মেইন ম্যেনু

এই রূপসীর আড়ালে অন্ধকারের আলোড়ন

সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। এই তত্ত্বে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করত জশদীপ সিং ওরফে জগ্গু। কারণ সুন্দরী গার্লফ্রেন্ডকে সামনে রেখে কত বার যে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হেরোইন পাচার করেছে তার ইয়ত্তা নেই। সুখমনদীপ একে তো দেখতে সুন্দরী, তায় আবার ঠোঁটের গোড়ায় সর্বদা চোস্ত ইংরেজি। সেই ধাঁধায় পড়েই পুলিশের চোখ বাঁচিয়ে ধীরে ধীরে দিল্লি-হরিয়ানা-পাঞ্জাবে নিজের সম্রাজ্য বিস্তার করছিল জগ্গু। ঘটনা পুরো বলিউডি সিনেমার স্ক্রিপ্ট তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

চলছিল বেশ ভালোই। তবে লোভের তো শেষ আছে। সেই লোভের চক্করে পড়েই অবশেষে জগ্গু বামাল সমেত ধরা পড়ে পুলিশের জালে। সেখানে সামিল ছিল তার বান্ধবী সুখমনও। জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, সুখমনদীপ শুধুমাত্র পুলিশের নজর অন্য দিকে ঘোরাতেই ওস্তাদ ছিল না, সে রীতিমতো পাচারের ছক কষা, তাতে অংশ নেওয়া এমনকী কাউকে পৃথিবী থেকে সরাতে হলেও তার বুদ্ধিই কাজে আসত জগ্গুর। তবে জগ্গু এক নারীতে সন্তুষ্ট ছিল না। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, তার অন্তত তিন জন বান্ধবী ছিল, যাদের বাড়িতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আশ্রয় নিত।

তবে হঠাত্‍ সুখমন এমন চক্রে জড়িয়ে পড়ল কী ভাবে? সে জানিয়েছে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল গুরদাসপুরে। কিন্তু সেটা ভেঙে যায়। পাত্রের জামাইবাবু সুখবিন্দর সিং এই সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছিলেন। তার উপর প্রতিশোধ নিতে ধীরে ধীরে দুষ্টচক্রে জড়িয়ে পড়ে সুখমন। দেখা হয় জগ্গুর সঙ্গে। তার পরের ঘটনা তো ইতিহাস। অন্য দিকে, একদা হেরোইন পাচারচক্রের পাণ্ডা ছিল সঞ্জীব নায়ার। জগ্গু তাকে খুন করে এই জগতের মুকুটহীন সম্রাট হয়ে বসে। এর পর সঞ্জীবের দুই সঙ্গী রানা কন্দোবলী এবংগুরদীপ পালোয়ান-কেও সরিয়ে দেওয়ার মতলব আঁটে সে। এই কাজেও সে সুখমন-কে ব্যবহার করার কথা ভাবে। সুখমনের সঙ্গে চুক্তি হয়, সে রানা-কে রূপে মুগ্ধ করে জগ্গুর হাতে তুলে দেবে, বদলে সেই বিয়ে ভাঙার জন্য দায়ী জামাইবাবুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তবে সুখমন এতদিনে বুঝে গিয়েছিল, জগ্গু কাউকে বিশ্বাস করে না। নিজের স্বার্থে ও সকলে ধোকা দিতে পারে। সেই ভেবে রানাকেও সব কথা জানায়।

তবে সব কিছুরই একটা শেষ আছে। পুলিশের জালে ধরা পড়ে জগ্গু এবং তার বান্ধবী সুখমনদীপ এ সব স্বীকার করেছে। এখন আদালতে খুনু, মাদক পাচার, তথ্য প্রমাণ লোপাট করা ইত্যাদি অনেকগুলি মামলাও চলছে তাদের নামে। -সূত্র : এই সময়






মন্তব্য চালু নেই