মেইন ম্যেনু

একই নম্বরে অপারেটর বদলের সেবায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি

বর্তমান ১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখেই অপারেটর বদলের সুবিধা চালুর নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুমোদনের কপি রোববার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

এ সুবিধা চালু হলে নম্বর ঠিক রেখে বর্তমান অপারেটরের সেবা পছন্দ না হলে বেছে নেওয়া যাবে অন্য অপারেটর।

প্রযুক্তির ভাষায় এ সেবার নাম মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি। দীর্ঘদিন থেকে আলোচনা হলেও এতদিন তা দেশে চালু হয়নি।

টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, মোবাইল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে সাফল্য পেলেও নম্বর না পাল্টে অপারেটর বদলের এ সুবিধায় পিছিয়ে রয়েছে। অন্তত সাত বছর ধরে আলোচনা হলেও বড় অপারেটরগুলোর অনাগ্রহের কারণে তা বাস্তব রূপ পায়নি।

এখন নীতিমালায় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেওয়ায় আগামী কিছুদিনের এটি চালুর প্র্রক্রিয়া শুরু হবে। এ জন্য প্লাটফর্ম তৈরি করতে কয়েক মাসের মধ্যে নিলাম ডাকা হবে বলে টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।

বর্তমান কোনো মোবাইল ফোন অপারেটর বা তাদের শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি এ নিলামে অংশ নিতে পারবে না।

নিলামে বিজয়ি কোম্পানিটি ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরকে এক প্লাটফর্মে এনে চালু করবে এমএনপি। এক্ষেত্রে প্রতিবার অপারেটর বদলের জন্য গ্রাহককে খরচ করতে হবে ৫০ টাকা।

অনুমোদিত নীতিমালায়, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী কোম্পানিকে এক কোটি টাকা জামানত দিতে হবে। বার্ষিক লাইসেন্স ফি হবে ৫০ লাখ টাকা।

আর বিজয়ী অপারেটরকে দ্বিতীয় বছর থেকে সরকারের সঙ্গে মোট আয়ের সাড়ে পাঁচ শতাংশ রেভিনিউ শেয়ারিং করতে হবে।

শতভাগ বিদেশি মালিকানার কোম্পানিও নিলাম অংশ নেওয়ার অযোগ্য হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, এমএনপি চালু হলে তা মোবাইল ফোন সেবার গুণগত মানকে অনেক বাড়িয়ে দেবে। এতে গ্রাহক ভোগান্তি অনেক কমবে।

বর্তমানে কোনো গ্রাহক তার অপারেটরের সেবায় অসন্তুষ্ট হলেও বহুদিনের ব্যবহার করা নম্বরটি ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে পারেন না। কেননা অপারেটর বদলালে তার পুরনো নম্বরটি বদলে যায়। নতুন এ সেবায় এ ঝক্কি দূর হবে। তখন বাধ্য হয়ে একই অপারেটরে থাকতে হবে না।

এ সুবিধা চালু হলে উদাহরণ হিসাবে গ্রামীণফোনের কোনো গ্রাহক তার ০১৭********সহ পুরো ১১ ডিজিট নিয়ে টেলিটক বা বা অন্য কোনো অপারেটরে চলে যেতে পারবেন। তেমনি একইভাবে টেলিটকের ০১৫********সহ কোনো গ্রাহক গ্রামীণফোন বা অন্য অপারেটরের সেবা নিতে পারবেন।

এর ফলে অপারেটরদের সেবা এবং নেটওয়ার্কের গুণগত মানের উন্নয়ন হবে বলে আশা সবার। কারণ, গুণগত সেবা না পলে গ্রাহক অপারেটর বদলেফেলবেন।

বিশ্বের ৭১টি দেশে ইতিমধ্যে এ সুবিধা বিরাজমান। পাশের দেশ ভারতে ২০১১ সালে চালু করা হয়েছে এ সেবা। পাকিস্তানে আছে ২০০৭ সাল থেকে। কিন্তু অপারেটরদের অনাগ্রহের কারণে বাংলাদেশের গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

চালু হওয়ার দুই বছরের মধ্যে ভারতের সাড়ে আট কোটি এবং পাকিস্তানের দেড় কোটি গ্রাহক এ সুবিধা নিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই