। এমন অবস্থার মাঝেও চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উল্লাসই বেশি চোখে পড়েছে।






মন্তব্য চালু নেই