মেইন ম্যেনু

এই জাহজডুবির গল্প আপনার হাড় হিম করে দেবে

টাইটানিক-বিপর্যয়ের প্রায় ১০০ বছর আগে একটি জাহাজ রহস্যজনকভাবে ডুবে গিয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে। ‘এসেক্স’ নামের এই জাহাজটি এই মহূর্তে অনেকের কাছেই চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে হলিউডের কল্যাণে। রন হাওয়ার্ড পরিচালিত ‘ইন দ্য হার্ট অফ দ্য সি’ ছবিটির বিষয়ই হল ‘এসেক্স’-এর সলিল-সমাধি। কেন ডুবেছিল ‘এসেক্স’, তা নিয়ে বিরাট জলঘোলা হয় ১৮২০-র দশকে। তার পরে সেই কাহিনি একদিন লোকমুখে ঘুরতে ঘুরতে হারিয়ে যায়। তার একটা বড় অংশ নাকি লিখে রেখেছিলেন মার্কিন ঔপন্যাসিক হারম্যান মেলভিল তাঁর ‘মবি ডিক’ উপন্যাসে।

কেন ডুবেছিল ‘এসেক্স’? জেনে নেওয়া যাক ঘটনাক্রম।

• ‘এসেক্স’ ছিল তিমি-শিকারের জাহাজ। তিমি-শিকারিদের জগতে ‘লাকি’ বলে সুনামও ছিল জাহাজটির।

• শেষ যাত্রায় তার ক্যাপটেন ছিলেন জর্জ পোলার্ড। তিনি আবার এক নামজাদা নাবিক বংশের সন্তান। আর ফার্স্ট মেট ছিলেন আওয়েন চেজ। তঁার উমেজ ছিল প্রায় সুপারম্যানের সমতুল।

• পুরো ঘটনার সাক্ষী ছিল এক ১৪ বছরের কেবিন বয়, টমাস নিকারসন।

• ম্যাসাচুসেটস-এর নানটাকেট বন্দর থেকে ১৮১৯ সালের ১২ অগস্ট ‘এসেক্স’ তার শেষ যাত্রাটি শুরু করে। দক্ষিণ আমেরিকার তিমি-অধ্যুষিত সমুদ্রে গিয়ে তিমি শিকার ও তিমির তেল সংগ্রহ ছিল তার উদ্দেশ্য। বন্দর ছেড়েই সে এক ছড়ের সম্মুখীন হয়।

• ১৮২০-র জানুয়ারিতে ‘এসেক্স’ কেপ হর্ণ-এ পৌঁছয়। হঠাৎ জাহাজিদের মধ্যে অশুভ চিহ্ন দেখার গুজব রটে।

• শেষ পর্যন্ত ‘এসেক্স’ তার উদ্দিষ্ট অঞ্চলে পৌঁছয়। শুরু হয় তিমি শিকার।

• এমতাবস্থায় এক সুবিশাল তিমি আক্রমণ করে ‘এসেক্স’-কে। তার দৈর্ঘ্য নাকি ৮৫ ফিট। সে নাকি নিথর হয়েই জলে ভাসছিল । হঠাৎই খেন সে জাহাজের দিকে ধেয়ে আসে এবং আক্রমণ করে, তা ব্যাখ্যা করতে পারেননি পোড় খাওয়া তামি শিকারীরাও।

• সেই বিশাল প্রাণীটির ধাক্কায় টুকরো টুকরো হয়ে য়ায় ‘এসেক্স’। জাহাজের ২০জন নাবিক ‘হোয়েলিং বোট’-এ ভাসতে শুরু করেন।

• ফার্স্ট মেট চেজ-এর নৌকায় ছিলেন নিকারসন -সহ আরও কয়েকজন। তাঁরা চরম খাদ্যাভাব, প্রবল সমুদ্র-বিপদ এবং অসংখ্য তিমির হামলাকে এড়িয়ে কোনও মতে ‘ইন্ডিয়ান’ নামের এক জাহাজের নজর কাড়তে সমর্থ হন। অনেকই মারা যান মাঝসমুদ্রে।

• ক্যাপ্টেন পোলার্ড ছিলেন অন্য নৌকায়। তিনিও বেঁচে ফেরেন। তবে আর কখনও তিমি-শিকরে জাহাজে ক্যাপ্টেনের কাজ করেননি।

• ‘এসেক্স’-এর নাবিকদের অনেকেই পরে অন্য অভিযানে সামিল হন। সে সব অন্য কাহিনি।

‘মবি ডিক’-এর সেই দানব তিমির রং ছিল সাদা। সেইটুকুই নাকি মেলভিলের কল্পনা। বাকি সবটাই নির্যস সত্য। নির্মম সত্য।






মন্তব্য চালু নেই